তমাল গাছের উপকারিতা

107
ছবি: সংগৃহীত

তমাল একটি চিরসবুজ মধ্যমাকারের বৃক্ষ। এদের আদি নিবাস দক্ষিণ পূর্ব্ এশিয়া।

এই বৃক্ষ বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে দেখতে পাওয়া যায়। এদের বাকলের রঙ ধূসর। বাকলের পুরুত্ব ১/৪ ইঞ্চি। এর কাঠের রঙ প্রায় সাদা।

এই গাছ থেকে নির্গত হয় আঠা। এর পাতার রঙ গাঢ় সবুজ এবং উজ্জ্বল, আকারে বড়। এর পাতার দৈঘ্য ৮-১৪ ইঞ্চি লম্বা এবং এর পাতাগুলো অবনত অবস্থায় থাকে।

পাতার বোটা এক ইঞ্চি লম্বা, পাতার শিরা সমান্তরাল থাকে। এই গাছের ফুল ধরে বসন্তকালে। এর ফুলের রঙ সাদা এবং পাপড়ি পুরু ও খসখসে। পাপড়িগুলো এক থেকে তিন ইঞ্চি লম্বা হয়।

এর ফলগুলো গোলাকার হয়, ফলের রঙ গাঢ় পীতবর্ণ। এর বীজগুলো কাঁঠালের বিচির মতো লম্বাটে। প্রতিটি ফলে এক থেকে চারটি বীজ থাকে। গ্রীষ্মকালে ফল পাকে।

এই গাছের বিভিন্ন ঔষধি গুণ রয়েছে। যেমন-

তমাল এর কটি ডাল পানিতে পেষণ করে ফোঁড়ায় লাগালে উপশম হয়।

তমাল এর ফল স্কার্ভির রোগের জন্য বিশেষ উপকারি।

পা ফাটা নিরাময়ের জন্য আমশূল ব্যবহার করা হয়।

তমাল এর আমশূল পানির সাথে মিশিয়ে খেলে আমাশয় ভালো হয়।

তমাল ফলের রস করে নিতে হবে। এরপর এটি পানি ও মিছরি মিশিয়ে পান করলে জ্বর ভালো হয়ে যায়।

আমাশয়ের ক্ষেত্রে প্রথমে তমালের কচি পাতা কলাপাতায় জড়িয়ে তার ওপর মাটির প্রলেপ দিয়ে রাখতে হবে। এরপর এটা আগুণে সেকে নিতে হবে। এবার সেই ঝলসানো পাতার রস খেলে আমাশয় উপকার পাওয়া যায়।

খাবারে অরুচি ভাব দেখা দিলে তমালের পাকা ফল খেলে খাবারের অরুচি ভাব দূর হয়ে যায়।

সূত্র: আয়ুর্বেদিক টিপস