ঘুরে আসুন পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের জেলা ফরিদপুর

501
ছবি: সংগৃহীত

কর্মজীবনের যান্ত্রিকতা এবং শহরের কোলাহল থেকে কিছুদিনের জন্য প্রশান্তি চায় না এমন লোক খুঁজে পাওয়া আসলেই দুষ্কর। আমরা বাঙালিরা স্বভাবগত ভাবে একটু বেশিই ভ্রমনবিলাসী। অনেকই বছরের শুরু থেকে মনে মনে ছক কষতে থাকেন কিছু দিনের জন্য পরিবার অথবা বন্ধুদের নিয়ে দেশে অথবা বিদেশে ঘুরতে যাওয়ার। তাদের জন্য এবারের আয়োজন পল্লীকবি জসীমউদ্দিনের জেলা ফরিদপুর। থাকছে ফরিদপুর জেলার ভ্রমণের খুটিনাটি বিষয়।

বাংলাদেশে ইতিহাস-ঐতিহ্য সমৃদ্ধ যে কয়েকটি জেলা রয়েছে তার মধ্যে ফরিদপুর জেলা অন্যতম। ফরিদপুর জেলার আয়তন ২০৭২.৭২ বর্গ কিলোমিটার। ফরিদপুর জেলার উত্তরে রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জ জেলা, দক্ষিণে গোপালগঞ্জ জেলা, পশ্চিমে মাগুরা ও নড়াইল জেলা এবং পূর্বে মাদারীপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলা অবস্থিত।

অবস্থান
ফরিদপুর জেলাটি মূলত ৮৯.২৯০ পূর্ব হতে ৯০.১১০ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ এবং ২৩.১৭০ উত্তর হতে ২৩.৪০ ০ উত্তর অক্ষাংশে অবস্থিত।

যাতায়াত পদ্ধতি
ঢাকা থেকে ফরিদপুরে সাধারনত সড়ক পথেই যাতায়াত করা হয়ে থাকে। ঢাকা থেকে ফরিদপুরে সড়ক পথে যাতায়েত করতে সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা, তবে ফেরী পারাপারের সময় যানজট থাকলে সময় বেশী লাগে।

ঢাকা থেকে ফরিদপুর ভাড়া
গাবতলী বাসস্ট্যান্ড থেকে বেশ কয়েকটি বাস ফরিদপুরের উদ্দেশ্য ছেড়ে যায়। এসব বাস গুলোর মধ্যে আনন্দ পরিবহন, আজমিরী পরিবহন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, নাবিল পরিবহন, দ্রুতি পরিবহন, শাপলা পরিবহন ও সোহাগ পরিবহন অন্যতম।

আনন্দ পরিবহন-২৫০ টাকা
আজমিরী পরিবহন-৩০০ টাকা

হানিফ এন্টারপ্রাইজ-৪০০ টাকা
ফোন: ০১৭১৩-৪০২৬৭১

সোহাগ পরিবহন-৩৮০ টাকা
ফোন: ০১৭১১-৬১২৪৩৩

নাবিল পরিবহন-৩০০ টাকা

এছাড়া খুলনা রুটে যেসব বাস চলাচল করে সে সব বাসের অধিকাংশই ফরিদপুরে বিরতি দেয়। সেক্ষেত্রে খুলনার বাসেও ফরিদপুরে যাওয়া যায়। খুলনার বাস গুলো সাধারনত মাগুড়ার ভাড়া নিয়ে থাকে।

লঞ্চ পারাপার
গাবতলী থেকে পাটুরিয়া পর্যন্ত কিছু বাস চলাচল করে। পাটুরিয়া থেকে লঞ্চে করে গোয়ালন্দ ঘাট যাওয়া যায়। সেখান থেকে অন্য বসে উঠে ফরিদপুর যাওয়া যায়। তবে খুলনা ও যশোর রুটের অনেক গাড়ী লঞ্চে যাত্রী পারাপার করে থাকে। লঞ্চে যাতায়াত করলে সময় ও অর্থ দুটোই কম লাগে।

