হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকনমিক্স পড়ানোর পদ্ধতি বদলে দিচ্ছে রাজ শেঠী

74

জন্ম ১৯৭৯-এ। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকনমিক্স পড়ানোর দীর্ঘ কালের পদ্ধতিটা বদলে দিচ্ছে। হার্ভার্ড-এর সবচেয়ে জনপ্রিয় কোর্স হলো ইকনমিক্স ১০। শত-শত ছাত্র — তাই ক্লাস হয় বিরাট অডিটরিয়ামে। এই কোর্সের টেক্সট্‌ বইয়ের লেখক গ্রেগরি ম্যানকিউ রয়্যালটি বাবদ ইতোমধ্যে ৪২ মিলিয়ন ডলার পেয়েছেন শোনা যায়। কারণ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও হার্ভার্ডকে অনুসরণ করতে ভালবাসে।

স্যামুয়েলসন, লিপসি প্রমুখের মতো সাপ্লাই-ডিমান্ড, ইলাস্টিসিটি, অপটিমাইজেশান ইত্যাদি তাত্ত্বিক কথাবার্তাই আছে। এভাবেই তো চলছে অন্ততঃ গত ৬০-৮০ বছর। বেশীর ভাগ ছাত্র খুব মজা পায় না। বোঝেও না পুরোপুরি। অথচ এটা যাকে বলে অর্থনীতির ফাউন্ডেশান কোর্স।

রাজ শেঠী ফাউন্ডেশানটা সম্পূর্ণ নতুন করে ঢালাই করতে চাইছে। সে যে কোর্সটি ডিজাইন করেছে সেটি ইকনমিক্স ১১৫২, নাম ‘‘Using Big Data to Solve Economic and Social Problems.” । প্রথম সেমিস্টারেই ছাত্র সংখ্যা ৩৭৫। ভাবা যায়? বালক কামেল বটে। ইকনমিক্স ১০-এ ছাত্র সংখ্যা ৪৬১ – তবে মনে হয় না ধরে ফেলতে সময় লাগবে।

ইকনমিক্স ১১৫২ এর জন্য কোনো টেকস্ট বই কিনতে হবে না। রাজ ১২টি জার্ণাল পেপার বাছাই করে দিয়েছে। ওগুলোই যথেষ্ট। কোর্সের ফোকাসটা হলো ব্যবহারিক। এটা ছাত্ররা পছন্দ করছে। প্রথম দিন থেকেই পরিচয় হচ্ছে বাস্তবের সঙ্গে। ১০ বছর হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি। কোর্স গাইডে বইয়ের নাম দিতেই হয়। কিন্তু Managerial Economics বা Business Research Methods কোর্সে ১১টা ক্লাসে ১১টা আর্টিকেল তথা ১১টা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করা যতটা ফলপ্রসূ বইয়ের সূচীপত্র ধরে চ্যাপ্টার বাই চ্যাপ্টার পড়ানো ততটা নয়। রাজ শেঠীর টেকনিক কেন কার্যকর হচ্ছে বুঝতে পারছি।