ফেসবুকে যে ১২ তথ্য কখনই দিবেন না

53

ফেসবুকে ব্যবহারকারীদের নিজ নিজ এ্যাকাউন্টগুলো নিরাপদ রাখতে কিছু পন্থা অবশ্যই মেনে চলতে হয়, জানতে হয় কোন বিষয়গুলো বন্ধুদের জানাবেন, আর কোনগুলো জানাবেন না।

ব্যবহারকারীদের তথ্যসমুহ নিরাপদ রাখা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। আর তাই এমন কিছু তথ্য আছে যা আপনার ফেসবুকে রাখা উচিত নয়। যেমন, আপনার বাড়ির ঠিকানা, আপনি কোন স্কুলে যেতে চান এমন কিছু বিষয়।

যে ১২টি বিষয় তুলে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেয়া উচিত না বা থাকলে মুছে ফেলা উচিত-

জন্মদিন
আপনার জন্মদিনের তারিখ বা এর সাথে নাম, ঠিকানা হতে পারে আপনার গোপনীয়তা রক্ষার খাতিরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যার মাধ্যমে ইচ্ছুকরা আরও সহজে আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা ব্যক্তিগত বিবরণ হস্তগত করে নিতে পারেন।

ফোন নাম্বার
এর মাধ্যমে খুব ভালো ক্ষেত্রে আপনি একজন শুভাকাঙ্খীর ফোন পেতে পারেন। অথবা খারাপ ক্ষেত্রে হয়তো উত্তক্ত্যকারীদের পাল্লায় পড়তে হতে পারে।

আপনার অধিকাংশ বন্ধু
অক্সফোর্ড মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবিন ডানবারের তত্ত্ব অনুযায়ী একজন মানুষ প্রায় ১৫০ জনের সাথে গভীর বন্ধুত্ব রক্ষা করতে পারে। ৩ হাজার ৩৭৫ জন ফেসবুক ব্যবহারকারীকে পরীক্ষা করে ডানবার দেখান যে, ৪.১ জন হন আস্থাভাজন এবং ১৩.৬ জন মানসিক সঙ্কটের সময় সহমর্মিতা দেখায়। তাই নিষ্ক্রিয় বন্ধুদের ছাটাই করা সামাজিক মাধ্যমে স্বাস্থ্যকর মিথষ্ক্রিয়ার জন্য উপযোগী।

আপনার বাচ্চা বা পরিবারের ছোট সদস্যদের ছবি
অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইন্সিটিউটের পরিচালক ভিক্টোরিয়া নাশ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্থাপন করেন, যাতে অনেকেই সমর্থন করে: একজন শিশু তার সম্পর্কে কিরূপ তথ্য পরবর্তী সময়ে অনলাইনে দেখতে চাইতে পারে? আগের প্রজন্ম এটা বিবেচনা করার প্রয়োজনই মনে করে না কিন্তু ইন্টারনেট এবং সামাজিক মাধ্যমের বিকাশ এই প্রশ্নটির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমরা এখন কোথায়, আমার বাচ্চা বা পরিবারের ছোট সদস্যটি কোথায় স্কুল করে
এনএসপিসিসি এর মতে গত বছর থেকে রেকর্ডকৃত যৌন হয়রানির সংখ্যা ক্রমবর্ধমান।

লোকেশন সার্ভিস
শুধুমাত্র এন্ড্রোয়েড বা আইফোনেই লোকেশন সার্ভিসটি রয়েছে। ২০১৫ সালে টেককাঞ্চ জানায় যে, শুধুমাত্র মোবাইল দিয়ে ফেসবুকে প্রবেশ করে ৫০ কোটিরও বেশি ব্যবহারকারী। অর্থাৎ এদের মধ্যে একই সংখ্যক অনলাইনে তাদের লোকেশন প্রকাশ করে দেয়। এবং যেকেউ যারা তোমার ক্ষতি করতে চায় বা না চাইলেও জানতে পারে তুমি কোথায় আছে।

ব্যবস্থাপক
এই বিষয়টা সমাজের উচ্চস্থানীয়দের জন্যই প্রযোজ্য। ফেসবুক একটি সামাজিক মাধ্যম এভং কিছু ক্ষেত্রে আলাপচারিতা হালকাও হতে পারে। কিন্তু কোম্পানির সিইও তোমার ওয়ালে প্রবেশ করতে পারে, তোমার প্রতিটি স্ট্যাটাস আপডেটেও তার প্রবেশাধিকার রয়েছে। তুমি তোমার কিছু আপডেট থেকে সিইওকে বাদ দিতে পারো কিন্তু তাতেও ঝামেলা কতটা কমাবে?

অবস্থান সম্পর্কে ট্যাগ নয়
মানুষ অনেক সময়ই ভুলে যায় তাদের বাসায় অবস্থানের ট্যাগ করাটা আসলে তার ঠিকানা সবাইকে দিয়ে দেওয়ার মতোই।

কখন এবং কোথায় ছুটিতে যাচ্ছি
একটি ফাইন্যানন্সিয়াল ওয়েবসাইট দিস ইস মানি জানায়, যেসব ভ্রমণকারীরা ছুটি কাটানোর সময় চুরির শিকার হয় এবং তারা যদি তাদের ছুটির পরিকল্পনা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করে, তাহলে তাদের ইন্সুরেন্স দাবি গ্রহণযোগ্য হবে না।

রিলেশনশিপ স্ট্যাটস
নতুন রিলেশন উদযাপন কারতে চাইলেও তা ফেসবুকে করা ঠিক নয়। কারণ সম্পর্ক ভেঙ্গেও যেতে পারে এবং পরবতীতে ‘ইন এ রিলেশনশিপ’ থেকে ‘সিঙ্গেল’ স্ট্যাটাসে যাওয়াটা আরও বিব্রতকর নয়কি?

ক্রেডিট কাড বিবরণ
এটা কখনোই ভালো চিন্তা নয়।

বোর্ডিং পাসের ছবি
বোর্ডিং পাসের ছবি তুলে তা সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া ছুটির পরিকল্পনা সম্পর্কে্ই জানান দেয়। বোর্ডিং পাসের বারকোড ইউনিক হয় এবং এর মাধ্যমে ফ্লাইট কোম্পানিকে দেওয়া তথ্য সহজেই খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।