Home » বান্দরবান ভ্রমনের খুঁটিনাটি খরচ

বান্দরবান ভ্রমনের খুঁটিনাটি খরচ

কর্তৃক BDHeadline

Tour-bd.com: ঢাকা থেকে রাতে শ্যামলী পরিবহনে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করি। সেখান থেকে বাসে করে যাই থানচি। থানচির পথে দুই জায়গায় নাম লিখতে হবে ও কাগজপত্র জমা দিতে হবে। থানচি পৌঁছে কিছু কাজ আছে। সেগুলি গাইডের সহযোগিতায় সহজেই করা যায়। থানচি থেকে বিকাল ৪ টার আগেই নৌকায় উঠতে হবে। তাই মোটামুটি সব কাজ তিনটার মধ্যে শেষ করতে পারলেই ভালো হয়।

লোক সংখ্যা ৫ এর গুণিতক মানে ৫,১০,১৫ হলেই ভালো হয়। বিজিবি একটি নৌকাতে ৫ জনের বেশি চড়তে দেয় না। তাই সদস্য সংখ্যা ৫ এর গুণিতক হলে খরচ বেশি পড়বে না। থানচি থেকে নৌকায় রেমাক্রি যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লাগে। আবহাওয়া ভালো থাকলে আরও কম সময়ে যাওয়া যায়। রেমাক্রি অসাধারণ।

রেমাক্রিতে থাকার বেশ ভালো ব্যবস্থা আছে। সেখানে রাত্রিযাপন না করলে বোঝা যায় না প্রকৃতির রূপ কতটা বেখেয়ালি। রাতে রেমাক্রি ফলসের কল কল শব্দ, ঝি ঝি পোকাদের অনবরত গুনগুন আর নদী পাহাড়ের অকৃত্রিম মেলবন্ধন চোখে পড়ে। একদিন রেমাক্রি থেকে পরের দিন নাফাখুমের জন্য যাত্রা করতে হবে। রেমাক্রি খালে পানি বেশি থাকলে নৌকা নিয়েই নাফাখুম যাওয়া যায়।

সাজেস্ট করব হেটে যাওয়ার। তাহলে আপনি প্রকৃতিকে তার মতো করে উপভোগ করতে পারবেন। আর হটাত আপনার মনে হতে পারে আপনি হয়তো একুশ শতক থেকে প্রাচীন কোন জনপদে চলে এসেছেন যেখানে নেই আধুনিকতার তেমন কোন নিদর্শন। মোটামুটি তিন ঘণ্টা হেটে রেমাক্রি পৌঁছাতে হয়। পথে অনেকবার রেমাক্রি খাল পার হতে হবে। কখনো হাঁটু পানি বা কখনো বুক পানি। বলে রাখা ভালো, থানচি থেকে একটা প্লাস্টিকের স্যান্ডেল আর একটা পলিথিনের ব্যাগ অবশ্যই নিবেন। স্যান্ডেল আপনার ইচ্ছামত অন্য কোথাও হতে নিতে পারেন।

নাফাখুমে থাকার তেমন কোন ব্যবস্থা নেই বললেই চলে, একটা দুটো ঘর বাড়ি আছে, কিন্তু ব্যবস্থা তেমন ভালো না। নাফাখুম থেকে যদি জিনাপাড়া যেতে হয় তবে লাগবে আরও তিন ঘণ্টার মতো। তবে সময় যেটাই লাগুক, প্রকৃতি কখনই হতাশ করবে না। পথ কখনো কখনো বেশ কঠিন হয়ে যেতে পারে। গাইডের সহায়তায় সেটা পার হওয়া যায়।

জিনাপাড়া যেতে আবারো কয়েকবার খাল পাড় হতে হয়। এভাবে কেটে যাবে আরও একটা দিন। জিনাপাড়া ছাড়াও থুইসা পাড়াতে রাত কাটানো যায়। থুইসা পাড়ার থাকার ব্যবস্থা ভালো। জিনাপাড়া হোক আর থুইসা পাড়া হোক ওখানকার মানুষের আথিতেয়তা মন কেড়ে নেয়।

পরদিন অমিয়াখুম যাবার জন্য বের হতে হবে সকাল সকাল। অমিয়াখুম যেতে উঁচু উঁচু কয়েকটি পাহাড় চড়তে হয়। সবশেষে সবচেয়ে উঁচু দেবতা পাহাড়। নামের সাথে মিল আছে তার উচ্চতার। আর এই পাহাড়ের নিচেই হলো অমিয়াখুম। দেবতা পাহাড় থেকে নামার পথ খুবই বিপদজনক। বৃষ্টি হলে তো কথাই নেই। জিনাপাড়া থেকে এই জন্যই আরও একজন গাইড সাথে নিয়ে আসতে হয়।

অমিয়াখুম পৌছাতে তিন ঘণ্টার মতো লাগে। সেখান থেকে ভেলাখুম যাওয়া যায়। দেবতা পাহাড় থেকে নেমে অমিয়াখুম আসতে যে সময় লাগে যাবার সময় দেবতা পাহাড়ে উঠতে অনেক কম সময় লাগে কিন্তু কষ্টটাও যেন বৃদ্ধি পায়। মাঝে মাঝে দম বন্ধ হবার অবস্থা হতে পারে বেশি তাড়াহুড়া করতে গিয়ে। এতটা খাড়া পাহাড়ে চড়ার অভিজ্ঞতা অনেকেরই থাকে না। এরপর ফিরে আসতে হবে রাতে থাকার জন্য।

এবার ঘরে ফেরার পালা। জিনাপাড়া, থুইসাপাড়া থেকে ফেরার দুটো রাস্তা আছে। যারা এডভেঞ্চার, হাইকিং পছন্দ করেন তাদের জন্য পদ্মঝিরি বেস্ট। প্রায় সাত ঘণ্টা পাহাড়ি রাস্তা, ঝিরিপথ দিয়ে হেঁটে পৌছাতে হবে পদ্মঝিরি। মাঝে দুটি পাড়া পাওয়া যাবে। শুকনো খাওয়াদাওয়া থেকে করা যাবে। পদ্মঝিরি থেকে নৌকায় থানচি।

আর অন্যটি হল যে রাস্তা হয়ে আসা মানে রেমাক্রি ফিরে সেখান থেকে নৌকায় থানচি। একটা কথা বলে রাখি, থানচির পরে আপনি যেখানেই যাবেন অতিরিক্ত মূল্য গুনতে হবে ক্রয়কৃত জিনিসের। তাই বহনযোগ্য কিছু হালকা খাবার আগে থেকেই নিয়ে নিলে ভালো হয়। রেমাক্রি থেকে যতই ভিতরে যাবেন ততই আপনি অসহায়। বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি অনেক কম। মাঝে মাঝে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখাও পাওয়া যায়। ভয় নেই, এসময় গাইডের কথা মেনে চলবেন। তবে বেশি স্মার্টনেস দেখিয়ে বিপদ ডেকে না আনাই ভাল।

আসা-যাওয়া, থাকা-খাওয়ার খরচ
গাইড: ৫৫০০ টাকা
ঢাকা থেকে বান্দরবান: ৬২০ টাকা
বান্দরবান থেকে থানচি: ২০০ টাকা (বাস)
থানচি থেকে রেমাক্রি (নৌকা): ২৫০০ টাকা একটা নৌকা
থাকার খরচ: ১২০ টাকা (একরাত)

খাবার: ১৫০ টাকার মধ্যে প্রতি বেলা। খাবারের কোয়ালিটি নিয়ে কিছু বলব না, এত দুর্গম এলাকায় যা পাওয়া যায় তাই খেতে হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট