মেয়েদের চুল হারানোর দিন শেষ

63

চুল দেখেই নাকি নারী চেনা যায় সবাই বলে। নারীর ব্যক্তিত্বের অংশ চুল।আর তাই যেদিন এই চুলের বেণিটা রুক্ষ, শুষ্ক, ছেঁড়াছেঁড়া হয়ে থাকে, সেদিন যাকে বলে ‘খারাপ কেশ দিবস’। কিন্তু শীতের মরশুমের সবচেয়ে বড় দুঃস্বপ্ন কী? শীতের ঠান্ডা হাওয়া চুলের আদ্রতা তো কেড়ে নেয়ই, তার সঙ্গে যুক্ত হয় আরও একটা ভয়ানক শব্দবন্ধ। ‘চুল-পড়া’!

কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন কি আমাদের মায়েরা এই শীতের মরশুমে কী করে চুলের যত্ন নিতেন? ওঁদের কাছে কি কোনও গোপন সূত্র আছে এই শীতেও চুল ভালো রাখার? উত্তর হল অবশ্যই আছে। চুলে তেল মাখার। নারকেল তেলে কিছু বীজ ভিজিয়ে, সেই তেল মাখার ফলেই তাঁদের চুল হয়ে উঠত সুস্থ, সুন্দর আর উজ্জ্বল। তাঁরা যখন আমাদের মাথায় ‘হট অয়েল’ মাসাজ করে দিতেন, সব সময়ই কি মনে প্রশ্ন জাগত না, এই যে এত আরাম, এত ভালো লাগা, সেটা কি ওঁদের ভালোবাসার মাসাজের কারণেই, নাকি তার সঙ্গে আছে কোনও প্রাকৃতিক উপাদানের ভূমিকাও?

আসুন দেখে নেওয়া যাক এমনই কতগুলো বীজ এবং প্রাকৃতিক অন্য উপাদানের ভূমিকা, যা আমাদের চুলকে আরও মজবুত এবং সুন্দর করে তুলবে।

মেথি: চুলের গোড়া মজবুত করতে, এবং চুলের ভাঙন থামাতে মেথির জুড়ি নেই। তাছাড়া এতে থাকে প্রোটিন এবং নিকোটিনিক অ্যাসিড। এর মধ্যে থাকা হরমোন চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

সরষে: চুলের জন্য সবচেয়ে ভালো কন্ডিশনার কী? সরষে দানা। কারণ এতে থাকা প্রোটিন, ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের পুষ্টির মারাত্মক সহায়ক। চুল-পড়া দ্রুত কমিয়ে দিতে পারে সরষে, কারণ এর মধ্যে রয়েছে ফাঙ্গাসরোধক এবং ব্যাকটেরিয়ারোধক উপাদান।

কালো জিরে: মালাসেজিয়া ফাঙ্গাসের নাম শুনেছেন? যার কারণে মাথায় খুসকি হয়। এর হাত থেকে বাঁচতে কালো জিরে তেল বা ব্ল্যাক সিড অয়েলের ব্যবহার করতে পারেন। খুসকির হাত থেকে বাঁচবেন। তাছাড়া এই তেল মাথার ত্বকেরও উপকার করে। তাতে চুল পড়া অনেকটাই কমে যায়।

লাউ দানার রস: জিঙ্ক, আয়রন, কপার, ভিটামিন ই-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ সহজেই কী থেকে পাওয়া যায় জানেন? অবশ্যই লাউ দানার রস। মাথার ত্বকের ডিপ কন্ডিশনিং-এর দরকার পড়লে এর বিকল্প নেই। নিয়মিত এই রস ব্যবহার করলে চুল পড়া অনেকটাই কমতে বাধ্য। এমনকী চুল পড়া পুরোপুরি বন্ধও হয়ে যেতে পারে।

তিল: ভিটামিন, মিনারেল এবং পুষ্টিগুণের দুর্দান্ত সংমিশ্রণ তিল বা তিলের তেল। স্কাল্প বা মাথার ত্বক নিয়ে কোনও সমস্যা? একটা উত্তর- তিল। স্কাল্প শুষ্ক হয়ে গিয়েছে? ময়শ্চারাইজ করতে চাইলে তিল ব্যবহার করুন। তিলের মধ্য থাকা ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়া মজবুত করবে। সেই সঙ্গে গোড়ায় রক্ত চলাচল বাড়বে মারাত্মক ভাবে। ফলে চুল পড়া বন্ধ হবে অনেকটাই।

কিন্তু আমাদের প্রজন্ম যে দ্রুত গতিতে চলা জীবনের অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, তাতে সময় কোথায় এসব করার? সময় কোথায় এই সব উপাদান তেলে ভিজিয়ে রাখার, তারপর সেই তেল মাথায় মাখার? কিন্তু কেমন হবে, যদি এই সব উপাদান সমৃদ্ধ একটা জাদু বোতল আপনি হাতে পান? যা কি না আপনার চুলের যাবতীয় সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবে? একটা নামই তাহলে মাথায় আসে। ‘নীহার ন্যাচরালস একস্ট্রাকেয়ার হেয়ারফল কনট্রোল অয়েল’। কী কারণে এটা এত ভালো? চুল-পড়া নিরধক তেলের মধ্যে এটাই প্রথম, যাতে রয়েছে ‘অ্যাকটিভ-সিডস’ বা তাজা উপাদান। সর্বক্ষণই যা তেলে ভেজানোর ব্যবস্থা করা রয়েছে বোতলেই। খুবই বিস্ময়কর এক পদ্ধতি। একবারে নতুন ধরনের একটা ক্যাপ লাগানো আছে এই বোতলে। যা ক্রমাগত এই বীজ আর উপাদানগুলোকে ভিজিয়ে দিতে পারে তেলের সঙ্গে। তাই এই তেল চুল-পড়ার পরিমাণ কমিয়ে দিতে পারে আট ভাগের এক ভাগ।

একেবারে আধুনিক যুগের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই বানানো এই প্রোডাক্টটি। আধুনিক যুগের মহিলাদের জন্য খুবই হ্যান্ডি এই প্রোডাক্ট। বোতলের ঢাকনার মধ্যে রয়েছে বাড়ির ব্যবহারের মতো বেশ কিছু বীজ, মশলা বা অন্য প্রাকৃতিক উপাদান- যা কি না চুলের জন্য খুবই দরকারি এবং উপকারী, যখনই তেলটি ব্যবহার করছেন উপাদানগুলি মিশছে এই তেলের সঙ্গে। সেই কারণেই এই তেল ব্যবহার করলে চুল হবে অনেকটাই ফুরফুরে এবং চুল-পড়াও কমে যাবে অনেকটাই।

এই শীতে চুল-পড়া অনেকটাই কমিয়ে দেওয়ার সহজ রাস্তা নিয়ে এসেছে এই নীহার ন্যাচরালস একস্ট্রাকেয়ার হেয়ারফল কনট্রোল অয়েল। এবং তার জন্য দরকার হবে না কোনও অতিরিক্ত পরিশ্রমেরও। সুস্থ সুন্দর চুলের জন্য এই শীতে সবাইকে আগাম শুভেচ্ছা।