প্রাণ-আরএফএল এর লাগামহীন ঋণে উদ্বিগ্ন ব্যাংকাররা

217

বেশ কিছু নেতিবাচক ঘটনায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ নিয়ে নানা রকম শঙ্কায় ভুগছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান। পণ্য আমদানি করায় জালিয়াতির মামলা দায়ের, চারটি খাদ্যপণ্যে ভেজাল প্রমাণিত হওয়া এবং এ ঘটনায় গ্রুপটির কর্ণধার আহসান খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় চরম ইমেজ সংকটে পড়েছে প্রাণ-আরএফএল।

এই যখন অবস্থা তখন গ্রুপটির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে ১৪ হাজার কোটি টাকার ঋণসীমা নিয়ে এক রকম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের অনুকূলে নতুন করে ঋণ দেয়া নিয়ে অনেক ব্যাংক বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে।

এ ছাড়া ব্যাংক পাড়ায় এমনও অভিযোগ উঠেছে, গ্রুপটি এখন এক খাতের ঋণ নিয়ে অন্য খাতে ব্যবহার করার মতো ঝুঁকি নিচ্ছে। এমনটিই জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন ব্যাংকার।

জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের নামে ফান্ডেড/নন-ফান্ডেড মিলে ১৪ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণসীমা রয়েছে। এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত তাদের ঋণের স্থিতি রয়েছে সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ আর্থিক খাত থেকে ১৪ হাজার ৩৮ কোটি টাকা ঋণ নিতে পারবে। এর বেশি নিতে পারবে না।

এখন তারা ঋণ সুবিধা নেয়া ও পরিশোধ করার মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করছে। এ ছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, গ্রুপটির রফতানির পরিমাণ নিয়ে পুনরায় তদন্ত হওয়া দরকার। তাদের আশঙ্কা, অধিক পরিমাণে নগদ প্রণোদনা নেয়ার জন্য রফতানির পরিমাণ বেশি দেখানো হতে পারে।

কেননা, যারা মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে পণ্য আনতে পারে তাদের কাছে এসব ঘটনা মামুলি বিষয়। সম্প্রতি চট্টগ্রামে তাদের বড় ধরনের জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ার পর বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রুপটির সবকিছু নতুন করে খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছে।

এসব বিষয়ে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরীর মন্তব্য জানতে চাইলে সোমবার রাতে তিনি বলেন, ব্যাংকিং সেক্টরে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কোনো সমস্যা নেই। আমাদের লেনদেন নিয়মিত। আমরা ঠিক আছি।

এ ছাড়া চট্টগ্রাম কাস্টমসে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য আনায় আমাদের কোনো দোষ নেই। বিদেশি প্রতিষ্ঠান এটা করেছে। আমরা কোনো চুরিচামারি করিনি। এক প্রশ্নে তিনি দাবি করে বলেন, এসব ঘটনায় আমাদের কোনো ইমেজ সংকট হবে না।

সূত্র জানায়, ব্যাংকগুলো যাতে কোনো একক গ্রুপকে বেশি ঋণ দিয়ে ঋণ ব্যবস্থাপনাকে কেন্দ্রীভূত করে না ফেলে সেদিকে নজর রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেয়া আছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে এ বিষয়টি বিশেষভাবে তদারকিও করা হচ্ছে।

কেননা কোনো একক গ্রুপের হাতে বেশি পরিমাণে ঋণ চলে গেলে ব্যাংকগুলোর ঝুঁকির মাত্রা বেড়ে যায়। এ কারণে যাতে কোনোভাবে একক গ্রুপের হাতে বেশি মাত্রায় ঋণ চলে না যায়, সে জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে দিয়েছে। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের এত বেশি ঋণ নেয়ার সীমা এবং ঋণের স্থিতি দেখে অবাক হয়েছেন ব্যাংকাররা।

তাদের অনেকেই বলেছেন, একটি গ্রুপের হাতে এত বেশি পরিমাণে ঋণের লিমিট দেয়া যেমন ঠিক হয়নি, তেমনি তাদের এত বেশি ঋণ স্থিতি রাখাও ঠিক হয়নি। কোনো কারণে গ্রুপটি ঝুঁকিতে পড়লে পুরো আর্থিক খাত বিপাকে পড়বে বলে মনে করেন অনেক ব্যাংকার।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কাছে প্রায় সব ব্যাংকের ঋণের বিষয়ে জানতে চাইলে বেসরকারি একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেন, স্বল্পমেয়াদি আমানত নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দেয়ার কারণে ব্যাংকিং খাতে যে মিসম্যাস হয়েছে সেটা প্রাণের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।

তবে যা হওয়ার হয়েছে, নতুন করে আমরা তাদেরকে কোনো অর্থায়ন করছি না। এখন তারা সরকারি ব্যাংকের দিকে যাচ্ছে। এত বড় অঙ্কের ঋণ নিয়ে চিন্তিত কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, টেনশন তো আছেই। যখনই টাকা দিই, তখনই টেনশন বাড়ে। এখানেও তাই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফর্মেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিল শেষে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে বিভিন্ন ব্যাংকের মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। ঋণসীমা আছে ১৪ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। সূত্র জানায়, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ৩৪টি প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছে।

এর মধ্যে প্রাণ ডেইরি লি. ১৯টি ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ৭৬৯ কোটি টাকা। একইভাবে আরএফএল প্লাস্টিক ১৫টি ব্যাংক থেকে ৯১১ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে ঋণ নিয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা। প্রাণ ফুডস লিমিটেড ১৩টি ব্যাংক থেকে ৭৮৫ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে ৬৪৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

প্রাণ এগ্রো লিমিটেড ১২টি ব্যাংক থেকে ৮৪৫ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে ঋণ নিয়েছে ৬৪৬ কোটি টাকা। প্রাণ এক্সপোর্ট লিমিটেড ৪টি ব্যাংক থেকে ১৩৯ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে ৩৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। প্রাণ বেভারেজ ২টি ব্যাংক থেকে ৬৩ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে ঋণ নিয়েছে ৫৪ কোটি টাকা।

বংগ বিল্ডিং মেটেরিয়ালস ১৫টি ব্যাংক থেকে ৭০২ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে ৪৩০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। নাটোর এগ্রো ৭টি ব্যাংক থেকে ৪২৫ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে ঋণ নিয়েছে ১৯৪ কোটি টাকা। ময়মনসিংহ এগ্রো ১২টি ব্যাংক থেকে ৬৪৯ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে ৪৫৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

প্যাকমেট ইন্ডাস্ট্রিজের ৩টি ব্যাংকে ঋণসীমা রয়েছে ১২ কোটি ৩১ লাখ টাকা। গত ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানের ঋণ স্থিতি ছিল ১২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ ঋণসীমার চেয়ে বেশি ঋণ নিয়েছে। প্রচলিত নিয়মানুযায়ী ঋণসীমার চেয়ে বেশি ঋণ নেয়ার সুযোগ নেই। বেশি ঋণ নিতে হলে সীমা বাড়াতে হবে। ওই সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ঋণসীমা না বাড়িয়েই ব্যাংকগুলো তাদের বাড়তি ঋণ দিয়েছে, যা প্রচলিত ব্যাংকিং বিধিবিধানের লঙ্ঘন।

বংগ বেকারস ৩টি ব্যাংক থেকে ১১৯ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ৫৪ কোটি টাকা। বংগ মিলার্স ১১টি ব্যাংক থেকে ৫৫৪ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ৪২৫ কোটি টাকা। হবিগঞ্জ এগ্রো ২৪টি ব্যাংক থেকে ২ হাজার ৫০১ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে ১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

সিলভান এগ্রিকালচার ৭টি ব্যাংক থেকে ১৬৬ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে ৬৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ডিউরেবল প্লাস্টিক ১৫টি ব্যাংক থেকে ১ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে ৯০১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বংগ প্লাস্টিক ৪টি ব্যাংক থেকে ৯০ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ৬৭ কোটি টাকা।

অলপ্লাস্ট বাংলাদেশ ৩টি ব্যাংক থেকে ১৪৭ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ২১ কোটি টাকা। রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ১৮টি ব্যাংক থেকে ৮৪৩ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে ৬৫৩ কোটি টাকার ঋণ নিয়েছে। গেট ওয়েল ৩টি ব্যাংক থেকে ১০ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে ৯ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা ভোগ করেছে।

চরকা টেক্সটাইল ৩টি ব্যাংক থেকে ১৬০ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে ৬৫ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। বাংলাদেশ লিফট ইন্ডাস্ট্রিজ ৩টি ব্যাংক থেকে ৯১ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে ৪৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। প্রপার্টি ডেভেলপমেন্ট ৬টি ব্যাংক থেকে ১১৬ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে ১১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

সান বেসিক কেমিক্যালস ৪টি ব্যাংক থেকে ৭২ কোটি টাকার ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ৪৯ কোটি টাকা। হবিগঞ্জ টেক্সটাইল ৩টি ব্যাংক থেকে ৪২৫ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে ১৩৮ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। আরএফএল ইলেকট্রনিক্স ৬টি ব্যাংক থেকে ৩৪০ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে ১৪০ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

এডভান্স পারসোনাল কেয়ার ৩টি ব্যাংক থেকে ৬৮ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ৪০ কোটি টাকা। সিলভার্ন টেকনোলজিস ৩টি ব্যাংক থেকে ১৪৫ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ১১১ কোটি টাকা। প্রাণ এগ্রো বিজনেস ১টি ব্যাংক থেকে ১০৮ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে ১৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। ইরুম বাংলাদেশ ৩টি ব্যাংক থেকে ৩১ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ১১ কোটি টাকা। গঙ্গা ফাউন্ডারি ৪টি ব্যাংক থেকে ২২৯ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ১১০ কোটি টাকা।

হবিগঞ্জ মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ ১টি ব্যাংক থেকে ১৬ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। মাল্টি লাইন ইন্ডাস্ট্রিজ ৯টি ব্যাংক থেকে ৪৭১ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে ২৬২ কোটি টাকা। রংপুর ফাউন্ডারি ৩টি ব্যাংক থেকে ১০৫ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে নিয়েছে প্রায় ৭৬ কোটি টাকা এবং আরএফএল এন্টারপ্রাইজ লিমিটেড ১টি ব্যাংক থেকে ৫৫ কোটি টাকা ঋণসীমার বিপরীতে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, প্লাস্টিক দানা ঘোষণা দিয়ে ৩০ কনটেইনার বোঝাই সিমেন্ট নিয়ে এসে বড় ধরনের জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। গত ১২ জুন চট্টগ্রাম বন্দরে প্রাণের এসব কনটেইনার জব্দ করা হয়। এতে প্রাথমিকভাবে ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি দেয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ঘোষিত প্লাস্টিক দানার শুল্ক ৩২ শতাংশ, বিপরীতে সিমেন্টের শুল্ক ৯১ শতাংশ। এ ঘটনায় কাস্টমসের পক্ষ থেকে শুল্ক ফাঁকির মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া অর্থ পাচার হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জব্দকৃত সিমেন্টের রাসায়নিক পরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

এখানেই শেষ নয়, গত রমজানে বিএসটিআইয়ের পরীক্ষায় প্রাণের ৪টি পণ্যে ভেজাল মিলেছে। এগুলো হল : প্রাণের গুঁড়া হলুদ, কারি পাউডার, লাচ্ছা সেমাই ও প্রিমিয়াম ঘি। এ ঘটনায় সর্বত্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। নিজেদের বড় ফুড ব্র্যান্ড দাবি করলেও আড়ালে তাদের এমন চরিত্র বেরিয়ে আসায় ক্রেতা সাধারণ উপযুক্ত বিচার দাবি করেন। উচ্চ আদালতও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন।

প্রাণের এসব পণ্যের বিরুদ্ধে শক্ত আইনি ব্যবস্থা নিতে বিএসটিআই, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন আদালত। এরপর পণ্যগুলোর লাইসেন্স স্থগিত করে বিএসটিআই। এ ছাড়াও এসব পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়।

একই সঙ্গে এগুলো বাজার থেকে প্রত্যাহার করে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়। যদিও অনেক পরে তা প্রত্যাহার করা হয়। এ ঘটনায় গত ২৩ জুন প্রাণের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান খান চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।