বাংলার পাখি চাতক

35

চাতক, পাকড়া পাপিয়া বা পাপিয়া কুকুলিডি গোত্র বা পরিবারের অন্তর্গত এবং ক্ল্যামেটর গণের অন্তর্ভুক্ত এক প্রজাতির বড় আকারের পাখি। বৈজ্ঞানিক নাম Clamator jacobinus এবং ইংরেজি Jacobin cuckoo। এদেরকে বাসা পরজীবী পাখিও বলা হয়ে থাকে। অর্থাৎ, এরা অন্য পাখির বাসায় যেয়ে ডিম পাড়ে।

চাতক বাংলাদেশের একটি পরিযায়ী পাখি। এদের দেশের সর্বত্র দেখতে পাওয়া যায়। বিগত কয়েক দশক ধরে এদের সংখ্যা অনেকটা স্থির রয়েছে, আশঙ্কাজনক পর্যায়ে এখনো যেয়ে পৌঁছেনি। সেকারণে আই. ইউ. সি. এন. এই প্রজাতিটিকে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে ঘোষণা করেছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে এ প্রজাতিটি সংরক্ষিত। এই পাখিটি বাংলাদেশে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে বিবেচিত।

এরা কেবলই পরিযায়ী পাখি নয়। চাতক বাংলাদেশের গ্রীষ্মকালিন প্রজননকারি পরিযায়ী পাখি। যেমন আছে শীতকালিন প্রজননকারি পরিযায়ী পাখি। উদাহরণ- কুড়া বা কুড়ল বা Pallas’s or Ring-tailed Fish Eagle। চাতকের মোট তিনটি উপপ্রজাতি সনাক্ত করা গেছে।

উপপ্রজাতিগুলো হল
C. j. serratus (Sparrman, 1786)
C. j. pica (Hemprich & Ehrenberg, 1833)
C. j. jacobinus (Boddaert, 1783)

এদের মধ্যে C. j. pica (Hemprich & Ehrenberg, 1833) বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে গ্রীষ্মকালীন পরিযায়ী হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়।

চাতক পাখিরা মধ্যম আকারের হয়ে থাকে। এদের দেহ হাল্কা সাদা কালো এবং মাথার উপর বৈশিষ্টপূর্ণ ঝুঁটি থাকে। এদের ডানাগুলো সাদা। এই ডানার উপর কালো কালো ছোপ দেখতে পাওয়া যায়। এই বৈশিষ্টের জন্য এদের দূর থেকে বা উড়ন্ত অবস্থাতেও চিনতে পারা যায়। অপ্রাপ্তবয়স্কদের চামড়া গাঢ় গোলাপি থেকে বেগুনি বাদামী বর্ণের হয়ে থাকে।

এদের প্রজনন ঋতু বর্ষাকাল। এরা নিজেরা বাসা বানাতে পারে না। তাই অন্য পাখির বাসায় ডিম পাড়ে। এক্ষেত্রে পুরুষ পাখিটি বাসার মালিককে অনবরত বিরক্ত করতে থাকে। স্ত্রী পাখি এই সুযোগে বাসার মধ্যে তার ডিমে তা দেয় এবং অন্যান্য ডিম নষ্ট করে ফেলে। এদের ডিমগুলো বড় এবং ফিরোজা নীল।কিছু প্রজাতির ডিম সাদা রঙেরও হয়ে থাকে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় যে মাত্র দুটি পাখি প্রাপ্তবয়স্ক হতে পারে।

এরা শিকারি পাখি । মাটি থেকে লোমযুক্ত শুঁয়োপোকা এবং অন্যান্য পতঙ্গ খেয়ে থাকে।