রক্তকাঞ্চনে বসন্ত

16

প্রকৃতিতে এই ঝরাপাতার বেলায় শাখায় শাখায় রঙের উচ্ছ্বাসে একটি গাছই জানান দিচ্ছে বসন্ত সমাগত। নাম তার রক্তকাঞ্চন। মাঘ মাসেই পুরো গাছজুড়ে বসেছে গাঢ় থেকে হালকা বেগুনি ফুলের মেলা। আসছে ফাগুনে দেখা যাবে তার সবটুকু পুষ্পিত শোভা। মিষ্টি ঘ্রাণের সঙ্গে পাঁচটি পাপড়িতে অতুলনীয় এর রূপ। রাজধানীর রমনা পার্ক, সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, হাতিরঝিলসহ বিভিন্ন বাগানে রক্তকাঞ্চন ফুটেছে।

অপূর্ব সুন্দর এই ফুলের গাছ চেনা যায় তার পাতা দেখে। এর সজোড় দুটি পাতা যেন উড়ে চলা সবুজ প্রজাপতি। এমন পাতা আর কোনো গাছের নেই। বেগুনি রঙের ‘রক্তকাঞ্চন’ ছাড়াও একই সময়ে ফোটে সাদা রঙের একটি কাঞ্চন। রং ভিন্ন হলেও এরা একই প্রজাতির। মূলত বসন্তের এই ফুল ফোটা শুরু করে একটু আগেভাগেই। রঙের নিবিড়তায় এটি হতে পারে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রতীক। যদিও অনেক লেখক এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেন গ্রীষ্মে ফোটা কৃষ্ণচূড়ার কথা।

এ ব্যাপারে প্রকৃতিবিদ দ্বিজেন শর্মা তার ‘গাছের কথা ফুলের কথা’ বইয়ে লিখেছেন, “আমাদের কবিরা খেয়াল করলে ২১ ফেব্রুয়ারির সঙ্গে এই কাঞ্চনকে জড়াতে পারতেন। সেই হতো ‘একুশের চেতনার রঙ’। কিন্তু কৃষ্ণচূড়ার মতো নিজেকে এতটা জাহির করতে পারেনি বলেই কবিকুলের নজর কাড়েনি। কৃষ্ণচূড়া গ্রীষ্মের ফুল। কবিরা ফোটান বসন্তে, তা তারা জবরদস্তি করতে পারেন বৈকি।”

আমাদের বন-পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবে প্রায় ১৫ প্রজাতির কাঞ্চন জন্মালেও নগর উদ্যানে মূলত তিন ধরনের কাঞ্চন চোখে পড়ে- রক্তকাঞ্চন, দেবকাঞ্চন ও শ্বেতকাঞ্চন। এর মধ্যে দেবকাঞ্চন ফোটে হেমন্তে আর শ্বেতকাঞ্চন দেখা যায় বর্ষা ও শরতে। তিন জাতের কাঞ্চনের পাতার ধরন একই, ফল শিমের মতো। এর আদি নিবাস বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে।