বয়স ৩০ পেরিয়ে যাচ্ছে? কী করেছেন আর কী করবেন

59

সময় কারো জন্য পড়ে থাকে না। দিন যায়,রাত আসে। এভাবে জীবন থেকে হারিয়ে যায় একেকটা দিন, রাত। কারো কাছে জীবনটা বড্ড বড় মনে হয় আবার কেউ ভাবেন জীবনটা বেশ ছোট। এমন ভাবনা নির্ভর করে জীবনকে কিভাবে দেখছি তার উপর।

জীবনকে কতটা সহজ ভাবে গ্রহণ করে, সকল উত্থান পতনকে মেনে নিয়ে চলছি সবাই দিনশেষে সুখি হতে চায়। ত্রিশ বছর জীবনের একটি বেশ দীর্ঘ সময়, এই সময়ে জীবনের অনেক ভাবনাই কড়া নাড়তে পারে মনের দরজায়।

কী করেছি, কী পেয়েছি বা কী হারিয়েছি। জীবনের এই হিসাব মিলবে না কখনোই। তবুও বয়স ৩০ এর কোঠায় পৌঁছানোর আগেই কিছু বিষয় এড়িয়ে না গিয়ে সেগুলোকে যদি সাথে নিয়ে চলতে পারি, ৩০ বছর বয়সটা হবে না আফসোসের বয়স।

১. পিতামাতার সাথে কম সময় কাটানো
৩০ বছর বয়সে অনেকেরই একটি অনুশোচনা বোধ জাগ্রত হয়, আর তা হলো বাবা মার সাথে অধিক সময় না কাটানোর জন্য। যখন তারা ছোট ছিলেন, সহজেই কাটাতে পারতেন বাবা মার সাথে অনেক সময়। তাই যতটা সম্ভব বাবা মার সাথে বেশি সময় কাটাতে হবে। তাদের সাথে গল্প করে বা ঘুরে আসতে পারেন কোথাও থেকে। তাই যথাসম্ভব অধিক সময় কাটান বাবা মা র সাথে।

২. উচিত-অনুচিত
৩০ বছর বয়সে সামাজিক ভাবে সবসময়ই অনুভব করতে পারেন, কি করা উচিৎ। কিন্তু কি করবেন বা কি করা উচিৎ এই ভাবনাটিকে কখনোই প্রশয় দিবেন না, যেন তা আপনাকে পিছুপা করে দেয়। আপনার ভাবনায় আসতে পারে , আপনার একটা বাড়ি কেনা উচিৎ, বাচ্চা নিতে হবে,বিয়ে করা উচিৎ অথবা একটি অবিচলিত বাহক থাকা উচিৎ যা হবে অর্থ উপার্জন এর মাধ্যম। এইসব ভাবনাকে ছুঁড়ে ফেলুন, তাই করুন যা আপনাকে সুখী করবে। হতাশ হয়ে পড়বেন না কারণ আপনার জীবন পথভ্রষ্ট হচ্ছে এইসব নিয়মচালিত আদর্শ থেকে। জীবনটাকে একবারই পেয়েছেন আর তাই উপভোগ করুন মন ভরে।

৩. কাজকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া
সবসময় কাজকে সবকিছুর ঊর্দ্ধে গুরুত্ব দিলে জীবনে আফসোসের পাল্লাটা হতে পারে ভারী। মাঝে মধ্যে সময় কাটান তাদের সাথে যাদের আপনি ভালোবাসেন। কারণ এই মূল্যবান মুহুর্তগুলো আপনি কখনোই অর্থ বা আফসোস দ্বারা আর কখনোই ফিরে পাবেন না।

৪. নেতিবাচক ভাবনায় সময় কাটানো
আপনি কি ভাবছেন, যে নেতিবাচক ভাবনাগুলো এখন আপনাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, সেগুলো ৩০ বছর বয়সে আর আপনাকে তাড়া করবে না। আপনি ভুল ভাবছেন। আজকের নেতিবাচক ভাবনার অনেক কিছুই তখনো আপনার জীবনের এদিক সেদিক ঘুরে বেড়াবে। কাজেই নেতিবাচক ভাবনায় আর সময় নষ্ট করবেন না। সর্তক থাকুন সে সব মানুষদের জন্য যারা আপনাকে, আপনার ব্যাপারে ভালো বোধ করাচ্ছে না এবং পূর্ণবিচার করুন তাদের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি। সতর্ক থাকুন সেইসব নেতিবাচক ভাবনা নিয়ে যেগুলোর উপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। আর তাই ঔসব ভাবনাগুলো মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে সুন্দরভাবে বাঁচুন।

৫. নিজেকে বয়স্ক ভাবা
“আমার বয়স হয়ে গেছে” বা “এসবের আর বয়স নেই” ৩০ বছর বয়সে সবারই এরকম খুব সাধারণ একটি ভাবনা মাথায় কাজ করে। আপনি কখনোই বয়স্ক নন, এমনকি পঞ্চাশ ষাট বছর বয়সের অনেকেই এখনো এই বিষয়ের সাথে একমত প্রকাশ করবে। ২০ বছর বয়স থেকেই জীবনকে উপভোগ করার মতো সবকিছুই আপনি করতে পারবেন এবং এখনো ত্রিশ বছর বয়সেও সেটা আপনি পারবেন। এই বিশ্বাসের সুযোগটা লুফে নিন, জীবনটাকে উপভোগ করুন যতদিন পারুন আর নিজের ভেতরের বাচ্চাসুলভ মনকে দিবেন না কখনোই হারাতে।

