পত্রঝরা বৃক্ষে ফোটে রক্তকাঞ্চন

96

কাঞ্চন ফুলের কয়েকটি প্রজাতি রয়েছে, তার মধ্যে একটি রক্তকাঞ্চন। ফুলগাছ ছোট আকারের। গাছের কাণ্ড খাটো। কাণ্ড ও শাখা-প্রশাখা বেশ শক্ত মানের এবং শাখা-প্রশাখা ছড়ানো। তবে মাঝে মধ্যে বড় আকৃতির গাছও চোখে পড়ে। পত্রঝরা বৃক্ষ।

শীতে গাছের সমস্ত পাতা ঝরে যায়। আর ফুল ফোটার সময়টাতে গাছ থাকে পত্রশূন্য এবং এ সময়ে রক্তিম ফুলে ভরে যায় গাছ। ফুল ফুটন্ত গাছ অত্যন্ত নজরকাড়া। ফুল মূলত ঘন মেজেন্টা রঙের। ফুলে নমনীয় কোমল পাঁচটি পাপড়ি থাকে, মাঝে একটি পাপড়ি রঙে ব্যতিক্রম, গোড়ার দিকে গাঢ় বেগুনি রঙের কারুকার্য।

ফুলের মাঝে কাস্তের মতো বাঁকা পরাগ অবস্থিত। বিস্তৃত শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে এক বা একাধিক ফুল ফুটতে দেখা যায়।

ফুল শীতের শেষ দিক থেকে ফোটা শুরু হয়ে গ্রীষ্মকাল অবধি ফোটে। তবে মৌসুমের শুরুতে ফোটে বেশি। বসন্তের মাঝামাঝি গাছে নতুন পাতা গজায়। পাতা সবুজ, শিরা উপশিরা স্পষ্ট। পাতার অন্যরকম বৈশিষ্ট্য—একই বোঁটার পাতা মাঝে দু’ভাগে বিভক্ত। আবার দুটি পাতা জোড়া দিলে একটি অন্যটির সঙ্গে সমানে সমান।

ফুল শেষে গাছে ফল হয়, ফলে বীজ হয়। ফল দেখতে শিমের মতো চ্যাপটা, রং প্রথমে সবুজ ও পরিপক্ব হলে কালচে রং ধারণ করে এবং শুকিয়ে একসময় আপনাআপনিই ফেটে গিয়ে বীজগুলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। পরিপক্ব বীজের রং কালচে খয়েরি। গাছ বেশ কষ্টসহিষ্ণু। বীজ ও ডাল কাটিংয়ের মাধ্যমে বংশ বিস্তার করা যায়।

রক্তকাঞ্চনের রয়েছে ভেষজ নানান রকম গুণ। উঁচু ভূমি, রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশ থেকে হালকা ছায়াযুক্ত স্থান ও প্রায় সব ধরনের মাটিতে এ ফুলগাছ জন্মে।