যাত্রা পথে পড়বে চোখে
ঢাকা থেকে ফরিদপুরে যাওয়ার পথে সাভার স্বৃতিসৌধ, সাভার ক্যান্টনমেন্ট, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় ও মানিকগঞ্জ জেলার বিভিন্ন দর্শণীয় স্থান চোখে পড়বে।

ফরিদপুরে থাকার ব্যবস্থা
ফরিদপুরে যাওয়ার পর ভ্রমণকারীর থাকার জন্য রয়েছে বিভিন্ন আবাসিক হোটেল। ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে আবাসিক হোটেল গুলোর দূরত্ব মাএ ১ কিলোমিটার, রিক্স ভাড়া ১০ টাকা। আবাসিক হোটেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ৮০ টাক সর্বোচ্চ ভাড়া ৯০০ টাকা। আবাসিক হোটেল গুলোতে সিঙ্গেল ও ডাবল উভয় বেড রয়েছে। সরকারি কর্মকতা ও কর্মচারীদের জন্য রয়েছে সার্কিট হাউজ।

হোটেল লাক্সারী
এসি-৯০০ টাকা, ননএসি-৩৪০ টাকা
ফোন: +০৬-৩১-৬২৬২৩

হোটেল র্যাফেল ইনস
এসি-৯০০ টাকা, ননএসি-৩৪০ টাকা
ফোন: +০৬-৩১-৬১১০৬

হোটেল পদ্মা
এসি-৪০০ টাকা, ননএসি-১৬০ টাকা
ফোন: +০৬-৩১-৬২৬২৩

হোটেল পার্ক প্যালেস
এসি-৩৫০ টাকা, ননএসি-১৫০ টাকা
মোবাইল: ০১৫৫৬৩২৭০৬৭

হোটেল শ্যামলী
এসি-৩৫০ টাকা, ননএসি-১৫০ টাকা
ফোন: +০৬-৩১-৬৪৫৩৮

হোটেল জোনাকী
ননএসি-৬০ টাকা
ফোন: +০৬-৩১-৬৪১৬৮

রাজ বোডিং
ননএসি-৮০ টাকা
মোবাইল: ০১৭২৫০৬৮৭৮৮

আঞ্চলিক ধান গবেষনা ইনষ্টিটিউট
ননএসি-১০০ টাকা
ফোন: +০৬-৩২৩-৫৬৩২৯

ফরিদপুরের দর্শণীয় স্থানসমূহ
১. গেরদা মসজিদ
২. পাতরাইল মসজিদ ও দীঘি
৩. বাসদেব মন্দির
৪. পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি ও কবরস্থান
৫. নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট
৬. জগদ্বন্ধু সুন্দরের আশ্রম
৭. সাতৈর মসজিদ
৮. ফাতেহাবাদ টাকশাল মথুরাপুর দেউল
৯. বাইশ রশি জমিদার বাড়ি
১০. জেলা জজ কোর্ট ভবন
১১. ভাঙা মুন্সেফ কোর্ট ভবন
১২. বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আবদুর রউফ জাদুঘর
১৩. মেরিন কলেজ
১৪. হযরত শাহ্ ফরিদ মসজিদ
১৫. গৌর গোপাল আঙ্গিনা
১৬. আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল
১৭. মথুরাপুরের দেউল

দর্শণীয় স্থান যাতায়াতের খরচ
পল্লী কবিজসীম উদ্দীনের বাড়ী ও কবর স্থান। ৩০ টাকা (রিক্সা ভাড়া)।

নদী গবেষনা ইনষ্টিটিউট। ২০ টাকা (রিক্স ভাড়া)।

হযরত শাহ্ ফরিদ মসজিদ। ২০ টাকা (রিক্স ভাড়া)।

জগদ্বন্ধু সুন্দর এর আশ্রম। ২৫ টাকা (রিক্স ভাড়া)।

গৌর গোপাল আঙ্গিনা, গোয়ালচামট। ৩৫ টাকা (রিক্স ভাড়া)

আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল, সদরপুর। ২০ টাকা (বাস ভাড়া)।

বাইশ রশি জমিদার বাড়ী, সদরপুর। ১০ টাকা (বাস ভাড়া)।

সাতৈর মসজিদ, বোয়ালমারী। ৪৫ টাকা (বাস ভাড়া)।

মথুরাপুরের দেউল, মধুখালী। ৩০ টাকা (বাস ভাড়া)।

পাতরাইল মসজিদ, ভাঙ্গা। ২০ টাকা (বাস ভাড়া)।

বীরশ্রেষ্ট মুন্সি আব্দুর রউফের গ্রামের রাড়ী। ৩৫ টাকা (বাস ভাড়া)।

মধুখালী যাবেন যেভাবে
মধুখালী উপজেলায় রয়েছে বীরশ্রেষ্ট মুন্সি আব্দুর রউফের গ্রামের বাড়ী, পাঠাগার ও মথুরাপুরের দেউল। মধুখালী উপজেলায় যেতে হলে ফরিদপুর পৌর বাস টার্মিনাল থেকে মাগুড়ার গাড়ীতে উঠতে হবে। বীরশ্রেষ্ট মুন্সি আব্দুর রউফের গ্রামে যেতে হলে কামারখালী বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে। বাসস্ট্যান্ড থেকে রিক্স অথবা ভ্যান চালক কে বললে সালামতপুর গ্রামে নিয়ে যাবে। সালামতপুর গ্রামই মুন্সি আব্দুর রউফের গ্রামের বাড়ী। আর মথুরাপুরের দেউল দেখতে যেতে হলে মধুখালী নেমে ১৫ টাকা দিয়ে রিক্স যোগে মথুরাপুর গ্রামে যেতে হবে।

বোয়ালমারী যাবেন যেভাবে
ফরিদপুর থেকে বোয়ালমারীর গাড়ীতে উঠলে কাদিরদী বাজার, কাদিরদী কলেজ, সাতৈর বাজার হয়ে বোয়ালমারী পৌছানো যাবে। ফরিদপুর থেকে বোয়ালমারীর ভাড়া পড়বে ৪৫ টাকা।

ভাঙ্গা যাবেন যেভাবে
ফরিদপুর বাস টার্মিনাল থেকে সরাসরি ভাঙ্গার বাস রয়েছে। ভাঙ্গা যেতে খরচ পড়বে ২০ টাকা। ভাঙ্গা গেলে দেখতে পাবেন পাতরাইল মসজিদ।

সদরপুর যাবেন যেভাবে
ফরিদপুর থেকে সদরপুর যাওয়ার সরাসরি বাস রয়েছে। সদরপুর যেতে বাস ভাড়া লাগবে ২০ টাকা। রিক্সা যোগেও সদরপুর যাওয়া যায় তবে এক্ষেত্রে খরচ পড়বে ৫০ টাকা। অনেক যাত্রী আছে যারা পাটুরিয়া থেকে ট্রলারে করে সদরপুর গিয়ে থাকে।

দর্শণীয় স্থানসমূহের বিবরন: 

