ফুটবলের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপেরও বাছাই শুরু হবে

70

ফিফার মডেলেই চলবে আন্তর্জাতিক টেস্ট এবং ওয়ানডে ক্রিকেট। ক্রিকেটে বড়সড় পরিবর্তন আনছে আইসিসি। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের পর বদলে যাবে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের পদ্ধতি। অনেকটা ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের নিয়মের মতো হবে আইসিসি বিশ্বকাপ বাছাইয়ের নিয়মও।

এখনকার মতোই ওয়ানডে ফরম্যাটের বিশ্বকাপ হবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মূল বৈশ্বিক আসর। ফুটবলে সারা বছর জুড়েই থাকে বিভিন্ন লিগ। এরমধ্যেই বিশ্বকাপের আগে দলগুলোকে বাছাই পর্ব খেলতে হয় প্রায় দুই বছর ধরে। এছাড়া বাকি দুই বছর ক্লাব ফুটবলের বিরতীর সময়গুলোতে দেশগুলো দ্বিপাক্ষিক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ খেলে থাকে। পুরোপুরি এমন না হলেও ক্রিকেটেও আসছে এমন সিস্টেম।

২০১৯ বিশ্বকাপের আগে টেস্ট খেলুড়ে দলগুলোর বাছাইপর্ব খেলতে হতো না। তারা সরাসরি বিশ্বকাপ খেলতো। ২০১৯ বিশ্বকাপে র‍্যাংকিংয়ের সেরা ৮ দল সরাসরি বিশ্বকাপে অংশ নেয়। তবে তাদের আগের রেটিং পয়েন্ট গুলো বহাল থাকায় কোনরকম ঝামেলা ছাড়াই ৮ শীর্ষ ওয়ানডে দল বিশ্বকাপে সরাসরি খেলে।

তবে ২০২৩ বিশ্বকাপ থেকে বদলে যাবে এই পদ্ধতি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলতে হবে সব দলকেই। এক্ষেত্রে পূর্ববর্তী কোনো রেটিং পয়েন্টও থাকবে না। পরবর্তী আসরের জন্য বাছাইপর্ব শুরু হবে আগামী মে মাস থেকেই। ১৩টি দল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের সুপার লীগে অংশ নিবে। লিগ হবে দুই বছর ধরে। প্রতিটি দল এই ২ বছরে ৮টি সিরিজ খেলবে। ৪টি হোম সিরিজ ও ৪টি সিরিজ অ্যাওয়ে সিরিজ। এই ৮টি সিরিজের ফলাফলের উপর নির্ভর করবে কোন সাতটি দেশ সরাসরি বিশ্বকাপ খেলবে। তবে আয়োজক দেশকে কোনো বাছাইপর্ব খেলতে হবে না।

২০২২ সালের মার্চ পর্যন্ত চলবে বাছাইপর্বের এ সুপার লীগ। বাছাইপর্বে বড় দল বা ছোট দল বলে কোনো হিসেব থাকবে না। সব দলের বিপক্ষে জিতলেই সমান যোগ পয়েন্ট। টেস্ট খেলুড়ে ১২টি দলের সঙ্গে নেদারল্যান্ডস অংশগ্রহণ করবে এই সুপার লীগে। স্বাগতিক ভারতসহ মোট ৮টি দল বিশ্বকাপে সরাসরি কোয়ালিফাই করবে।

বাকি ২টি দল যাবে র‍্যাংকিংয়ের নিচে থাকা দলগুলোর একই সময়ে চলা লীগ থেকে উঠে আসা দলগুলোর বিপক্ষে আরেক দফা বাছাইপর্ব খেলে। ১৩ দলের ওয়ানডে লীগে বাংলাদেশের ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষ হবে আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আর দেশের বাইরে টাইগারদের প্রতিপক্ষ আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে।

তবে ওয়ানডে লীগের আগের ১ বছর এবং পরের ১ বছর দলগুলো নিজেদের ইচ্ছামত দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে পারবে। তবে সেগুলোর প্রভাব বিশ্বকাপ বাছাইয়ে পড়বে না। যেমনটা আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোর ফলাফলের প্রভাব ফিফা বিশ্বকাপের বাছাইয়ে পড়ে না। সেগুলোর প্রভাব পড়ে শুধু র‍্যাংকিংয়ে।

তাই এই ওয়ানডে লীগের ফলে এখন হয়তো এর বাইরের সাধারণ সিরিজগুলোর গুরুত্ব আগের তুলনায় কিছুটা কমে যাবে যেমনটা ফুটবলে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচগুলোর বেলায় হয়ে থাকে। এর পাশাপাশি চলবে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। ৯ দলের এ চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু হবে চলতি জুলাই মাস থেকেই। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ২ বছরে প্রতিটি দল ৬টি করে সিরিজ খেলবে। সেরা ২ দল নিয়ে ফাইনাল হবে ২০২১ সালে লর্ডসে। বাংলাদেশ খেলবে না ইংল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের প্রথম সিরিজ ভারতের বিপক্ষে নভেম্বর মাসে।

এ পদ্ধতি নিয়ে আসার পেছনে আইসিসির উদ্দেশ্য খেলাগুলো অর্থবহ করা। টি-২০’র আমেজে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে এবং টেস্ট সিরিজগুলো গুরুত্ব হারাচ্ছিল। বিশেষ করে টেস্ট ম্যাচগুলো ব্যাপকভাবে দর্শক হারাচ্ছিল। তাই টেস্টে এই চ্যাম্পিয়নশিপ সিস্টেম চালু ও ওয়ানডেতে সব দলকেই ওয়ানডে সুপার লীগ বা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব অংশগ্রহণ করতে হচ্ছে যাতে খেলাগুলোর গুরুত্ব থাকে।