ব্যথা হতে পারে মারাত্মক রোগের লক্ষণ

39
ছবি: সংগৃহীত

ব্যথা অনুভুতির মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের দেহের ভেতরগত কোনো পীড়া বা অসুস্থতা অথবা জখম সম্পর্কে জানতে পারি। কারণ ব্যথা হলো এমন কোনো সমস্যার লক্ষণ যা কোনো রোগের ফলে সৃষ্ট প্রদাহ বা ইনফেকশনের ফলে সৃষ্টি হয়। যখন আপনার দেহের কোনো বিশেষ অংশের স্নায়ু বা টিস্যু প্রদাহ বা সংক্রমণে আক্রান্ত হয় তা থেকে ব্যথা হতে পারে। কেননা প্রদাহ বা সংক্রমণ রক্তপ্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

কিছু ব্যথা এতটাই তীব্র হয় যে লোকে ডাক্তারের শরাণাপন্ন হন। আবার কিছু ব্যথা একমই তীব্র হয় না। ফলে লোকে তা অগ্রাহ্যই করেন। যার ফলে বড় কোনো রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা না পড়ে একেবারে বিপদসীমা অতিক্রম করে যায়। সুতরাং কোন ধরনের ব্যথাগুলো অগ্রাহ্য করা উচিত নয় তা জানা থাকাটা জরুরি। আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন ১৩টি ব্যথা সম্পর্কে যেগুলো অগ্রাহ্য করাটা একদমই ঠিক হবে না। আজ প্রথম পর্বে দেওয়া হলো ৭টি ব্যথার আসল কারণ।

১. বুক ব্যথা
হৃৎপিণ্ডের সমস্যা হলে বুকে ব্যথা হয়। বুকে ব্যথা হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ। এর মানে হলো আপনার রক্তে অক্সিজেন পৌঁছাতে সমস্যা হয়। বুকের এই ব্যথা আপনার চাপা, কাধ এবং গলা পর্যন্তও ছড়িয়ে যেতে পারে। এ ধরনের ব্যথা এড়িয়ে যাবেন না। এ রকম হলে অবশ্যই সচেতন হোন। নয়তো পরে ভুগতে হতে পারে।

২. হাত ব্যথা
যদি আপনি আঙ্গুলে, হাতে, হাতের তালুতে এবং কবজিতে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা কিংবা অসাড় হওয়া অনুভূতি টের পান, তাহলে আপনি কার্পেল টানেল সিনড্রোমে ভুগছেন। তাড়াতাড়ি চিকিৎসকের শরনাপন্ন না হলে আপনার হাতের পেশি শুকিয়ে যেতে পারে এবং হাত স্থায়ীভাবে অবশ হয়ে যেতে পারে।

৩. ঘাড়ে ও কাঁধে ব্যথা
মেরুদণ্ডের ওপরের সাতটি কশেরুকা ও দুই কশেরুকার মাঝখানের ডিস্ক, পেশি ও লিগামেন্ট নিয়ে সারভাইক্যাল স্পাইন বা ঘাড় গঠিত। মাথার হাড় (স্কাল) থেকে মেরুদণ্ডের সপ্তম কশেরুকা পর্যন্ত ঘাড় বিস্তৃত। আট জোড়া সারভাইক্যাল স্পাইন নার্ভ (স্নায়ু) ঘাড়, কাঁধ, বাহু, নিচু বাহু এবং হাত ও আঙুলের চামড়ার অনুভূতি ও পেশির মুভমেন্ট প্রদান করে। সারভাইক্যাল স্পনডাইলোসিস, সারভাইক্যাল স্পনডাইলাইটিস, সারভাইক্যাল স্পনডাইলিসথেসিস, অস্বাভাবিক পজিশনে নিদ্রা বা অনিদ্রা, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগ, হাড় ও তরুণাস্থির প্রদাহ ও ক্ষয় ইত্যাদি কারণে ঘাড়ে ও কাঁধে ব্যথা হয়। এছাড়াও ফুসফুসের সমস্যা শুরু হয় ঘাড় ও কাঁধে ব্যথার মধ্য দিয়ে। অনেক সময় অঙ্গবিন্যাসের অসুবিধার কারণে এসব জায়গায় ব্যথা হয়। তবে ফুসফুসের সমস্যার একটি বড় লক্ষণও কিন্তু এটি। আবার এই ব্যথা লিভার ও পিত্তথলির সমস্যাও নির্দেশ করে।

