মাংসপেশিতে টান লাগলে কি করবেন?

84

আজকাল প্রায়ই শোনা যায়, অমুক ক্রিকেটার মাংসপেশির টানে ইনজুরিতে। কারও কারও ঘুমের মধ্যেও এই টান হতে পারে। আবার দীর্ঘসময় অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে পায়ের পেশিতে বেশি টান লাগতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে বা দাঁড়িয়ে থাকলেও এমনটা হয়ে থাকে। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অতিরিক্ত পরিশ্রমের কারণে এমন সমস্যা হরহামেশাই হয়ে থাকে। এতে অনেকের ক্যারিয়ার পর্যন্ত হুমকির মুখে পড়ে।

এ বিষয়ে জাতীয় পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসক মনিরুল ইসলাম বলেন, পায়ের পেশিতে সাধারণত বেশি টান লাগে। তবে যে পেশিতে টান বেশি পড়ে, সেখানে বেশি ব্যথা হয়। ক্রিকেটারদের বোলিং করার সময় কাঁধের পেশিতে চাপ বেশি পড়ে। তাই ইনজুরিতেও পড়েন। আগের অবস্থায় ফেরতে যেতে পেশি প্রসারিত করতে দিতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিলে পেশি সম্পূর্ণ আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

মাংসপেশির টান কী?
মাংসপেশির টান বলতে সাধারণত বোঝায় কোনো পেশি মুচড়িয়ে যাওয়া বা একটা পেশি আরেকটার ওপর ওঠে যাওয়া বা কিছু পেশি ছিঁড়ে যাওয়া। সাধারণত বিশ্রাম ছাড়া পেশিকে অতিরিক্ত ব্যবহার করলে এমনটি হতে পারে। হঠাৎ ব্যায়াম শুরু বা পেশি নড়াচড়া করালেও এমন হতে পারে।

তবে এমন কিছু কারণ আছে, যেখানে পেশি টানের মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন: পানিশূন্যতা, মাংসপেশি বা স্নায়ুতে আঘাত, রক্তে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়ামের অভাব এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন উচ্চ রক্তচাপ ও অতিরিক্ত কোলেস্টেরল কয়েকটি বিশেষ ভিটামিনের অভাবে, যেমন: ভিটামিন ‘বি’ বি ১, উই৫, উই৬)। কিছু বদভ্যাসের কারণে, যেমন: ধূমপান, মদপান করলেও এমন হতে পারে।

লক্ষণ
আঘাত কতটুকু, তার ওপর নির্ভর করে উপসর্গ। আঘাতপ্রাপ্ত জায়গায় ব্যথা, ফুলে যাওয়া, লালচে ও শক্ত হতে পারে। নড়াচড়া করলে ব্যথা বৃদ্ধি পাবে। বয়স, ক্লান্ত পেশি, ব্যায়ামের আগে ওয়ার্মআপ না করা, আগে পেশিতে টান লেগে থাকলে, শক্ত আঁটসাঁট, দুর্বল পেশি, দীর্ঘক্ষণ ধরে ব্যায়াম বা ট্রেনিং বা একসঙ্গে দীর্ঘ পথ দৌড়ালে পেশিতে টান পড়ার ঝুঁকি থাকে।

কী করবেন?
তাৎক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসায় খুব ভালো ফল পাওয়া যায়। প্রাথমিক চিকিৎসা বাসায় বসেই করা যায়। প্রথম দুই দিন পূর্ণাঙ্গ বিশ্রামে থাকতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। ব্যথা কমতে শুরু করলে ক্রাচে ভর দিয়ে আস্তে আস্তে নড়াচড়া শুরু করতে হবে বা আস্তে আস্তে ব্যায়াম শুরু করা যেতে পারে। তোয়ালের ভেতরে বরফখণ্ড নিয়ে তা ক্ষত বা আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে ঠান্ডা লাগাতে হবে। সেই স্থান নমনীয় ব্যান্ডেজ দিয়ে হালকা করে মোড়ালে কম ফুলতে পারবে। সম্ভব হলে ক্ষতস্থান হালকা উঁচু করে রাখতে হবে। দুই সপ্তাহ পর স্ট্রেচিং ব্যায়াম শুরু করা যেতে পারে। ব্যথা অনুভূত হলে ব্যায়াম বন্ধ করতে হবে। ব্যথা না হলে স্ট্রেচিং ব্যায়াম বাড়াতে হবে। এভাবেই পেশি পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে আসবে। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যথার ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধ দেওয়া যেতে পারে।

কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়?
১. সব সময়, বিশেষ করে খেলা বা দৌড়ানোর সময় সঠিক জুতা সঠিকভাবে পরতে হবে।

২. ব্যায়াম বা দৌড়ানো বা কোনো কাজ শুরুর আগে ওয়ার্মআপ ও কুলডাউন ব্যায়াম করতে হবে।

৩. নিয়মিত ওজন তোলা, স্ট্রেচিং ইত্যাদি ব্যায়ামের মাধ্যমে পেশিকে নমনীয় ও শক্ত রাখতে হবে।

৪. ব্যায়াম, খেলা বা অন্য কাজ ধীরগতিতে শুরু করতে হবে।