পল্লী কবি জসীম উদদীনের বাড়ী ও কবর স্থান
ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর রেলষ্টশনের উত্তরে কুমার নদীর দক্ষিণে গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লী কবি জসীম উদদীনের বাড়ী। বাড়ীতে ০৪টি পুরাতন টিনের ঘর চার চালা ঘর রয়েছে। কবির ব্যবহ্নত বিভিন্ন জিনিসপত্রাদি ঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। কবির বিভিন্ন লেখা বাড়ীর চত্ত্বরে প্রদর্শন করা আছে। বাড়ীর পূর্ব ও পশ্চিমে পোর্শিদের বসতবাড়ী এবং দক্ষিণে ছোট একটি পুকুর রয়েছে। বাড়ীর উত্তরে কবির কবর স্থান। কবর স্থানের পাশ্বেই পাকা রাস্তা ও কুমার নদী আছে। কবি ১৪-০৩-১৯৭৬ খ্রিঃ তারিখ হতে ডালিম গাছের তলে চিরতরে শায়িত রয়েছেন। কবির কবর স্থানটি পাকা উচু করণ এবং চতুর্দিকে গ্লীলের বেষ্টুনী দ্বারা নির্মিত। কবর স্থানে চিরতরে শায়িত আছেন- (১) কবির পিতা-মৌঃ আনছার উদ্দিন মোল্লা (মৃত্যুর তারিখঃ ২৬-১১-১৯৪৩) (২) মাতা- আমেনা খাতুন (রাঙ্গা ছোটু) (মৃত্যুর তারিখঃ ১৫-১০-১৯৫৩) (৩) কবির পত্নী- বেগম মমতাজ জসীম উদ্দিন (মৃত্যুর তারিখঃ ১৪-০১-২০০৬) (৪) বড় ছেলে- কামাল আনোয়ার (হাসু) (মৃত্যুর তারিখঃ ০৩-৬-১৯৯০), (৫) বড় ছেলের স্ত্রী- জরীনা (মৃত্যুর তারিখঃ ৩০-৬-১৯৬৩), (৬) কবির বড় ভাই- আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন মোল্লা (মৃত্যুর ১৪-৪-১৯৬৩), (৭) কবির সেজো ভাই- সাঈদ ইদ্দন আহম্মদ মোল্লা (মৃত্যুর তারিখ ২৪-৩-১৯৭৫) (৮) কবির ছোট ভাই-প্রফেসর নুরুদ্দীন আহম্মদ (মৃত্যুর তারিখ ০১-৭-১৯৬৪), (৯) কবির ছোট বোন-নূরুন নাহার (সাজু) (মৃত্যুর তারিখ ১০-১১-১৯৫০) (১০) কবির নাতিন- আসিফ (মৃত্যুর ৩০-৩-১৯৮০), (১১) কবির সেজো ভাইয়ের মেয়ে- মোসাঃ হোসনে আরা (দোলন) (মৃত্যুর তারিখ ২১-৪-১৯৭৩), (১২) কবির সেজো ভাইয়ের নাতনী-মনজুরা শাহরীন (চাঁদনী) (মৃত্যুর তারিখ ০৮-৬-২০০৭ ) এবং (১৩) কবির শিশু ভাগিনীর কবর।

অবস্থান:
ফরিদপুর সদর উপজেলার অম্বিকাপুর রেলষ্টশনের উত্তরে কুমার নদীর দক্ষিণে গোবিন্দপুর গ্রামে পল্লী কবি জসীম উদদীনের বাড়ী

নদী গবেষনা ইনষ্টিটিউট
নদী মাতৃক এ বাংলাদেশ একটি অতি জটিল পলিভরণকৃত ব-দ্বীপ। অসংখ্য বিনুনি শাখা প্রশাখা সহ গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা এ ৩টি অন্যতম প্রধান ও সুবৃহৎ আন্তর্জাতিক নদীমালা কর্তৃক বাহিত পলিতে গঠিত এ বাংলাদেশ। এতদবিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে তৎকালীন সরকার ১৯৪৮ সালে ঢাকার গ্রীণরোডে প্রায় ১২ একর জমির উপর ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ নামে একটি গবেষণাগার স্থাপন করে। স্বাধীনতা উত্তরকালে ব্যাপক বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও গবেষণার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৮ সালে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে এবং ‘‘হাইড্রলিক রিসার্চ ল্যাবরেটরী’’ প্রতিষ্ঠানটি ইহার সহিত একীভূত করে। পরবর্তীতে পানি সম্পদ সেক্টরে বহুমুখী গবেষণা কার্যক্রম উত্তরোত্তর বৃদ্ধির লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯০ সনের ৫৩নং আইন বলে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কেএকটি সংবিধিবদ্ধ স্বায়ত্ব-শাসিত সংস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন হতে আলাদা করে সরাসরি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ন্যস্ত করে।
১৯৮৯ সালে ঢাকা শহর হতে ১৪০ কিলোমিটার দুরে ফরিদপুর শহরের উপকন্ঠে ৮৬ একর জমির উপর এক মনোরম পরিবেশে নদী গবেষণা ইনষ্টিটিউট প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠিত হয়।লাইব্রেরী:নগইতে একটি সমৃদ্ধশালী লাইব্রেরী আছে, যেখানে হাইড্রলিক্স ও জিওটেকনিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এর দেশী ও বিদেশী ১৩১৩টি বই, ২৫৭৫টি জার্নাল, ৫৮৩৫টি রিপোর্ট, প্রসিডিংস সহ ৩৯১১টি প্রকাশনা আছে।

