Home » বান্দরবানের সেরা পাঁচ রিসোর্ট

বান্দরবানের সেরা পাঁচ রিসোর্ট

কর্তৃক BDHeadline

অবকাশ যাপন, হানিমুন, আনন্দ ভ্রমণ ও অ্যাডভেঞ্চার প্রিয়দের জন্য আদর্শ স্থান পর্যটন শহর পাহাড়ি জেলা বান্দরবান। যান্ত্রিক জীবনের নানা কর্মব্যস্ততার ফাঁকে সুযোগ পেলেই প্রকৃতিপ্রেমিরা ছুট দেয় পাহাড়ি এ জেলায়। বান্দরবানের রয়েছে সমতল থেকে সম্পূর্ন আলাদা এক আবহ। এখানকার প্রকৃতি, সংস্কৃতি, খাদ্যাভ্যাস এমনকি মানুষ ও সমতল থেকে অনেক আলাদা ও বৈচিত্র্যপূর্ণ।

প্রায় যেকোন পর্যটককেই মায়ায় বেঁধে ফেলার ক্ষমতা রাখে বান্দরবান, বার বার ফিরে আসতে চায় তারা এখানে। আর প্রায় সব ধরণের পর্যটকদের জন্যেই উপযুক্ত আবাস ব্যবস্থা আছে এখানে। তাদের মধ্য থেকে গুনে, মানে, রূপে ও সেবায় সর্বশ্রেষ্ঠ ৫ রিসোর্ট নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন। এই রিসোর্ট গুলো বাংলাদেশের রিসোর্ট সম্পর্কে আপনার ধারণা পাল্টে দেয়ার ক্ষমতা রাখে!

গ্রীন পিক রিসোর্ট
বান্দরবানের জনপ্রিয় পর্যটন স্পট মেঘলা’র মাত্র আধ কিলোমিটার দূরত্বে রিচায় অবস্থিত অসাধারণ এই রিসোর্ট টি। আধুনিক উপকরণে সজ্জিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরা, নীল জলের সুইমিংপুল, দৃষ্টিনন্দন সবুজ প্রকৃতি এই রিসোর্ট কে করে তুলেছে অনন্য।

বারান্দায় দাড়ালে যেদিকে যতদূর চোখ যায় শুধু সবুজ আর সবুজই দেখতে পাবেন। রিসোর্টের অভ্যন্তরেই আছে মাল্টিকুইজিন রেস্তোরাঁ, যার খাবার ও প্রশংসা কুড়িয়েছে গ্রাহক দের।

তবে সবকিছু ছাপিয়ে গ্রীন পিক রিসোর্টের অনন্যতা সম্ভবত এর সেবায়। হসপিটালিটি ও পরিচ্ছন্নতার জন্য ট্রিপ এডভাইজরে বেশ ভালো রিভিউ পায় এই রিসোর্ট। এখানে থাকতে হলে রুম ভেদে খরচ পড়বে ৩০০০-৪০০০ টাকা। এদের সকল রুমই এয়ারকন্ডিশন্ড।

নীলাচল এস্কেপ রিসোর্ট
বান্দরবান শহরের অন্যতম সুন্দর পর্যটন কেন্দ্র নীলাচল। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬শ’ ফুট উঁচু এই জায়গায় বর্ষা, শরৎ কি হেমন্ত— তিন ঋতুতে ছোঁয়া যায় মেঘ। এছাড়া এখানে দাঁড়িয়ে দূর থেকে দেখা যায় বান্দরবান শহর আর পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নদী।

বান্দরবান শহর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে টাইগারপাড়া এলাকা। সেখানকার পাহাড়ের চূড়ায় বান্দরবান জেলা প্রশাসন গড়ে তোলে আকর্ষণীয় এই পর্যটন কেন্দ্র। নাম দেয়া হয় নীলাচল পর্যটক কমপ্লেক্স।

এখানকার রিসোর্ট এর নামই নীলাচল স্কেপ রিসোর্ট। সাধারণ পর্যটকদের জন্য এ জায়গায় সূর্যাস্ত পর্যন্ত থাকার অনুমতি আছে। তবে রিসোর্টের অতিথিদের জন্য সর্বক্ষণই খোলা এ জায়গা।

নীলাচল স্কেপ রিসোর্টে তিনটি কটেজে ছয়টি কক্ষ আছে। প্রতিটি কক্ষের ভাড়া ৩ হাজার টাকা। এছাড়া রিসোর্টের অতিথিদের জন্য ভালো মানের খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন কর্তৃপক্ষ।

মিলনছড়ি হিলসাইড রিসোর্ট
মিলনছড়ি বান্দরবান শহর থেকে ৪ কিঃমিঃ দক্ষিণ পূর্বে শৈলপ্রপাত বা চিম্বুক যাওয়ার রাস্তার পাশে অবস্থিত হিলসাইড রিসোর্ট। পাহাড়ের বেশ উপরে রাস্তার ধারের এই রিসোর্ট থেকে দেখতে পারবেন পূর্ব প্রান্তে অবারিত সবুজের খেলা এবং সবুজ প্রকৃতির বুক ছিঁড়ে সর্পিল গতিতে বয়ে যাওয়া সাঙ্গু নামের মোহনীয় নদীটি।

এই রিসোর্টের নির্মানশৈলীর মধ্যেই যেন পরিবেশের সাথে নিবিড় ভাবে মিশে যাওয়ার ব্যাপারটা আছে। ঘর গুলোতে বাঁশ ও কাঠের সুনিপুন ব্যবহার দেখতে পাবেন, যা আপনাকে কিছু সময়ের জন্য হলেও ইট-সুরকির দুনিয়া ভুলে থাকতে সাহায্য করবে।

