পরকীয়ার এ কেমন বিচার!

285

স্বামী পরকীয়া করলে তার বিরুদ্ধে স্ত্রী কোনো আইনগত প্রতিকার চাইতে পারবে না। অন্যদিকে স্ত্রী পরকীয়া করলে তার বিরুদ্ধে স্বামী ব্যবস্থা নিতে পারবে না। তবে পরকীয়াকারী পুরুষের বিরুদ্ধে নারী সঙ্গীর স্বামী ওই পুরুষের বিরুদ্ধে ব্যভিচারের অভিযোগ আনতে পারবে। দণ্ডবিধির এ সংক্রান্ত ধারা কেন বৈষম্যমূলক এবং বাতিল হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন উচ্চ আদালত।

আইনজীবীরা বলছেন, পরকীয়াকারী দুজনকেই আইনের আওতায় আনতে পারলে সামাজিক এ অপরাধ কমবে। বিবাহবর্হিভূত সম্পর্ক বা পরকীয়া সাম্প্রতিক সময়ে প্রকট একটি সামাজিক সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। পরকীয়াকে কেন্দ্র করে বিবাহ বিচ্ছেদসহ খুনের মতো ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এর আইনি প্রতিকার কী?

পরকীয়ার সাজা নিয়ে রিটকরা আইনজীবীরা বলছেন, দণ্ডবিধির যে ধারায় বিবাহবর্হিভূত সম্পর্ক বা পরকীয়ার দণ্ডের কথা বলা হয়েছে সে আইনটি বৈষম্যমূলক। কেননা আইনের এ বিধানে স্বামী পরকীয়া করলে স্ত্রী প্রতিকার চাইতে পারে না আর স্ত্রী পরকীয়া করলে স্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ নেই, তবে পরকীয়াকারী পুরুষের বিরুদ্ধে নারীর স্বামী বা পরিবারের কেউ ব্যভিচারের অভিযোগ আনতে পারেন।

রিটকারীর আইনজীবী ব্যারিস্টার অনিক আর হক বলেন, যে নারীর সাথে পরকীয়া করছে তার বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। কেন মামলা করা যাবে না? যে লোক পরকীয়া করছে উনি অবিবাহিত নারীর সাথে করছে সেটাকেও কোনো অফেন্স হিসেবে ধরা হচ্ছে না। যে নারীর সাথে পরকীয়া করছেন তার স্বামীর অনুমতি থাকলে অফেন্স হবে না। আইনের এ বৈষম্যমূলক দিকটি আমলে নিয়ে দণ্ডবিধির এ ধারা কেন বাতিল করা হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রিটকারী ইসরাত হাসান বলেন, এটা কোনোভাবেই বিচার হয় না যে, স্ত্রী একজনের সঙ্গে পরকীয়া করছে সেখানে স্ত্রীকে প্রসিকিউট করতে পারবে না। যার সাথে পরকীয়া করছে তাকে গিয়ে প্রসিকিউট করতে পারবেন। আইনের যে ডিফেট রয়েছে সে কারণে আমি জনস্বার্থে করেছি।

দণ্ডবিধির এ ধারাটি বৈষম্যমূলক হওয়ায় অনেক আগেই পরকীয়ার সাজা সংক্রান্ত ধারা বাতিল করেছেন ভারতে আদালত। আইনজীবীরা বলছেন, আইন সংশোধন করে পরকীয়াকারী দুজনকেই আইনের আওতায় আনতে পারলে সামাজিক এ অপরাধ কমবে।