অবস্থান:
ফরিদপুর জেলার বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে।

জগদ্বন্ধু সুন্দর এর আশ্রম
মহাবতারী শ্রী শ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু সুন্দরের আবির্ভাব ২৮শে এপ্রিল ১৮৭১ বাংলা ১২৭৮ সনের ১৬ বৈশাখ রোজ শুক্রবার। মানবলীলা সংবরণ করেন ১৭ সেন্টেম্বর ১৯২১। পৈত্রিক নিবাস ফরিদপুর শহর সংলগ্ন গ্রাম গোবিন্দপুর। পিতা-শ্রী দীননাথ ন্যায়রত্ম, মাতা-শ্রীমতী বামাসুন্দরী দেবী। শ্রী শ্রী প্রভু সুন্দরের আবির্ভাব মুর্শিদাবাদ জেলার ডাহাপাড়ায়। কারণ ডাহাপাড়া পিতার কর্মস্থল ছিল। তিনি শ্রীধাম শ্রীঅঙ্গন প্রতিষ্ঠা করেন বাংলা আষাঢ় ১৩০৬ রথযাত্রা উৎসরে। শ্রীঅঙ্গনের এ জমি দান করেন ফরিদপুর গোয়ালচামটের শ্রীরামসুন্দর ও শ্রীরাম কুমারমুদি। শ্রীরাম শ্রীঅঙ্গন মহানাম প্রচারের কেন্দ্রে পরিনণত হয়। তাঁর দিব্যজীবন স্থায়িত্ব পঞ্চাশ বছর চার মাস বিশ দিন মাত্র। বিদ্যজীবনের প্রথম আঠারো বৎসর বিদ্যাভাব, দশ বৎসর কর্মজীবন, পরবর্তী ষোল বৎসর আট মাস গম্ভীরালীলা নিমগ্ন থাকেন। মানবলীলা সংবরণের পরবর্তী মাস বাংলা ১৩২৮ সনের ২ রা কার্তিক হতে শ্রীধাম অঙ্গনে দিবস-রজনী অখন্ড মহানাম কীর্তন অব্যাহত রয়েছে। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ -হরিকথা, চন্দ্রপাত, ত্রিকাল ইত্যাদি।

অবস্থান:
ফরিদপুর পুরাতন বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন, ফরিদপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে।

