মানুষেরা এসে ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে: ফখরুল

38

দেশের মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করতে পারায় সরকারের সমালোচনা করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘উন্নয়নের কথা বলা হলেও দেশে শিক্ষিত যুবকেরা চাকরি পান না, কর্মসংস্থান নিচের দিকে নামছে। অথচ একই সময়ে আজকে ভারত থেকে কর্মীরা এসে, বিভিন্ন মানুষেরা এসে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে যাচ্ছে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, উন্নয়নের কথা বলে পকেট থেকে টাকা নিচ্ছে সরকার। তিনি আরও বলেছেন, কিছু মানুষের সুবিধার জন্য গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর লেডিস ক্লাবে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) কেন্দ্রীয় সম্মেলন-২০১৯ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সোমবার প্রধানমন্ত্রী চীন থেকে ফেরত এসে সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি মেনে নিতে হবে। এ প্রসঙ্গ টেনে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অবশ্যই আমরা জানি, উন্নয়নের একটা মূল্য দিতে হয়। সেই মূল্য দিতে হয় কার জন্য? সেই মূল্যটা দিতে হবে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের জন্য। আমরা ভালোভাবে দেখছি আজকে যে উন্নয়নের কথা বলে যে টাকা জনগণের পকেট থেকে বের করে নেওয়া হচ্ছে, সেই অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে শুধু গুটিকতক এই ক্ষমতাসীন দলের সুবিধার জন্যই।’

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, এলএনজি আমদানির সঙ্গে জড়িত সরকারদলীয়রা। আর এই গ্যাস আমদানির বাড়তি খরচ জনগণকে ব্যয় করতে হচ্ছে।

এ সরকার নির্বাচিত নয়, জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে ও করের পরিমাণ বাড়িয়ে সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সরকার দেশে একদলীয় শাসন চালাচ্ছে, দাবি করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে পর পরিকল্পিতভাবে তারা সংবিধান পরিবর্তন করেছে। সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের রায়ের পরে তারা এই কাজটি শুরু করেছে। গণতন্ত্রের কথা মুখে বললেও বাস্তবে তা নেই বলে অভিযোগ করেন ফখরুল।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নেই, উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিচারের রায় দিতে হয়। তিনি এ সময় বলেন, ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলার মামলার রায়ে বিএনপির ৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ২৫ জনের যাবজ্জীবন এবং ১৩ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, সে হামলায় কোনো হতাহত হয়নি।

তিনি জনগণের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিএনপিকে জনগণের মধ্যে চলে যেতে হবে, তাদের সংগঠিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক কারণে আটকে রাখা হয়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে গণতন্ত্র মুক্তি পাবে। তিনি পুনর্নির্বাচনেরও দাবি জানান।

ড্যাবের আহ্বায়ক ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ওবায়দুল কবির খানের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ জেড এম জাহিদ প্রমুখ।