Home » ভোলা মাঝির ভোলার চর

ভোলা মাঝির ভোলার চর

কর্তৃক BDHeadline

Tour-bd.com: বাংলাদেশের বৃহত্তম ও প্রাচীন গাঙ্গেয় ব-দ্বীপ এবং একটি পলি মাটির দ্বীপের নাম ভোলা। এটি একসময় নোয়াখালী জেলার অধীনে ছিল, যা ১৯৮৪ সালে জেলার স্বীকৃতি পায়। ভোলা জেলার নামকরণের একটি প্রচলিত লোক কাহিনী অনুসারে জানা যায়, বেতুয়া খালের এক মাঝির নাম অনুসারে এই অঞ্চলের নাম হয় ভোলা।

নদী বিধৌত ভোলা জেলা পর্যটকদের জন্য একটি আদর্শ স্থান। প্রাচীন এই দ্বীপে অনেকগুলো নির্জন ও দৃষ্টিনন্দন দ্বীপ রয়েছে যা দিনের পর দিন পর্যটকদের আকৃষ্ট করে আসছে।

চর মনপুরা
চলচ্চিত্র প্রেমীদের কাছে চর মনপুরা একটি সর্বাধিক পরিচিত দ্বীপের নাম। কারণ কয়েক বছর আগে চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত মনপুরা চলচ্চিত্রটি অনেক দর্শকের মন জয় করে নিয়েছে। জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্রটিতে দেখানো হয়েছে নির্জন এই দ্বীপের কিছু দৃশ্যও।

চর মনপুরা দ্বীপটি ভোলা দ্বীপটি থেকে প্রায় ৮০ কি: মিঃ দূরে অবস্থিত তথা এটি একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। এই দ্বীপের নামকরণের পেছনেও রয়েছে একটি লোক কাহিনী। বলা হয়, এই দ্বীপে মন গাজী নামের একজন লোক ছিল, যিনি বাঘের আক্রমণে নিহত হন। সেই সময় থেকে এই দ্বীপের নাম হয় মনপুরা।

প্রায় ৮০০ বছরের পুরনো এই মনপুরা দ্বীপের মূল আকর্ষণ হলো এর অভয়ারণ্য। এখানে গেলে নানা পশু-পাখি সহ দেখা মেলে ঝাঁক বাঁধা হরিণের সাথে। সব মিলিয়ে এই দ্বীপের চারপাশে যেন সৌন্দর্যের ছড়াছড়ি।

মনপুরা ফিশারিজ লিমিটেড
চর মনপুরার একটি উল্লেখযোগ্য দর্শনীয় স্থান হলো, মনপুরা ফিশারিজ। এটি মূলত একটি মৎস্য খামার, কিন্তু আয়তনে বিশাল আকৃতির এই খামারটি ভ্রমণ পিপাসুদের মনে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে। বিশাল আকৃতির খণ্ড পুকুর ও ঘেরের পাড়ে লাগানো সারি সারি নারিকেল গাছের সৌন্দর্য আর নির্মল বাতাস উপভোগ করতে চাইলে যেতে পারেন মনপুরা ফিশারিজে। বর্তমানে খামারটির প্রায় এক তৃতীয়াংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাকি অংশও যে কোনো সময় ভাঙ্গনের কবলে পড়তে পারে, তাই ঘুরে আসতে পারেন সামনের শীতেই।

মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশন
মনপুরা ল্যান্ডিং স্টেশনটি মনপুরা প্রধান শহরের পশ্চিমে মেঘনা নদীর কিনারায় অবস্থিত। এটি মূলত যাত্রীবাহী সী-ট্রাক ও লঞ্চের নোঙ্গর ফেলার জন্য নির্মাণ করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান হয়ে উঠেছে। এখান থেকে সূর্যাস্তের দৃশ্য উপভোগ করতে আসেন অনেক পর্যটক।

কীভাবে যাবেন
হাজিরহাট সদর থেকে পায়ে হেঁটে মাত্র ৫ মিনিটে ল্যান্ডিং স্টেশনে যাওয়া যায়।

তুলাতলী পর্যটন কেন্দ্র/মেঘনা সৈকত
ভোলা সদর উপজেলা থেকে ৩ কিঃমিঃ দূরে ধনিয়া ইউনিয়নের তুলাতলী এলাকায় জেগে ওঠা একটি নতুন চরের স্থানীয় নাম তুলাতলী চর। চারিদিকে মেঘনার থই থই জলরাশিতে একের পর এক ভেসে চলেছে মাছ ধরার ট্রলার আর মালবাহী জাহাজ। অনিন্দ্য সুন্দর এই মেঘনার কপালে টিপ হয়ে ভেসে আছে তুলাতলী চরটি। বিকাল হলেই উল্লাসে মেতে ওঠে চরের বুকটা। চিকচিকে বালির উপর তরুণ ফুটবলারদের ছোটাছুটি আর নদীর জলে পর্যটকদের মাতামাতি- এ যেন জীবনেরই রূপ।