৬. নিজেকে প্রাধান্য না দেওয়া
আপনি হয়তো সবাইকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, নিজেকে বাদ রেখেই। অপরের প্রয়োজনটাকে নিজের প্রয়োজনের চেয়েও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বের হয়ে আসুন এরকম ভাবনা থেকে। জেনে রাখুন, যখন নিজেকে সবার আগে প্রাধান্য দিবেন, দেখবেন সবার গুরুত্বের জায়গাগুলোও আপনি ঠিকভাবে পালন করতে পারছেন। নিজের চাহিদাগুলো সবার প্রথমে রাখার ব্যাপারটি আপনাকে সুখি রাখবে সবসময়। যা আপনার চারপাশের সম্পর্কগুলোকে আরো মজবুত করবে। আপনি যদি নিজের অবস্থানের ব্যাপারে সচেতন হোন তাহলে ৩০ বছর বয়সে অনুতাপের জায়গাগুলোও কম থাকবে। আর তাই প্রথমে নিজের স্বপ্নে বাঁচা শিখুন।

৭. নিজের সঠিক যত্ন না নেওয়া
আপাতবিরোধী হলেও সত্য, একদিকে আপনি বলছেন আপনার এসব করার বয়স নেই আবার আপনি ছোটদের মতো বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খাচ্ছেন অবলীলায়। এই অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করা কঠিন হলেও অসম্ভব নয়। তাই নিজের শরীর এবং স্বাস্থ্যের সঠিক যত্ন নিন সবসময়।

৮. সুযোগের সদ্ব্যহার না করা
হয়তো এখন আপনি এখন অনেক বেশি সতর্ক প্রতিটি সুযোগের সঠিক ব্যবহারের ক্ষেত্রে। কিন্তু যদি অতীতের কোনো সুযোগ হারানোর যন্ত্রণা তাড়া করে বেড়ায় এখনো তাহলে এই ভাবনাটি ৩০ বছর বয়সে হতাশার একটি কারণ হতে পারে। কোনো সুযোগকেই তাই হাত ছাড়া করবেন না। আজকের বড় সুযোগকে অবহেলায় হারিয়ে যেতে দিবেন না। সুযোগের সঠিক ব্যবহার না করার ভাবনাটি যেন আপনাকে কখনো তাড়িত না করে সেইজন্য প্রতিটি সুযোগের জন্য আরো বেশি সচেতন হোন।

৯. মিতব্যয়ী না হওয়া
৩০ বছর বয়সের বিশাল একটি অংশের মানুষের অনুতাপ বোধ কাজ করে, আর তা হলো মিতব্যয়ী না হওয়া। আপনি যদি আগের থেকেই মিতব্যয়ী হন এবং অর্থের কিছু অংশ জমা রাখুন। আপনি যখন অবসর নিবেন তখন নিজেকেই দিতে পারবেন বড় একটি পুরস্কার। অবসর কাটাতে পারবেন স্বচ্ছলভাবে। আর আপনি যদি এই ৩০ এ বা তার আগে খরচ করেন না ভেবে আপনার অবসরজীবন স্বচ্ছল হবে না। তাই খরচ করবেন ভেবে চিন্তে আর ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানো শুরু করুন এখন থেকেই।

১০. ভ্রমণ না করা
পৃথিবীটা এখন আপনার হাতের মুঠোয়, আর তাই ভ্রমণের মতো আনন্দদায়ক বিষয়টিকে হাত ছাড়া করা উচিত হবে না। দেরি না করে এখনই তৈরি হয়ে যান ভ্রমণের জন্য। একটা বয়সে হয়তো ভ্রমণের জন্য শারীরিক অবস্থা থাকবে না। তাই ৩০ বা ৫০ এ যে বয়সই হোক, ভ্রমণ না করার অতৃপ্তি যেন মনকে গ্রাস না করে।

১১. অন্যের ভাবনাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া
দেখা যায় এই বয়সে অনেকেই অন্যের ভাবনার জন্য নিজেকে দোষী মনে করেন। এই বয়সে এরুপ অহেতুক ভাবনার পেছনে মোটেও সময় নষ্ট করবেন না। বন্ধ করুন সময় এবং শক্তি ব্যয় করা, সেসব মানুষের জন্য যারা আপনাকে নিয়ে আক্ষরিক অর্থে একদমই ভাবছে না। যে আপনার জন্য ভাববে সে আপনি যেরকম সেভাবেই গ্রহণ করবে। কারো জন্য নিজেকে অহেতুক পরিবর্তন করে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর কোনো প্রয়োজন নেই। নিজেকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। বিশ্বাস করুন আপনি যেরকম সেভাবেই আপনাকে যারা ভালোবাসার তারা ভালোবাসবে।