তেলের দাম কমে যাওয়ায় গভীর সঙ্কটে সৌদি আরব

36
ছবি: সংগৃহীত

একটা সময় সৌদি আরবের পরিচিতি ছিল কর দিতে হয় না এমন একটি দেশ হিসেবে। তবে সম্প্রতি দেশটির নাগরিকদের জন্য করের হার বাড়ানোর পাশাপাশি আগামী মাস থেকে মাসিক ভিত্তিতে দেয়া সরকারি সহায়তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

এমন এক সময় সৌদি কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তটি নিলো, যখন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম অর্ধেকের বেশি কমার ফলে দেশটির সরকারের আয় ২২ শতাংশ কমে গেছে, আর স্থগিত হয়ে গেছে বড় কয়েকটি প্রকল্প।

রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো জানিয়েছে, এই বছরের প্রথম তিন মাসে প্রতিষ্ঠানটির লাভ ২৫ শতাংশ কম হয়েছে।

বিশেষজ্ঞ মাইকেল স্টেফান্স বলেন, “সৌদি আরবের অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ এবং স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে এর বেশ সময় লাগবে।”

সৌদি অর্থনীতির একটা বড় নির্ভরশীলতা এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অদক্ষ শ্রমিকদের ওপর। আর এই শ্রমিকদের অধিকাংশই ঘনবসতিপূর্ণ এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকেন।

অন্যদিকে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তার নিজের দেশে বিপুল জনপ্রিয় হলেও সৌদি সাংবাদিক জামাল খাসোগজি হত্যার অভিযোগের তীর তার দিকে হওয়ায় পশ্চিমা বিশ্বের চোখে তিনি বেশ ঘৃণিত একজন ব্যক্তিত্ব।

২০১৮ সালে ইস্তানবুলের সৌদি দূতাবাসের ভেতরে সৌদি সরকারের কর্মকর্তাদের হাতে জামাল খাসোগজির নৃশংস হত্যার ঘটনার পূর্ণ তদন্ত কখনোই সম্পন্ন হয়নি।

তার উপর প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রতিবেশী দেশ ইয়েমেনের সাথে চলা যুদ্ধে সৌদি আরবের খুব একটা লাভ হয়নি।

অন্যদিকে কাতারের সঙ্গে চলা দ্বন্দ্বের কারণে ছয় দেশের গাল্ফ আরব কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যকার ঐক্যও টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে।

তাই প্রশ্ন উঠছে, সৌদি আরব কি আসলেই বড় ধরণের সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে?

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে পৃথিবীর সব জায়গাতেই অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে – সৌদি আরবও এর ব্যতিক্রম নয়।

‘পাবলিক ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড’ নামে সৌদি আরবের একটি সার্বভৌম তহবিল রয়েছে, যার অর্থ মূল্য ৩২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার ( বা ব্রিটিশ মুদ্রায় ২৬ হাজার কোটি পাউন্ড)।

আবার তাদের সৌদি আরামকো – যে তেল কোম্পানিটির সিংহভাগের মালিকানা রাষ্ট্রের – রয়েছে।

গত বছর এই সংস্থাটির বাজারমূল্য নির্ধারিত হয় ১.৭ লাখ কোটি ডলার – যা দুটো বড় মার্কিন কোম্পানি গুগল এবং অ্যামাজনের একত্রিত মূল্যের চেয়েও বেশি।

ওই প্রতিষ্ঠানের মাত্র ১.৫ শতাংশ বিক্রি করে সৌদি আরব আড়াই হাজার কোটি ডলার পায়, যা শেয়ার বিক্রির হিসেবে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় লেনদেন।

২০০৭ থেকে ২০১০ পর্যন্ত রিয়াদে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করা স্যার উইলিয়াম প্যাটি বলেন, এই অর্থনৈতিক মন্দা থেকে উত্তরণের জন্য সৌদি আরবের সামনে অনেকগুলো পথ রয়েছে।

“তাদের অর্থনীতি চালু রাখার জন্য তাদের হাতে প্রচুর অর্থের মজুদ রয়েছে এবং তেলের দাম কমে গেলেও তারা তাদের মার্কেট শেয়ার অপরিবর্তিত রেখে অথবা আরো শক্তিশালী করে ফিরে আসতে পারে।”

গত সেপ্টেম্বরে সৌদি তেল শোধনাগারে ইরানের মিসাইল হামলার পর এবং এরপর জানুয়ারিতে মার্কিন সেনাবাহিনীর হামলায় ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কমান্ডার কাসেম সোলেইমানির মৃত্যুর পর আপাতত ইরানের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের প্রতি কোনো ধরণের হুমকি নেই বলে মনে করা হচ্ছে।

ইসলামিক স্টেট গ্রুপ এবং আল কায়েদার সঙ্গে সম্পৃক্ত জঙ্গি বা জিহাদি গ্রুপগুলোর কাছ থেকে হুমকি অনেক কমে গেলেও সৌদি আরবের সামনে বেশ কয়েকটি বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

সূত্র: বিবিসি