সিলিন্ডার বিস্ফোরণ: অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন লিটন দাসের স্ত্রী

293
ছবি: সংগৃহীত

অল্পের জন্য বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে বেঁচে গেছেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের ওপেনার ও উইকেটরক্ষক লিটন দাসের স্ত্রী দেবশ্রী বিশ্বাস সঞ্চিতা। নিজ বাসায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে রক্ষা পান তিনি।

গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন সঞ্চিতা।

মাঠে খেলা নেই, তাই বাসাতেই অবস্থান করছেন লিটন দাশ। সঙ্গী তার স্ত্রী দেবশ্রী বিশ্বাস সঞ্চিতা। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) চা বানাতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। অল্পের জন্য ভয়ঙ্কর বিপদ থেকে রক্ষা পান লিটন পত্নী।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সিলিন্ডার সংযোগে ছিদ্র থেকে বিষ্ফোরণের সৃষ্টি। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মুখের সামনের অংশ বাঁচাতে গিয়ে হাতের কিছু অংশ পুড়ে যায় তার।

অন্যদিকে চুলের বেশিরভাগ অংশেও আগুন লাগে। বিষ্ফোরণের ফলে রান্নাঘরের কেবিনেটের কিছু অংশও ভেঙে পড়ে সঞ্চিতা শরীরের উপর।

শারীরিকভাবে মোটামুটি ভালো চোটে পড়লেও বড় বিপদ থেকে বেঁচেছেন লিটনের স্ত্রী।

ঘটনার দু’দিন পর রোববার (২৯ মার্চ) দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বিষয়টি জানান লিটনের পত্নী। সঞ্চিতা নিজেই ফেসবুক পোস্টে ঘটনার উল্লেখ করে শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ার কথা জানান।

ফেসবুক থেকে মুছে ফেলা সঞ্চিতার সেই স্ট্যাটাস স্ট্যাটাসে সঞ্চিতা লিখেন, ‘আসলে আমি একটি দুর্ঘটনার মধ্যে পড়েছিলাম। তাই মেসেঞ্জারে অ্যাক্টিভ ছিলাম না, অনেকের উত্তর দিতে পারিনি। গত পরশু বরাবরের মতই আমি রান্নাঘরে যাই চা বানাতে। আমি যখন গ্যাস প্রথমবার অন করি তখন অল্প জ্বলে নিভে গেল। এরপর দ্বিতীয়বার বার্নার প্রেস করতেই বিস্ফোরণ হয়। নতুন বাসা তাই সিলিন্ডার ব্যবহার করি। যদিও সিলিন্ডারটা নিচে ছিল। নিচের সমস্ত কেবিনেটে এক সঙ্গে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হলে যেভাবে আগুন বের হয় ঠিক সেভাবেই বের হয়েছিল। আমি ডান হাত দিয়ে মুখটা রক্ষা করার চেষ্টা করি তাই ডান হাতটা বেশি পুড়ে গেছে এবং ঘুরে যাওয়ার কারণে পেছনের প্রায় সব চুলেই আগুন ধরে গিয়েছিল। নিজেকে কোনোভবে রক্ষা করি। আগেরদিনই আমার মনে হয়েছিল যে গ্যাস প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছিল। তবে এটা (চুলা) কাজ করায় আমি গুরুত্ব দিয়েছিলাম না। হয়তো শেষ গ্যাস তাই এভাবে বিস্ফোরণ হয়েছিল। আমি এটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারবো না আর এটা আমার পক্ষে ভোলাও সম্ভব নয়। কারণ মৃত্যুর অনেক কাছ থেকে ফিরে এসেছি। সামনে হাত দিয়ে ঘুরে না দাঁড়ালে পুরো মুখটাই পুড়ে যেত। এখন আমার চুল কাটতে হবে। এটা খুব কষ্টদায়ক। তবে ঠিক হয়ে যাবে। যদি মুখে আগুন লেগে যেত কি হতো জানিনা। তাই এসব ক্ষেত্রে সবসময় সবাই খুব সাবধান থাকবেন। আপনাদের সকলের দোয়া প্রার্থী।’

গত বছর ২৮ জুলাই জাতীয় দলের ওপেনার লিটন দাসের সঙ্গে সাতপাকে বাঁধা পড়েন সঞ্চিতা।

সূত্র: যুগান্তর