সোনাঝরা সোনালুর শোভা

442

স্বর্ণালি রঙের সৌন্দর্য শোভায় প্রকৃতিকে আরো নয়নাভিরাম রূপে সাজাতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করে না সোনালু। সোনালি রঙের ফুলের বাহার থেকেই ‘সোনালু’ নামকরণ। উদ্ভিদতাত্ত্বিক নাম Cassia Fistula, পরিবার Caesalpinaceae। আদি নিবাস হিমালয় অঞ্চল ধরা হলেও বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার জুড়ে রয়েছে এর বিস্তৃতি। গাছ সাধারণত ১৫ থেকে ২০ মিটার উঁচু হয়ে থাকে। উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি সোনালু গাছ উত্পাদনের জন্য উপযোগী স্থান।

পত্র ঝরা বৃক্ষ। শীতে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে গিয়ে গাছ থাকে পত্রশূন্য এবং বসন্তের শেষে গ্রীষ্মের শুরুতে ফুলকলি ধরার আগে গাছে নতুন পাতা গজায়। গ্রীষ্মে গাছের শাখা-প্রশাখা জুড়ে ঝুলন্ত মঞ্জুরিতে সোনালি হলুদ রঙের ফুল ফোটে এবং এর ব্যাপ্তি থাকে গ্রীষ্মের পুরু সময় জুড়ে। ফুল গন্ধহীন, পাপড়ি পাঁচটি, মাঝে পরাগদণ্ড অবস্থিত।

পাতা হালকা সবুজাভ, মধ্য শিরা স্পষ্ট। গাছের শাখা-প্রশাখা কম, কাণ্ড সোজাভাবে ওপরের দিকে বাড়তে থাকে। বাকল সবুজাভ থেকে ধূসর রঙের, কাঠ মাঝারি শক্ত মানের হয়। ফুল থেকে গাছে ফল হয়, ফল সজিনা সবজির আকৃতির। তবে সজিনার গায়ের চামড়াতে ঢেউ তোলা, সোনালু ফলে তা নেই। চামড়া মসৃণ। ফল লম্বায় প্রায় এক ফুট, রং প্রথমে সবুজ ও ফল পরিপক্ব হলে কালচে খয়েরি রং ধারণ করে। ফলে বীজ হয়, বীজের রং খয়েরি, ফলের বীজ থেকে বংশ বিস্তার ঘটে। কোনো কোনো অঞ্চলে সোনালুর ফলকে ‘বানর লাঠি’ বলায় সোনালু গাছকেও ‘বানর লাঠিগাছ’ বলা হয়।

সোনালু গাছের বাকল পাতায় ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে।