Home » শেরপুরের নলিতাবাড়ির মধুটিলা ইকো পার্ক

শেরপুরের নলিতাবাড়ির মধুটিলা ইকো পার্ক

কর্তৃক BDHeadline

পাহাড়ের ছায়ায় ঘেরা এক জনপদ শেরপুর। শেরপুর শহর থেকে ৩০ কি.মি. দূরে অবস্থিত নালিতাবাড়ি। নালিতাবাড়ি থেকে ১৭ কি.মি. উত্তর পূর্ব দিকে অবস্থিত মধুটিলা ইকো পার্ক।

ইকোপার্ক হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশে সৃষ্ট বিনোদন উদ্যান যা জীববৈচিত্রের জন্য বন্ধু সুলভ।গারো পাহাড় বিধৌত এলাকায় গড়ে উঠেছে এই মধুটিলা ইকোপার্ক। মোট ৩৮০ একর পাহাড়ি জমি নিয়ে ১৯৯৯ সালে গঠিত হয়েছে এই মধুটিলা।

এখানে আছে বনঘেরা পাহাড়, বনভোজনের সুব্যবস্থাসহ রেস্ট হাউজ, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, খাবার হোটেল ও দৃষ্টিনন্দন নানান স্থাপনা। ভেতরে চলাচলের রাস্তাসহ পাহাড়ে ওঠার সিঁড়িও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এখানে পিকনিক করার জন্য মানুষ যায়। তাছাড়া সারা বছরই দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই থাকে। এখানকার প্রবেশমূল্য মাত্র ৫ টাকা আর পিকনিকের জন্য পরিবহণ অনুযায়ী নির্দিষ্ট ফি দিতে হবে।

পার্কে বিশ্রাম নেওয়ার সুব্যবস্থা রয়েছে কিন্তু রাতে মধুটিলায় থাকার অনুমতি নেই। মধুটিলা ইকোপার্কের বিশেষ আকর্ষণ স্টার ব্রিজ। ইকোপার্কের উপর দিয়ে বয়ে চলা লেকের উপর নির্মাণ করা হয়েছে এই স্টার ব্রিজ। এই ব্রিজ দিয়ে বিভিন্ন পাহাড়ের সাথে সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। স্টার ব্রিজ থেকে মধুটিলা পার্ককে অনন্য সুন্দর দেখায়।

এই ইকোপার্কে রয়েছে সিমেন্ট দিয়ে তৈরি করা হাতি,বানর ক্যাঙ্গারু, সিংহ, হনুমান,ঈগল, সাপ ইত্যাদি। ইকোপার্কের সৌন্দর্য উপভোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে ওয়াচ টাওয়ার। ওয়াচ টাওয়ার দিয়ে সমস্ত ইকোপার্কের অনাবিল সৌন্দর্যে ডুবে যায় দর্শনার্থীরা। এছাড়া সীমান্তবর্তী ভারতের বিএসএফের ক্যাম্প দেখা যায়।

জানা না জানা নানা উদ্ভিদের দেখা মেলে এখানে। শাল,সেগুন এ ইকোপার্কের প্রাধান্য বিস্তারকারী উদ্ভিদ। তবে, ফলজ ও ঔষধি নানা অজানা উদ্ভিদের দেখা মেলে এখানে।বুনো গাছের ফাঁকেফাঁকে দেখা যায় রংবেরঙের বুনো ফুল। তাতে বাহারি প্রজাপতির ওড়াওড়ি। বেশ কিছু পাখির বিচরণে গাছগুলোতে বসে রংয়ের মেলা। সুরের লহরীতে মোহনীয় হয়ে উঠে চারিদিক।

কখনও কখনও পার্কে দেখা মেলে বুনো হাতির দল। এরা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিচরণের জন্য এই অঞ্চলকে নিরাপদ করিডোর হিসেবে বেছে নেয়। এর পাশাপাশি বিভিন্ন স্তন্যপায়ী প্রাণী যেমন- মেছো বাঘ,বানর,সজারু ইত্যাদি প্রাণির দেখা মেলে।

যেভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুর যাওয়া যায়। সেখান থেকে লোকাল বাসে নালিতাবাড়ির নান্নি বাজার পর্যন্ত যাওয়া যায়। সেখান থেকে মাত্র ২০- ২৫ মিনিটে অটোরিকশা কিংবা মোটরসাইকেলে করে ইকোপার্কে যায়।

সম্পর্কিত পোস্ট