ফ্যাটি খাবারেও পুষ্টি, এমনই স্বাস্থ্যকর কিছু খাবারের সন্ধান

31

কে মোটা হতে চায় আপনিও তার বাইরে নন। ঠিক করে ফেলেছেন এবারে ওজন কমাতেই হবে। আর তার জন্য চাই প্রপার ডায়েট প্ল্যান। স্বাভাবিকভাবে ডায়েটে থাকবে না কোনওরকম ফ্যাটি খাবার। কিন্তু ফ্যাটি খাবার বাদ দিতে গিয়ে দরকারি ফ্যাটগুলোও বাদ দিচ্ছেন না তো ? ঠিকই শুনছেন, ফ্যাটও শরীরের জন্য দরকারি।

কিছু ফ্যাট এতটাই এসেনশিয়াল যে সেগুলো না থাকলে শরীরের কিছু ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখা দিতে পারে রোগও। তাই অন্য ফ্যাট বাদ দিলেও এগুলোকে রাখতেই সবে ডায়েটে। দেখে নেওয়া যাক কোন কোন ফ্যাটি খাবারে এই ফ্যাটগুলো পাওয়া যায়।

বাদাম
অনেকেই মনে করেন, বাদাম খেলে শরীরে ফ্যাট জমা হয়। সেই ফ্যাট নাকি মোটেই ভালো নয়। কিন্তু ডায়েটিশিয়ানদের মতামত বরং উল্টোটা। আখরোট, আমন্ড ইত্যাদি বাদামগুলোয় থাকে হেল্দি ফ্যাট। শুধু ফ্যাট নয়, বাদাম ভিটামিন ই, প্রোটিন আর ফাইবারে সমৃদ্ধ একটি খাবার যা শরীরের প্রয়োজনীয় প্রোটিনও জোগায়। বাদামে থাকে ম্যাগনেশিয়াম এর মত খনিজ পদার্থ যা শরীরে খুব কম পরিমাণে থাকে। এমনকি বাদাম ছাড়া খুব কম খাবারেই ম্যাগনেসিয়াম থাকে। বিভিন্ন সমীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে বাদাম নিয়মিত খেলে যেমন হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে, তেমনই ওবেসিটির থেকে শরীরকে বাঁচিয়ে রাখে। শুধু তাই নয়, টাইপ 2 ডায়াবেটিস এর মত রোগও সহজে কাবু করতে পারে না।

ডিম
এতদিন জানতেন ডিম খেলে বেড়ে যায় কোলেস্টেরল। তাই কন্ট্রোলড ডায়েট থেকে ডিম যেমন বাদ রাখা উচিত, তেমনই হার্টের রোগীদেরও ডিম থেকে দূরে থাকা উচিত।‌ তবে বিদেশে হওয়া সাম্প্রতিক সমীক্ষাগুলো কিন্তু অন্যরকম কথা বলছে। প্রায় সত্তর শতাংশ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে , ডিম খেলে রক্তে বাজে কোলেস্টেরলের পরিমাণ বাড়ে না। বরং ডিমে রয়েছে বেশকিছু মাল্টিভিটামিনস্ যা শরীরের কোশগঠন থেকে রোগপ্রতিরোধ এসব ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ব্রেনের কোশের উন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় কোলিন নামক পদার্থটি ডিমের মধ্যেই থাকে। এছাড়াও ডিমে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা দৃষ্টিশক্তি প্রখর করতে সাহায্য করে ‌।

ডার্ক চকোলেট
চকোলেটের নাম শুনলেই দশ পা দূরে থাকবেন যারা ডায়েট মেনটেন করছেন। কিন্তু এই প্রতিবেদনে থাকছে ডার্ক চকোলেটের কথা। ডার্ক চকোলেটে ৭০ শতাংশের বেশি কোকো থাকে। আর তাই ফ্যাটের পরিমাণ প্রায় ৬৪ শতাংশ। কিন্তু ফ্যাট ছাড়াও এতে রয়েছে ফাইবার আর আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ ইত্যাদির মত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থ। শুধু তাই নয়, ডার্ক চকোলেটে থাকা প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্ট্রেস কমাতে প্রচন্ড সাহায্য করে। পাশাপাশি ব্লাড প্রেশার কমাতেও এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রয়োজন।

অলিভ
অলিভেও কিন্তু ফ্যাটের পরিমাণ কম নয়। তবে এই ফ্যাটের বেশিরভাগ অংশই হল মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট যা মোটেই ক্ষতিকর নয়। অলিভ বয়সের সঙ্গে হাড় দুর্বল হয়ে পড়া ও তার ক্ষয়ে যাওয়া প্রতিরোধ করে। আবার বিজ্ঞানীদের মতে, অলিভে থাকা হাইড্রক্সিটাইরোসল নামক উপাদানটি ক্যান্সারের মত মারণরোগকেও শরীরের থেকে দূরে রাখে।

অ্যাভোকাডো
একটা অ্যাভোকাডোতে রয়েছে প্রায় ২৩ গ্রাম মত ফ্যাট কিন্তু তা সত্ত্বেও এক অ্যাভোকাডোর অনেক গুণ। প্রতিদিন শরীরের প্রয়োজনীয় ফাইবারের প্রায় চল্লিশ শতাংশ একটা অ্যাভোকাডোতেই পাওয়া যায়। অ্যাভোকাডোয় থাকা লিউটিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বয়সের সঙ্গে সঙ্গে চোখের দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার থেকে রক্ষা করে।

ফ্যাটি মাছ
ডায়েটে মাছ থাকলেও ফ্যাটি মাছ একেবারেই নয়। এমনটাই ঠিক করে রেখেছেন মনে মনে। অথচ জানেন কি কিছু মাছের ফ্যাট হৃদরোগের মত সমস্যা থেকেও বাঁচাতে পারে মানুষকে‌। স্যালমন, সার্ডিন , ম্যাকারেল ইত্যাদি মাছের ফ্যাটে থাকে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের মত এসেনশিয়াল ফ্যাট যা হার্টের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে যথেষ্ট প্রয়োজনীয়।