এখানে পাবেন জনপ্রিয় ব্যাম্বু চিকেন সহ বান্দরবানের নানা অথেন্টিক আদিবাসী খাবার।

এখানে রয়েছে এসি/ননএসি দুই ধরণের কামরা, রয়েছে একটি ডরমিটরি ও। কামরা ভেদে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৯০০ থেকে ৩৫০০ টাকার মত। বান্দরবান শহর থেকে রিসোর্টে ফ্রি যাতায়াত সুবিধা পাবেন এই ভাড়ার মধ্যেই।

নীলগিরি হিল রিসোর্ট
পাহাড়ের চুড়ায় নীলগিরির পাদদেশে যেখানে মেঘ আর পাহাড় খেলা করে প্রকৃতির আপন খেয়ালে, সেখানেই রয়েছে নীলগিরি হিল রিসোর্ট। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত রিসোর্ট এটি, তাই এখানে হলে পূর্বেই সেনাবাহিনীর কাছ থেকে থাকার অনুমতি পত্র সংগ্রহ করতে হবে।

চমৎকার, ছিমছাম, গোছানো এক কথায় দৃষ্টিনন্দন এই রিসোর্ট। এখানে জ্যোৎস্না রাতে ঘাসের চাদরে শুয়ে চাঁদের আলোতে স্নান আপনার মনে এক নেশা জাগানো অনুভূতি তৈরি করবে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪’শ ফিট উপরে নীলগিরি পাহাড়, তাই সকাল বিকাল মেঘের আনাগোনা চলে এখানে। বর্ষাতে যেতে পারেন এখানে, বৃষ্টির আগের কালো মেঘ আর বৃষ্টির ঠিক পরের নিচের স্তরে থাকা হালকা সাদা মেঘের দল যখন-তখন দুম করে এসে ঢেকে দেবে আপনাকে।

এখানে খাবারের জন্যও সুব্যবস্থা রয়েছে। সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ নজরদারীতে এখানে তৈরি হয় স্বাস্থসম্মত খাবার। বাশের খোলে পানিবহীন ভাত ও মাংস আপনার জ্বিভে জল আনবে নিঃসন্দেহে। অসাধারণ স্বাদ।

এখানে মোট ৫টি কটেজ আছে। এর মধ্যে “মেঘদূত” সবচেয়ে বড়। তারপরে বড় আছে “শংখনীল” এরপর “আকাশমনি” আর হানিমুন কটেজ “মারমারাইসা” যা একরুম বিশিষ্ট। খরচ পড়বে ৬-৭,০০০ টাকা থেকে শুরু ১১-১৩,০০০ পর্যন্ত।

সাইরু হিলসাইড রিসোর্ট
বান্দরবান জেলা শহর থেকে মাত্র ১৮ কিলোমিটার দূরে। চিম্বুক পাহাড়ে যাবার পথেই সাইরু হিল রিসোর্ট। এটি শুধু বান্দরবনের সেরা রিসোর্ট ই নয়, সেইসাথে দেশের যেকোন সেরা রিসোর্টের সাথে টেক্কা দেয়ার যোগ্যতা রাখে সাইরু।

বারান্দায় দাড়ালেই দেখবেন পাহাড়ের প্যানারোমিক দৃশ্য আর সাঙ্গুর সর্পিল বয়ে যাওয়ার দৃশ্য। দেশি-বিদেশি দারুন সব মুখরোচক খাবারের পাশাপাশি এখানে স্বাদ নিতে পারেন বান্দরবানের ট্রাডিশনাল খাবারের ও।

সেবায়, মানে, আধুনিকতায় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর সাইরুকে এককথায় ভ্যাকেশন ডেসটিনেশন এর কমপ্লিট প্যাকেজ বলা যায়! তবে এই প্যাকেজ উপভোগ করতে হলে গুনতে হবে বেশ ভালো অংকের টাকা।

প্রিমিয়ার, এক্সিকিউটিভ, সাঙ্গু ভিউ সাথে ছাদ এবং শুধু সাঙ্গু ভিউ- এরকম নামে এখানে আছে ২০টির মতো কটেজ। যেগুলো আপনি পাবেন ৭,৫০০ থেকে শুরু করে ১৭ হাজার ৫০০ টাকার বিনিময়ে।

কীভাবে যাবেন
রাজধানী থেকে সড়ক পথে সরাসরি বান্দরবানে যাওয়া যায়। ঢাকার ফকিরাপুল, কমলাপুর ও সায়দাবাদ থেকে শ্যামলী পরিবহন, সেন্টমার্টিন পরিবহন ও বিআরটিসির এসি বাস যায়। ভাড়া ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২শ’ টাকা।

এছাড়া এসব জায়গা থেকে শ্যামলী পরিবহন, সেন্টমার্টিন, সৌদিয়া পরিবহন, এস আলম পরিবহন, ইউনিক সার্ভিসের নন এসি বাসও যায় বান্দরবান। ভাড়া ৬শ’ থেকে ৭শ’ টাকা।

বান্দরবান শহর থেকে বিভিন্ন রিসোর্টে যাওয়ার জন্য ভাড়ায় পাওয়া যায় অটো রিকশা, চাঁদের গাড়ি (খোলা জিপ) ও জিপ। দলের আকার ও দূরত্ব অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বাহনটি ভাড়া নিতে হবে।

সম্পর্কিত পোস্ট