সদ্যজাতের দেহে মিলল করোনাভাইরাস

68

দুনিয়ার ১৯২টি দেশে ছড়িয়েছে করোনাভাইরাস। মৃতদের মধ্যে বেশিরভাগই বয়স্ক মানুষ। শিশুদের সংখ্যা সেখানে বেশ কম। কিন্তু ধাক্কা দিল ব্রিটেন। লন্ডনের একটি হাসপাতালে সদ্যজাতের দেহে মিলল করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, এক সন্তানসম্ভবা মহিলার নিউমোনিয়া হয়েছে সন্দেহ হওয়ায় তাঁকে নর্থ মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিনই তিনি সন্তানের জন্ম দেন। তারপরেই তাদের রক্ত পরীক্ষা করা হয়। দুজনেরই দেহে কোভিড১৯ ভাইরাসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। দুজনকে দুটি পৃথক হাসপাতালে রাখা হয়েছে।

চীনের বাইরে সংক্রমণের ব্যাপ্তি এবং ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়েছে যেসব দেশে, সেগুলো হচ্ছে ইতালি, ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়া। ইউরোপ, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা এখনো অস্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের পরিস্থিতি অবশ্য অন্য কারও সঙ্গেই তুলনীয় নয়। তবে এসব দেশ চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইতালি থেকে শিক্ষা নিয়ে কৌশল পরিবর্তনেও পিছপা হয়নি।

দক্ষিণ কোরিয়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক হারে শনাক্তকরণ পরীক্ষা চালিয়ে সংক্রমিতদের দ্রুত বিচ্ছিন্ন করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। আর বাইরে থেকে আসা প্রবাসী ও বিদেশিদের সেলফ কোয়ারেন্টিনে নজরদারিতে মোবাইল অ্যাপসের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাফল্য পেয়েছে।

ইতালিতেও যেখানে সংক্রমণের সূচনা, সেই ভো নামক গ্রামের তিন হাজারের বেশি বাসিন্দার সবাইকে সংক্রমণ শনাক্তকরণ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের সাফল্য মিলেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইউরোপের সেরা চিকিৎসাব্যবস্থার সুনাম থাকলেও ধনীদের বসতি হিসেবে পরিচিত লম্বার্ডি এলাকায় সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বলা হচ্ছে আশির ওপরে বয়স, এ রকম একটি প্রজন্ম পুরোপুরি হারিয়ে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য উভয় দেশেই শুরুর দিকে গলদ থাকায় দ্রুতই পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রে মূল কারণ ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও রিপাবলিকান পার্টির রাজনীতি এবং সমস্যার বিপদকে নাকচ করা।

আর যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার ভাইরাসের সংক্রমণ অল্প সময়ের ব্যবধানে আরও শক্তিশালী রূপে ফিরে আসার আশঙ্কা বিবেচনায় জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রাকৃতিকভাবে প্রতিরোধক্ষমতা গড়ে উঠতে দেওয়া প্রয়োজন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কথিত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ কৌশলে রোগী শনাক্তকরণের বদলে কারও মধ্যে লক্ষণ দেখা দিলে তাকে স্বেচ্ছাবিচ্ছিন্নতা বা সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিংয়ের নীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।