ছাদে আর বারান্দায় শীতের ফুল

175

ফুলের সুবাস মনকে বিমোহিত করে, সজীব করে তোলে মনের ইচ্ছাগুলোকে। তাই বাসার বারান্দায় বা ছাদে সুন্দর ফুল লাগানোর কোন জুড়ি নেই।

শীতকাল মানেই পাতা ঝরার মৌসুম। এ সময় তাই বারান্দার গাছের চাই অদল-বদল। পুরনো গাছগুলোকে ছাদে কয়েক দিনের জন্য অবসরে পাঠিয়ে দিন। সেখানে রোদ পেয়ে কিছুদিন হূষ্টপুষ্ট হোক। আর শূন্যস্থান পূরণ হোক বাহারি শীতের ফুলে। সে ক্ষেত্রে দেশি-বিদেশি নানা ফুল থেকে পছন্দমতো বেছে নিতে পারেন। তবে ফুলগাছ বা ফুলের রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বারান্দার দেয়ালের কথা মাথায় রাখুন। বারান্দার দেয়ালের রং অফহোয়াইট বা ক্রিম রঙের হলে সেখানে গাঁদা, রঙিন চন্দ্রমল্লিকা ও ডালিয়া বেশ মানিয়ে যাবে। তবে দেয়ালের রং যদি গাঢ় রঙের হয় যেমন—নীল, সবুজ বা কমলা, সে ক্ষেত্রে হালকা গোলাপি বা সাদা রঙের চন্দ্রমল্লিকা বেশ মানাবে।

তারা শীতের অতিথি

শীতের মৌসুমের ফুলের কথা বলতে গেলে প্রথমেই চলে আসে গাঁদা ফুল। বারান্দায় অল্প জায়গায় মানায়ও ভালো। গাঁদার রয়েছে রকমফের—বড় ইনকা গাঁদা, ছোট চায়না গাঁদা, দেশি গাঁদা, রক্ত গাঁদা, হলুদে লাল মেশানো গাঁদা, রাজ গাঁদা ইত্যাদি। এর পরই বেছে নিতে পারেন চন্দ্রমল্লিকা, যা কম আলোতেও বেঁচে থাকে। আরো আছে ডালিয়া, অ্যাস্টার, ডেইজি, কসমস, সিলভিয়া, অ্যান্টিরিনাম, ন্যাস্টারশিয়াম, প্যানজি, ডায়ান্থাস, ভারবেনা, কারনেশান, পপি, সূর্যমুখী, পর্টুলেকা, ক্যালেন্ডুলা, হলিহক, মর্নিং গ্লোরি, জারবেরা প্রভৃতি। প্রসিদ্ধ শীতের ফুল না হলেও গোলাপ কেন বাদ যাবে। রাখতে পারেন হাজারি গোলাপ। বারান্দার এক কোণে ঝোপ হয়ে ফুলে ফুলে ভরিয়ে দেবে।

কে কোথায়

কোন ফুলগাছ কোথায় কিভাবে লাগাবেন, তা বারান্দার সৌন্দর্যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ।

বারান্দার দেয়ালে, সিলিং ও গ্রিলে ঝুলিয়ে রাখার জন্য প্লাস্টিকের টবই বেশ। তবে গাছ রোপণের ক্ষেত্রে মাটির পাত্র সেরা। কারণ এগুলো অতিরিক্ত পানি শোষণ করতে পারে, আবার প্রয়োজনে সেই পানিটা শিকড়েরও কাজে লাগে। তবে প্লাস্টিক, সিরামিক কিংবা অন্যান্য পাত্র ব্যবহার করতে পারেন।

গ্রিলে ঝোলানো টবে লাগানোর জন্য পিটুনিয়া, ন্যাস্টারশিয়াস, অ্যাস্টার, ভারবেনা ইত্যাদি ভালো। গ্রিলে লতিয়ে দেওয়ার জন্য নীলমণি লতা, মর্নিং গ্লোরি, রেল লতা, সুইট পি ভালো। টবের জন্য গাঁদা, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, জারবেরা, কারনেশান, ক্যালেন্ডুলা, অ্যাস্টার ইত্যাদি।

যত্নে যা প্রয়োজন

প্রতি টবের জন্য দোআঁশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের এক ভাগ পরিমাণ জৈব সার বা পচা গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করে নিন। এর সঙ্গে একমুঠো হাড়ের গুঁড়া, দুই চা চামচ চুন, দুই মুঠো ছাই মেশাতে পারলে ভালো। এতে টবের মাটি দীর্ঘদিন উর্বর থাকবে।

ফুল ফোটাতে টিপস

♦ বারান্দায় রোদ কম পড়লে সপ্তাহে দুই দিন গাছগুলোকে ছাদে বা বাইরে রোদ পোহাতে দিন।

♦ গাছের চেহারা দুর্বল দেখা গেলে পরপর তিন-চার দিন এক ঝাঁজরি পানির মধ্যে দুই চা চামচ ইউরিয়া সার গুলে ঝাঁজরি দিয়ে ছিটিয়ে দিন।

♦ সরিষার খৈল কয়েক দিন একটি পাত্রে ভিজিয়ে রেখে তা গুলে ১৫ দিন পর পর গাছের গোড়ার চারদিকে দিন। অন্তত কুঁড়ি না আসা পর্যন্ত দিন।

♦ গাঁদা ফুলের আকার বড় করতে চাইলে প্রথম কুঁড়িগুলো নখ দিয়ে খুঁটে ভেঙে দিন।

♦ প্যানজিগাছের বয়স হলে ফুল ছোট হয়ে আসবে। এ অবস্থায় গোড়া থেকে ছেঁটে দিলে নতুন গজানো ডালে আবার ভালো ফুল ফুটবে।

♦ অ্যান্টিরিনামের ভালো ফুল পেতে হলে শুধু মাঝের ডালটি রেখে অন্য সব ডাল কচি অবস্থায় ছেঁটে ফেলুন।

♦ স্বাভাবিক সময়ের আগে গাছে কুঁড়ি এলে তা ভেঙে দিন।

♦ ফুল শুকাতে শুরু করলে দ্রুত তা গাছ থেকে কেটে ফেলুন।

দরদাম

রাজধানীর দোয়েল চত্বর এলাকার ইকবাল নার্সারির মোহাম্মদ ইকবাল জানান, শীতের সময় বাহারি ফুলের সমারোহ থাকে। বেশির ভাগই বিদেশি ফুল। দামও নাগালের মধ্যেই। ল্যান্টাস, জিনিয়া, জারবেলা, পটুলিয়া, এন্টারহেনা, টরোনিয়া পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকা পাওয়া যাচ্ছে ৮০ থেকে ১৫০ টাকায়। টব ছাড়া মৌসুমি প্রায় সব ফুলের গাছই পাওয়া যাবে ৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে।

কোথায় পাবেন

রাজধানীর দোয়েল চত্বর, ধানমণ্ডি, তাজমহল রোড ও মিরপুর রোডের পাশে, বেগম রোকেয়া সরণি, শেরেবাংলানগর, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের দেওয়ানপাড়া বালুর মাঠ, উত্তরার ডিয়াবাড়ি রোড, মোহাম্মদপুরের আওরঙ্গজেব রোড, আগারগাঁও বাসস্ট্যান্ড, উত্তরা, সেক্টর-৩ প্রভৃতি স্থানে।