Home » ভোলার অপরূপ প্রাকৃতিক নিসর্গ মঙ্গলশিকদার

ভোলার অপরূপ প্রাকৃতিক নিসর্গ মঙ্গলশিকদার

কর্তৃক BDHeadline

দেশের দ্বীপ জেলাগুলোর সৌন্দর্য সুধা অপার আকর্ষণে টানে প্রকৃতি প্রেমী ও ভ্রমণ পিপাসুদের। নির্জনতার স্বাদ আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে নিজেকে বিলীন করে দিতে চাইলে চলে যেতে পারেন এই সকল এলাকায় ঘুরতে। এখানে নেই নাগরিক কোলাহল, নেই যান্ত্রিক জীবনের যন্ত্রের বিকট শব্দ, শুধু আছে নয়নাভিরাম প্রকৃতির রূপ মাধুরী আর প্রশান্তিময় নীরবতার আবহ। নিজেকে প্রকৃতির সাথে একাত্ম করতে দ্বীপ জেলা ভোলার তুলনা হয়না। আর এই ভোলার অপরূপ প্রাকৃতিক নিসর্গের এক জায়গা হলো মঙ্গলশিকদার।

ভোলা সদর থেকে প্রায় ৪৫ কি.মি দক্ষিণে লালমোহন উপজেলা। তার ১০ কি.মি পূর্বে মেঘনার তীর-ঘেঁষে এই মঙ্গল শিকদারের অবস্থান। অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা এক জায়গা এই মঙ্গলশিকদার।

লালমোহন দক্ষিণ ভোলার একটি সবুজ প্রাকৃতিক জনপদ যার পূর্বে বিশাল মেঘনা ও পশ্চিমে তেতুলিয়া নদী। এই দুই নদী পারের নৈসর্গিক ও ভয়ংকর সুন্দর জায়গাগুলোই এই এলাকার মূল আকর্ষণ। তাছাড়া মেঘনার মাঝখানে গড়ে ওঠা দ্বীপ গুলো আপনাকে সুন্দরবনের মত অনুভূতি দিবে।

এই চরগুলো অসাধারণ সুন্দর যা অবলীলায় সবার নজর কাড়ে। তাইতো এখানে প্রায় সারা বছরই পর্যটক ও স্থানীয় মানুষদের ভিড় থাকে। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসবে ব্যাপক মানুষের সমাগম হয় এখানে।

চমৎকার এই মঙ্গলশিকদার যেন স্বর্গ। সবুজ জনপদ, পূর্বে বিশাল মেঘনা আর পশ্চিমে তেঁতুলিয়া নদী, মনে হবে যেন ভিন্ন কোন জগতে চলে এসেছেন। এখানকার নদীতীরের জেলেদের দু:সাহসিক জীবনযাত্রা, নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শীতল বাতাস আর ভয়ংকর সুন্দর মেঘনার প্রবল ঢেউয়ের গর্জন আপনাকে নিয়ে যাবেন ভিন্ন জগতে। এর ঠিক পূর্ব পাশেই মনপুরা দ্বীপের অবস্থান।

এই জায়গাটি বঙ্গোপসাগর ঘেঁষা মেঘনা নদীর মোহনা। মঙ্গলশিকদার ঘাটে থাকে শত শত মাছ ধরা নৌকা। দেখতে পাবেন কেউ মাছ ধরে ফিরছে কেউবা রওনা দিচ্ছে। নদীর তীরে বসে শীতল বাতাস আপনার সকল ক্লান্তি নিমিষেই দূরে সরিয়ে দিবে। এই ঘাটের অপর পাড়ে লক্ষ্মীপুর জেলা।

ভোলার মাঝে এক লুকানো মুক্তার মত এই মঙ্গলশিকদার। অপরূপ সুন্দর এই জায়গাটি এখনো পর্যটক জনপ্রিয় হয়ে ওঠেনি। যার ফলে আপনি পাবেন নিরিবিলি অকৃত্রিম পরিবেশে ভ্রমণের আনন্দ। প্রকৃতির মাঝে নিজেকে বিলীন করে দেওয়ার এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর হয়না।

নদীর মাঝে নৌকায় ভেসে বেড়ানো, চরে চরে ঘুরে বেড়ানো, নদীর স্রোতে সূর্যোদয় আর অস্ত যাওয়ার অপার সৌন্দর্য দেখতে এমনই একটি অবসর চাই। আর তা আপনি পাচ্ছেন এখানে।

চিরায়িত বাংলার ঐতিহ্য আর রূপ খুঁজে পাবেন এখানে। মাছে ভাতে বাঙালী যার অনেকটা যথার্থতা এইখানে পাবেন। তাজা তাজা মাছ কোন রকম ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়া পাবেন এখানে। প্রাকৃতিক নিসর্গের সাথে পেট পুরে নিখাদ ভোজনবিলাসীর সুযোগ পাচ্ছেন এখানে।

যেভাবে যাবেন
ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬ টায় লালমোহন এর লঞ্চ ছাড়ে। লালমোহন এসে পৌঁছবেন পরদিন সকাল ৫/৬টায়। লালমোহন থেকে ঢাকার লঞ্চ ছাড়ে বিকাল ৪টায়।

লঞ্চে ভাড়া পড়বে সিঙ্গেল কেবিন-৮০০, ডাবল কেবিন-১৬০০ টাকা। লালমোহন থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে পৌঁছাতে পারবেন মঙ্গল-শিকদারে। ভাড়া পড়বে জনপ্রতি ৫০ টাকা।

যেখানে থাকবেন
লালমোহন সদর এ বিভিন্ন হোটেল আছে। এছাড়া ডাকবাংলো ও আছে। চাইলে সেখানেও থাকতে পারেন।

সম্পর্কিত পোস্ট