সাতৈর মসজিদ, বোয়ালমারী
ফরিদপুর হতে সড়কপথে মাঝকান্দি। মাঝকান্দি-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের সাতৈর নামক স্থানে (মহাসড়কের সাথে ) মসজিদটি অবস্থিত।
আজ থেকে প্রায় ৭০০ শত বছর পূর্বে আলা-উদ্দিন হুসাইন শাহ ছিলেন বাদশা। তখন এই সাতৈর গ্রামে বহু আওলিয়ার বসবাস ছিলেন। তাদের মধ্যে হযরত শাহ সুফী শায়েখ শাহ ছতুরী (রাঃ) এর মুরিদ ছিলেন আলাউদ্দিন হুসাইন শাহ। ঐতিহাসিক এই মসজিদটি সেই সময়ে নির্মিত হয়। সাতৈর মাহী মসজিদের পাশ ঘেঁষেই গেছে ঐতিহাসিক গ্রান্ড ট্রাংক রোড বা শের শাহ সড়ক। কেউ কেউ মনে করেন সাতৈর শাহ মসজিদ শের শাহের আমলের কীর্তি। মসজিদটি সম্পর্কে অনেক কাহিনী এলাকায় প্রচলিত আছে। যেমন (১) মসজিদ খানা আল­াহর হুকুমে এক রাত্রে মাটি ফেটে গজিয়ে ওঠে (২) মসজিদের ভিতরের খুঁটি চারটি বিভিন্ন সময়ে হাসি-কান্না করে (৩) মসজিদের পিলারগুলোর কাছে কাছে যা আশা করা যায় তাই পাওয় যায় (৪) মসজিদের ইট বাড়িতে রাখলে উঁই পোকা লাগে না (৫) মসজিদের ধুলি গায়ে মাখলে যে কোন ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়া যায় (৬) মসজিদে এসে মানত করলে নিঃসন্তানদের সন্তান হয়। এ কথাগুলো বিশ্বাস করেই প্রতিদিন দূর দূরান্ত থেকে বহু লোক নানা ধরণের মানত নিয়ে আসে।

মথুরাপুরের দেউল, মধুখালী
মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়নে অবস্থিত মথুরাপুরের দেউল। মধুখালীতে অবস্থিত ফরিদপুর চিনিকলের ঠিক ২ থেকে ৩০০ গজ উত্তরে অবস্থিত এ মথুরাপুরের দেউল। এর পশ্চিমে রয়েছে চন্দনা নদী। ইতিহাস ও কালের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কয়েকশ’ বছর আগের পুরাকীর্তি এ স্থাপত্য শিল্প মথুরাপুরের দেউল। কখন ও কি উদ্দেশ্যে এটি গড়ে উঠেছিল তা জানার কৌতূহল এলাকাবাসীসহ দেশ-বিদেশের অনেকেরই রয়েছে দীর্ঘদিন। এ কৌতূহল মেটানোর মতো গ্রহণযোগ্য কোনো তথ্য এ যাবত্ কেউই দিতে পারেনি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় এটি হয়ে উঠতে পারে আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। দেউলটির নিপুণ নির্মাণশৈলী ও শৈল্পিক কারুকার্য যে কোনো দর্শনার্থীর মনোজগেক নাড়া দেয়। কারুকার্যখচিত প্রায় ৯০ ফুট উচ্চতাবিশিষ্ট এ দেউলটির দক্ষিণ দিকের গেট ও গেট সংলগ্ন পোড়া মাটির তৈরি শিল্প খণ্ডগুলো সত্যিই দেখার মতো। এগুলো দিন দিন খসে পড়ার উপক্রম হচ্ছে। অবশ্য ২০০১ সালের দিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা পত্রিকায় লেখালেখির পর এর কিছু সংস্কার করা হয়েছে। দেউলটির নির্মাণশৈলী ও শৈল্পিক কাজ পোড়া মাটির তৈরি পাথর আকৃতির শিলাখণ্ডগুলো এমনভাবে গাঁথা রয়েছে, কীভাবে কোথা থেকে শুরু হয়েছে তা বোঝা খুবই দুরূহ। দেউলটির শরীরজুড়ে রয়েছে শিলাখণ্ডের ছাপচিত্র, মাটির ফলকে রয়েছে অসংখ্য ছোট মূর্তি, যা দর্শনার্থীদের মনোজগেক নাড়া দেয়, কৌতূহলকে দেয় উস্কে। এ দেউল সম্বন্ধে বিভিন্ন জন ভিন্ন মত পোষণ করেন। কারও তথ্যের সঙ্গে কারও তথ্যের মিল খুঁজে পাওয়া কষ্টকর। যে তথ্যগুলো পাওয়া যায় তার প্রথমটি হলো, ১৭ শতকের প্রথম দিকে মুঘল সুবেদার ইসলাম খাঁ ভূষণা রাজ্য (মধুখালী থেকে ২ কিলোমিটার দক্ষিণে যা না-কি সিতারাম রাজা রাজধানী করতে চেয়েছিলেন) আক্রমণ করলে রাজা সীতারাম রায় পরাজিত ও নিহত হন। ইসলাম খাঁ ভূষণা রাজ্যকে আবার ফৌজদারি হিসেবে ঘোষণা করেন এবং নতুন ফৌজদার নিযুক্ত করেন। ঐতিহাসিকদের অনেকেই মনে করেন, মুঘলদের পুনর্বিজয়ের স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে মথুরাপুরের দেউলটি নির্মাণ করা হয়েছে। দ্বিতীয়টি, সম্রাট আকবরের আমলে ভূষণার রাজা সীতারামকে দমনের লক্ষ্যে মুঘল সৈন্যরা এ এলাকায় আসেন। তারা পরাজয় বরণ করে নেন। এ যুদ্ধে সংগ্রাম সিং নামের না-কি এক সেনানায়ক নিহত হন। পরে অবশ্য মুঘলরা শক্তি সঞ্চয় করে সেই যুদ্ধে জয়লাভ করে। মতান্তরে সে যুদ্ধের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য ও যুদ্ধ জয়, আর সেনাপতি সংগ্রাম সিং নিহত হওয়ায় তার স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য মথুরাপুরের স্মৃতিস্তম্ভ মথুরাপুরের দেউল নির্মাণ করা হয়। এলাকায় এ নিয়ে আরও অনেক জনশ্রুতি রয়েছে। এখানে অনেক দর্শনার্থী আসেন। প্রত্নতত্ত্ব ও জাদুঘর কর্তৃপক্ষ যদি দেউল সংলগ্ন স্থানে কোনো পিকনিক কর্নার, বিশ্রামাগার তৈরির ব্যবস্থা করেন তাহলে এটি আরও ব্যাপকভাবে মানুষের কাছে আকর্ষণের বিষয় বস্তুতে পরিণত হতে পারে পর্যটনের নিরাপদ স্থান।

