রক্তবর্ণের থালার মতো সূর্য দেখতে চলে যান লাবনী পয়েন্ট

234

বাংলাদেশ বিশ্বের বৃহৎ বদ্বীপ। এই বদ্বীপের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থান হলো কক্সবাজার। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের একটি অংশের নাম লাবনী পয়েন্ট। প্রতিদিন শত শত মানুষ এখানে আসে এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে।

কক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে লাবণী বীচ কক্সবাজারের প্রধান সমুদ্র সৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। এখানে পর্যটকদের জন্য গড়ে উঠেছে ঝিনুক মার্কেট।সীমান্তপথে মিয়ানমার (পূর্ব নাম-বার্মা), থাইল্যান্ড, চীন প্রভৃতি দেশ থেকে আসা বাহারি জিনিসপত্র নিয়ে গড়ে উঠেছে এই মার্কেট।

দেখতে পাবেন
বিস্তীর্ণ বেলাভূমি, সারি সারি ঝাউবন, সৈকতে আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউ। সকালবেলা দিগন্তে জলরাশি ভেদকরে রক্তবর্ণের থালার মতো সূর্য। অস্তের সময় দিগন্তের চারিদিকে আরো বেশি স্বপ্নিল রঙ মেখে সে বিদায় জানায়।

কক্সবাজার সৈকত ভ্রমণের শুরুটা হতে পারে লাবনী পয়েন্ট থেকে। লাবনী বিচ ধরে হেঁটে হেঁটে পূর্ব দিকে সোজা চলে যাওয়া যায় হিমছড়ির দিকে। যতোই সামনে এগুবেন ততোই সুন্দর এ সৈকত। সকাল বেলা বের হলে এ সৌন্দর্যের সাথে বাড়তি পাওনা হবে নানান বয়সী জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য।

শুধু সমুদ্র সৈকতই নয়, কক্সবাজার শহরের বৌদ্ধ মন্দির, বার্মিজ মার্কেট, হিলটপ রেস্টহাউস ইত্যাদি কক্সবাজার ভ্রমণের অন্যতম দ্রষ্টব্য স্থান। কক্সবাজার শহরের জাদি পাহাড়ের উপরে রয়েছে বেশ কয়েকটি প্রাচীন বৌদ্ধ মন্দির। শহরের যে কোন জায়গা থেকেই রিকশায় আসা যায় এখানে। সান বাঁধানো সিঁড়ি ভেঙ্গে জাদির পাহাড়ের উপরে উঠলে সাদা রঙের এসব বৌদ্ধ প্যাগোডা দেখে ভালো লাগবে। এই পাহাড়ের উপর থেকে কক্সবাজার শহরের বিভিন্ন স্থান দেখতে পাওয়া যায়। শহরের আরেক জায়গায় রয়েছে অগ্ব্বমেধ্যা কেয়াং নামে আরেকটি বৌদ্ধ প্যাগোডা। কাঠের তৈরি প্রাচীন এ বৌদ্ধ মন্দিরটি দেখে আসতে ভুলবেন না।

যাবেন যেভাবে
ঢাকা থেকে বাসে করে কক্সবাজার যেতে হবে। কক্সবাজার শহরের পাশেই লাবনী পয়েন্ট। ঢাকা থেকে সৗদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন, শাহ্ বাহাদুর, সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন বাসে সব সময় আসা যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাসে যেতে সময় লাগবে প্রায় ১১/১২ ঘন্টা, বিমানে প্রায় ৫৫/৬০ মিনিট। এসি/ননএসি দুই ধরনের বাস আছে। বাস ভেদে এসি/ননএসি ভাড়া পরবে ৮০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত।

প্রতিদিন ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় দূরপাল্লার নামী-দামী সব ধরনের বাস। উল্লেখযোগ্য হলো গ্রীন লাইন পরিবহন (০২-৮৩১৫৩৮০, ০১৭৩০০৬০০০৪, ০১৭৩০০৬০০৭১), সোহাগ পরিবহন (০২-৯৩১১১৭৭), টিআর ট্রাভেলস (০১৯১১৮৬৩৬৭৩, ০১৯১০-৭৬০০০৪, ০১১৯১-৮৬৩৬৭৪), দেশ ট্রাভেলস (০১৭২৭৫৪৫৪৬০, ০১৭৪৬৪৭৪৭৮০), শ্যামলী (০২-৯০০৩৩১, ০২-৮০৩৪২৭৫, ০১৭১৬-৯৪২১৫৪), হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১, ০১৭১৩৪০২৬৭০), সৌদিয়া (০১৯১৯৬৫৪৯৩৫, ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮), ঈগল (০২-৯০০৬৭০০, ০২-৯৩৪৬৩৯১), এস আলম (০১৮১৩-৩২৯৩৯৪, ০২-৯৩৩১৮৬৮), সিল্ক লাইন (০১৭১৪-০৮৭৫৬৩,০২-৭১০২৪৬১), সেন্টমার্টিন (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৭১১৬৬৬১০৯)ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য বিমান সংস্থা হলো- বাংলাদেশ বিমান (০২-৮৯০১৬০০, ০২-৮৯০১৭৩০-৪৪), রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ (০২-৮৯৫৩০০৩), নভো এয়ার (১৩৬০৩, ০২-৯৮৭১৮৯১-২, ০১৭৫৫৬৫৬৬৬০-১), ইউএস বাংলা (০১৭৭৭৭৭৭৭৮৮, ০১৭৭৭৭৭৭৮৯৯, ০১৭৭৭৭৭৭৯০০), ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (০৯৬০৬৪৪৫৫৬৬, এক্সট-৫৪২-৪৮, ০২-৮৯৩২৩৩৮, ০২-৮৯৩১৭১২)। রাউন্ড ট্রিপ ইকোনমি ক্লাসে ভাড়া পরবে প্রায় ১০০০০-১২৫০০ টাকা।

