রক্তকাঞ্চনের পাতায় কারুকার্য

16

বস‌ন্তের প্রকৃতিতে এখন পলাশ, শিমুল, মান্দারসহ বিভিন্ন ফুলের সঙ্গে রক্তকাঞ্চনের রং লেগেছে।

রমনা পার্কে রক্তকাঞ্চনের একটি বীথি আছে। পার্কের বকুলবীথির দ‌ক্ষিণ দিকে। রক্তকাঞ্চন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বৃক্ষ। প্রায় ১২ মিটার অবধি লম্বা হতে পারে। প্রধান কাণ্ডের সঙ্গে একাধিক কাণ্ডও দেখা যায়।

পাতা দেবকাঞ্চনের চেয়ে আকারে ছোট, গড়ন গোলাকার, আগার দিকে বিভক্ত। বীজ ও কলমে চাষ। আদি আবাস ভারতীয় উপমহাদেশ। এ বৃক্ষ শোভাবর্ধনকারী হিসেবে সমাদৃত। বিশেষ করে পার্কে, সড়কের দুধারে লাগানো হয়। ফুল ফুটলে এ কাঞ্চনের রূপে বিমোহিত হয় মানুষ। বস‌ন্তে প্রায় নিষ্পত্র গাছ গোলাপি-বেগুনি রঙের ফুলে ছেয়ে থাকে।

পাপড়ি পাঁচটি, তার মধ্যে একটি বড় ও গাঢ় রঙের, তাতে কারুকার্য থাকে। ফল শিমের মতো। রক্তকাঞ্চনের একটি সাদা ফুলের জাতও আছে, ভারি সুন্দর। রমনা পার্কের উত্তর দিকে এবং মহিলা অঙ্গনের কাছে দুটি সাদা রঙের ফুলের গাছও রয়েছে। বস‌ন্তে রমনা পার্কের সেরা আকর্ষণই হলো রক্তকাঞ্চনের মোহনীয় প্রস্ফুটনের অপার আবেদন। বাকল ট্যানিনের উৎস।

কাঠ কৃষি সরঞ্জাম তৈরির জন্য ব্যবহার করা হয়। ফুল ফুটলে গাছে কাঠবিড়ালি এবং পাখ-পাখালির আনাগোনা থাকে সকাল থেকে সন্ধ্যা।

রক্তকাঞ্চনের বৈজ্ঞানিক নাম Bauhinia variegata। পরিবার Fabaceae। ইংরেজি নাম Camel’s foot Tree। অনেক সড়কেই এখন উন্নয়নের জন্য গাছপালা কাটা পড়ছে এবং অনেক সড়কের দুই পাশে নেই কোনো বৃক্ষ। পরিকল্পনা করে এসব সড়কে রক্তকাঞ্চন, কুরচি, পলাশ, মান্দার, জারুলসহ ছয় ঋতুর শোভাবর্ধনকারী ফুলবৃক্ষ রোপণ করা যেতে পারে।