পাতরাইল মসজিদ, ভাঙ্গা
প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী আউলিয়া খান জামে মসজিদ যা ১৩৯৩ হতে ১৪১০ খ্রিঃ মধ্যে গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ নির্মাণ করেন বলে ধারণা করা হয়। এ ঐতিহাসিক মসজিদের দক্ষিণ পাশ্বেই চির নিন্দ্রায় শাহিত আছেন মহান আউলিয়া মজলিস আউলিয়া খান। মসজিদের আঙ্গিনায় আছেন মস্তান দরবেশ নাজিমদ্দিন দেওয়ানের মাজার। আউলিয়া খানের মাজারের দক্ষিণ পাশে আছেন ফকির ছলিমদ্দিন দেওয়ানের মাজার। জনশ্রুতি আছে যে, অত্র এলাকায় প্রজাদের পানীয় জলের সমস্যা নিরসনকল্পে ও ইবাদতের জন্য মসজিদের পার্শ্বেই ৩২.১৫ একর জমির উপর একটি দীঘি খনন করেন। বর্তমানে এটি ভাঙ্গা উপজেলাধীন পাতরাইল দীঘিরপাড় আউলিয়া মসজিদ নামে সুপরিচিত। মসজিদটি বর্তমানে প্রত্মতত্ত্ব বিভাগের নিয়ন্ত্রনাধীন আছে। যেহেতু মসজিদটি ঢাকা হতে দক্ষিণ বঙ্গের হাইওয়ের রাস্তা সংলগ্ন, সেহেতু মসজিদটিসহ উক্ত দীঘিটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করে উন্নয়ন করলে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভবনা আছে।

সূত্র: কালের কন্ঠ