ঢাকার কমলাপুর থেকে প্রতিদিন ট্রেন বা বাস ছেড়ে যায়। তবে টিকেট বুকিং আগেভাগেই করে রাখা ভালো।

বিমানেও মাত্র ৪৫ মিনিটে কক্সবাজারে যাওয়া যায়। নিয়মিত কক্সবাজারে বাংলাদেশ বিমান, জিএমজি এয়ার লাইনস, ইউনাইটেড এয়ার ওয়েজসহ অন্যান্য বিমান আসা যাওয়া করে। এক্ষেত্রে ভাড়া হবে ৮ হাজার টাকা।

থাকবেন যেখানে
কক্সবাজারে রয়েছে পর্যটকের জন্য সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ। এর মধ্যে কয়েকটির যোগাযোগ নাম্বার দিলাম এখানে। ঢাকা থেকেই ফোন দিয়েই বুকিং দিতে পারেন।

কক্সবাজারে থাকার জন্য উল্লেখযোগ্য হোটেলগুলো হচ্ছে – সায়মন বিচ রিসোর্ট (০৯৬১০৭৭৭৮৮৮, ০৩৪১-৫১৩৫০, ০১৭৫৫৬৯১৯১৭), ওশান প্যারাডাইস হোটেল এন্ড রিসোর্ট (০১৯৩৮৮৪৬৭৬৩-৭, ০৩৪১-৫২৩৭০-৯), লং বিচ হোটেল (০১৭৫৫৬৬০০৫১, ০৩৪১-৫১৮৪৩-৬), সীগাল হোটেল লিমিটেড (০১৭৬৬৬৬৬৫৩০, ০৩৪১-৬২৪৮০-৯০), হোটেল দ্য কক্স টুডে (০১৭৫৫৫৯৮৪৪৯, ০১৭৫৫৫৯৮৪৫০, ০৩৪১-৫২৪১০-২২), হোয়াইট অর্কিড (০১৮২৫৯২৩৯৮৯), হোটেল সী ওয়ার্ল্ড (০১৯৩৮৮১৭৫০১-১২, ০৩৪১-৫২২২৬, ০৩৪১-৫১৬২৫), হোটেল সী ক্রাউন (০১৮১৭০৮৯৪২০,০৩৪১-৬৪৭৯৫, ০৩৪১-৬৪৪৭৪), এ্যালবাট্রস রিসোর্ট (০১৮১৮৫৪০১৭৭, ০১৮১৬০৩৩৪৪৫, ০১৮১৮৫৯৬১৭৩, ০৩৪১-৬৪৬৮৪), হোটেল রয়াল রিগ্যাল পেলেস (০১৯৭৭৯৩৬৬২৩), হোটেল প্রাইম পার্ক (০১৭৭৫৬০৯৯১৫, ০১৮৪২৬০৯৯১৫, ০৩৪১-৬২৩১১), হোটেল ইউনি রিসোর্ট (০১৭১৩১৬০১৬৭), হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল (০১৭১১৩৪১১৬৪), পর্যটন হোটেল শৈবাল (০৩৪১-৬৩২৭৪),পর্যটন মোটেল প্রবাল (০৩৪১-৬৩২১১), পর্যটন হোটেল লাবনী (০১৯১৩৯৩২০৮২), হোটেল সায়মন (০৩৪১-৬৩২৩৫, ০৩৪১-৬৩২৩১) ইত্যাদি।

এছাড়া ইনানি বিচের আশেপাশের উল্লেখযোগ্য হোটেল হচ্ছে – রয়াল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (৮০০৩৫৮০৮৪৬, ০৩৪১-৫২৬৬৬-৮০), ইনানি রয়াল রিসোর্ট (০১৭৭৭৭৯০১৭০), লা বেল্লা রিসোর্ট (০১৮২৫৯২৩৯৮৯)ইত্যাদি।

ইকো রিসোর্ট – মারমেইড ইকো রিসোর্ট (প্যাচার দ্বীপ, ০১৮৪১৪৬৪৬৪-৯,) সাম্পান ইকো রিসোর্ট (০১৯৭৪৭২৬৭২৬)ইত্যাদি।

এখানে এক রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের কক্ষ। যারা থাকার জন্য এত খরচ করতে চাচ্ছেননা, তাদের জন্য কমমূল্যে থাকার হোটেলও রয়েছে। হোটের সীগালের পিছনে রোডে অর্থাৎ কলাতলি রোডের হোটেলগুলোতে মাত্র ৫০০ টাকাতেও থাকা যায়।