নারীর খোঁপায় বেলি ফুল

783

বেলি বা বেলী ফুলকে ইংরেজিতে বলা হয় Arabian jasmine। এর বৈজ্ঞানিক নাম Jasminum sambac। এটি জেসমিন গণের এক প্রকারের সুগন্ধী সাদা ফুল। এই প্রজাতির গাছের উচ্চতা এক মিটার হতে পারে। এদের কচি ডাল রোমশ।

পাতা একক, ডিম্বাকার, ৪-৮ সেমি লম্বা হয়। পাতা গাঢ়-সবুজ এবং মসৃণ। সাধারণত ফাল্গুন থেকে শুরু করে জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত সময়ে এই ফুল ফোটে। তবে বর্ষা মৌসুমেও কমবেশি ফুটতে দেখা যায়। ফুলের আকার ও গড়ন অনুসারে কয়েকটি জাত আছে। কলম ও শিকড় থেকে গজান চারায় চাষ করা যায়।

শীতকালে ছেঁটে দেয়া লাগে এবং টবেও ভালোভাবে জন্মান যায়। দেশে সাধারণত চার জাতের বেলি জন্মে—রাই, খয়ে, মতিয়া ও ভরিয়া বা রাজা বেলি অন্যতম। গোধূলিলগ্নে এ ফুল ফোটে এবং পরদিন দুপুরেই ঝরে যায়। মাঝের সময়টুকু মিষ্টি ঘ্রাণে চারপাশ ভরিয়ে রাখে।

বাংলাদেশের অধিকাংশ উৎসব অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত ফুলের তোড়া, ফুলের মালাতে সুগন্ধীফুল হিসাবে বেলির কদর আছে। উৎসব ও অনুষ্ঠান বেলিফুল ব্যবহৃত হয়। এটি একটি অর্থকরী ফুল।

বেলি ফুল গুটি কলম, দাবা কলম ও ডাল কলম পদ্ধতির মাধ্যমে বংশবিস্তার করা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত গাছে ফুল ফোটে। সাদা রঙের তীব্র সুগন্ধযুক্ত ফুল। এর মিষ্টি ঘ্রাণ পুষ্পপ্রেমিদের হূদয় ছুঁয়ে যায়। মালা গাঁথার বিশেষ উপযোগী এই ফুলটি আমাদের দেশে অত্যন্ত পরিচিত। ধবধবে সাদা বেলির আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশে।

গুল্ম জাতীয় এই গাছের উচ্চতা এক মিটারের মতো। অনেকটা ঝোপালো গড়নের। পাতার মধ্যে ছোট ছোট অসংখ্য ফুল থোকায় থোকায় ফুটে বেরোয়। ফুলের পাপড়ি সুবিন্যস্ত।

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গয়নার পাশাপাশি বেলির ব্যবহার দেখা যায়। শুধু বাংলা নববর্ষই নয়, সংগীত-নৃত্যানুষ্ঠান, পার্টি, বিয়েতে মেয়েদের খোঁপায় বেলিফুলের মালা শোভা বৃদ্ধি করে। আয়ুর্বেদিক রূপচর্চায় এই ফুলের জুড়ি মেলা ভার! বাসাবাড়ি কিংবা অফিসে শোভাবর্ধক হিসেবে এই উদ্ভিদ লাগানো হয়। বাগানে বা টবে শিকড় ও কলমজোড় পদ্ধতিতে এর চারা তৈরি করা হয়ে থাকে।