তুলাতলী এলাকার বেড়ি বাঁধ ও মেঘনার বুকে জেগে ওঠা তুলাতলী চরে পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে। বর্তমানে এখানে বিনোদনের আশায় ছুটে আসেন বিভিন্ন বয়সের ও শ্রেণী-পেশার মানুষ। এখানকার সিসি ব্লক, বেড়িবাঁধ, নদীর উত্তাল ঢেউ আর পড়ন্ত বিকেলের দৃশ্য দেখে মুগ্ধ হয়ে শুধু তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করে।

চর কুকরি মুকরি
চর কুকরি মুকরি বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে মেঘনা ও তেতুঁলিয়া নদীর মোহনায় অবস্থিত এক নয়নাভিরাম চর। এটি বাংলাদেশের একটি সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও বৃহৎ বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এখানে গেলে উপভোগ করা যায় চোখ জুড়ানো সবুজের সমারোহ আর মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য।

এই দ্বীপে সচরাচর দেখা মেলে নানা প্রজাতির পশু-পাখি, সরীসৃপ প্রাণী, শেয়ালের দল, হরিণের পাল আর বন্য মহিষের বিশাল বাহিনীগুলোর সাথে। এছাড়া শীতকালে দেখা যায় নাম না জানা হাজারও প্রজাতির অতিথি পাখির আনাগোনা।

বিশাল এলাকা জুড়ে বালুকাময় এই চরটিতে সবসময় সমুদ্র সৈকতের আবহ বিরাজ করে। তাই বলা যায়, একটি সবুজে ঘেরা সৈকতে সময় কাটাতে আজই বেড়িয়ে আসতে পারেন চর কুকরি মুকরি থেকে।

ঢালচর
ভোলা জেলার মনপুরা থানার একটি ইউনিয়নের নাম ঢালচর। ঢালচরের তিন দিকে মেঘনা নদী বেষ্টিত আর দক্ষিণে রয়েছে বঙ্গোপসাগর। এখানে আপনি যেমন পাবেন সুন্দরবনের আবহ, সেই সাথে পাবেন কুয়াকাটা বা কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বসে সমুদ্র দেখার স্বাদও।

এই চরের সম্মুখে অবস্থিত আকর্ষণীয় সমুদ্র সৈকতটির নাম তারুয়া সী-বিচ। বঙ্গোপসাগরের অন্যান্য সব চরের মতো এখান থেকেও উপভোগ করা যায় সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের দৃশ্য।

তারুয়া সমুদ্র সৈকত
বাংলাদেশের একটি সম্ভাবনাময় সমুদ্র সৈকতের নাম তারুয়া সমুদ্র সৈকত। দৃষ্টিনন্দন এই সমুদ্র সৈকতটিকে তৃতীয় সমুদ্র সৈকত বললেও ভুল হবে না।

কিভাবে যাবেন
ভোলা থেকে প্রথমে চরফ্যাশন এর চর কচ্ছপিয়াতে যেতে হবে । তারপর সেখান থেকে ট্রলার, নৌকা অথবা ছোট ছোট লঞ্চ দিয়ে ঢাল চর যাওয়া যায়।

জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার, চরফ্যাশন
আইফেল টাওয়ারের নাম সবাই জানি, কিন্তু অনেকেই জানি না উপমহাদেশের সর্বোচ্চ টাওয়ার জ্যাকব টাওয়ার বা চরফ্যাশন টাওয়ারের নাম। এটি ভোলা জেলার চরফ্যাশনে অবস্থিত। যারা ইতোমধ্যে ভোলার অন্য সব রূপবৈচিত্র্য কাছ থেকে উপভোগ করে ফেলেছেন, তাঁরা এবার যেতে পারেন এই জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ারে। এখান থেকে আপনি দেখতে পাবেন ভোলার চারপাশের সৌন্দর্য; যেমন: মনপুরা দ্বীপ, চর কুকরী-মুকরী, ঢালচর, তারুয়া সৈকত, বঙ্গোপসাগর ও পটুয়াখালী।

২২৫ ফুট উচ্চতার এই ওয়াচ টাওয়ারের চূড়ায় রয়েছে একটি হাই রেজুলেশন বাইনোকুলার, যার মাধ্যমে আপনি চারপাশের ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা কাছ থেকে দেখতে পাবেন। আধুনিক এই ওয়াচ টাওয়ারে ওঠার জন্য সিঁড়ির পাশাপাশি রয়েছে ১৬ জন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ক্যাপসুল লিফট। টাওয়ারের প্রতি তলায় ৫০ জন করে পুরো টাওয়ারে মোট ৫০০ জন দর্শক অবস্থান করতে পারবে।

এছাড়াও এই টাওয়ারেই রয়েছে বিশ্রাম, খাওয়া-দাওয়া ও চিকিৎসার ব্যবস্থা। ভোলা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ পরিচালিত এই টাওয়ারে প্রবেশের জন্যে জনপ্রতি ১০০ টাকা প্রবেশ ফি লাগে, যা আয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

সম্পর্কিত পোস্ট