৪. পেটে ব্যথা
পেটের ব্যথাও সচরাচরই হয় বেশিরভাগ মানুষের। বিশেষ করে আপনি যদি এসিডিটি বা গ্যাসের মতো সাময়িক কোনো পেটের পীড়ায় ভুগে থাকেন। আপনার যদি পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয় বা ক্ষুদ্রান্ত্রে কোনো সমস্যা হয়, তাহলে পেট ও পিঠের নিচে ব্যথা করতে পারে। ৫০ শতাংশ লোকের ক্রনিক প্যানক্রিয়াটিটস হলে পেছনে ব্যথা হয়। তবে আপনার তলপেটে যদি ক্রমাগত তীব্র ব্যথা হতে থাকে তাহলে তা হতে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের লক্ষণ। এই ধরনের অগ্রাহ্য করলে মৃত্যুও হতে পারে। অ্যাপেনডিক্সের ব্যথা হলে তলপেটের পুরো ডান অংশে ব্যথা হয়। তলপেটের মাঝামাঝি ব্যথা কোলন ও রেকটামের সমস্যা নির্দেশ করে। এই ব্যথাগুলো হলে কখনোই এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। এমন হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান। শিরদাড়ার নিচে ডানদিকে ব্যথা হলে এবং সেইসঙ্গে জ্বর, সর্দি অথবা বমি বমি ভাব হলে আপনি ধরে নিতে পারেন আপনার অ্যাপেনডিসাইটিস হয়েছে। দেরি না করেই অপারশেন করানোর জন্য ছুটুন। নতুবা অ্যাপেনডিক্স ফেটে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে পারেন।

৫. তীব্র মাথা ব্যথা
বেশিরভাগ মানুষই প্রায়ই মাথা ব্যথা অনুভব করেন। তবে হঠাৎ করে তীব্র মাথাব্যথা শুরু হলে আপনি ব্রেইন অ্যানুরিজমে আক্রান্ত হতে পারেন। এটি তীব্রতর হলে আপনার ব্লাড ভেসেল ফেটে যেতে পারে। যেটা থেকে আপনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হতে পারেন অথবা মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহ হতে পারে। সুতরাং মাথা ব্যথা দেখা দিলেই ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করুন। এছাড়া স্ট্রেস থেকে শুরু করে ক্যান্সারের মতো মারাত্মক কারণেও মাথা ব্যথা হতে পারে। সুতরাং কখনোই মাথা ব্যথা হলে অগ্রাহ্য করবেন না। সাথে সাথে মেডিকেল টেস্ট করাবেন। মাথায় ক্রমাগত তীব্র ব্যথা হতে মস্তিষ্কে টিউমারের উপস্থিতি বা হৃদরোগের লক্ষণ।

৬. পিঠের মাঝখানটায় ব্যথা
কিডনির সমস্যা সাধারণত নির্ণয় করা কঠিন। কারণ, এতে অনেক জায়গায় ব্যথা হতে পারে। যেমন—কোমর, পেটের নিচে, শ্রোণি ইত্যাদি অংশে। এসব অংশের ব্যথা হলে সতর্ক হোন। কিডনিজনিত ব্যথা সাধারণত মেরুদণ্ড থেকে একটু দূরে ডান বা বাম পাশে হয়। এটি পেছনের পাঁজরের নিচের অংশে অনুভূত হওয়ার কথা। এই ব্যথা নড়াচড়া করে এবং কোমরের দুই পাশেও যেতে পারে। এই ব্যথা থেকে থেকে আসে, শোয়া-বসা বা কোনো কিছুতেই আরাম মেলে না। তবে কিডনির সমস্যায় ব্যথা মূল উপসর্গ নয়, এর পাশাপাশি শরীরে পানি আসা, দুর্বলতা, অরুচি, বমির ভাব দেখা দেয়। সংক্রমণ হলে জ্বর হতে পারে এই ব্যথার সঙ্গে।

৭. পিঠ ব্যথা
বেশিরভাগ মানুষই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে পিঠে ব্যথা অনুভব করেন। বিশেষ করে বয়স বাড়লে এই ধরনের ব্যথা হয়। পিঠের মাংসপেশি দেহের ওপরের এবং নিচের উভয় অংশকেই সাপোর্ট করে। ফলে বেশ চাপ পড়ে এর ওপর। আপনার পিঠে যদি ক্রমাগত ব্যথা হতে থাকে এবং সাথে পায়ের আঙ্গুলে ও পায়ের পাতায় অস্বস্তিকর অনুভুতি হয় তাহলে বুঝতে হবে আপনার মেরুদণ্ডের কোনো একটি ডিস্ক হয়তো ভেঙ্গে গেছে। সুতরাং তা অগ্রাহ্য করা ঠিক হবে না।

সূত্র: দেহ.টিভি