ঘুরে আসুন দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির

465
ছবি: সংগৃহীত

কান্তজির মন্দির দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে এবং কাহারোল উপজেলা সদর থেকে সাত কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে সুন্দরপুর ইউনিয়নে, দিনাজপুর-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের পশ্চিমে ঢেঁপা নদীর তীরে অবস্থিত একটি প্রাচীন মন্দির। এটি নবরত্ন মন্দির নামেও পরিচিত কারণ তিনতলাবিশিষ্ট এই মন্দিরের নয়টি চূড়া বা রত্ন ছিলো।

মন্দিরের উত্তর দিকের ভিত্তিবেদীর শিলালিপি থেকে জানা যায়, তৎকালীন দিনাজপুরের মহারাজা জমিদার প্রাণনাথ রায় তাঁর শেষ বয়সে মন্দিরের নির্মাণ কাজ শুরু করেন। ১৭২২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যুর পরে তাঁর শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাঁর পোষ্যপুত্র মহারাজা রামনাথ রায় ১৭৫২ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। শুরুতে মন্দিরের চূঁড়ার উচ্চতা ছিলো ৭০ ফুট। ১৮৯৭ খ্রিস্টাব্দে মন্দিরটি ভূমিকম্পের কবলে পড়লে এর চূঁড়াগুলো ভেঙে যায়। মহারাজা গিরিজানাথ মন্দিরের ব্যাপক সংস্কার করলেও মন্দিরের চূড়াগুলো আর সংস্কার করা হয়নি।

মন্দিরের বাইরের দেয়াজুড়ে পোড়ামাটির ফলকে লেখা রয়েছে রামায়ণ, মহাভারত এবং বিভিন্ন পৌরাণিক কাহিনী। পুরো মন্দিরে প্রায় ১৫,০০০-এর মতো টেরাকোটা টালি রয়েছে। উপরের দিকে তিন ধাপে উঠে গেছে মন্দিরটি। মন্দিরের চারদিকের সবগুলো খিলান দিয়েই ভেতরের দেবমূর্তি দেখা যায়।

মন্দির প্রাঙ্গণ আয়তাকার হলেও, পাথরের ভিত্তির উপরে দাঁড়ানো ৫০ফুট উচ্চতার মন্দিরটি বর্গাকার। নিচতলার সব প্রবেশপথে বহু খাঁজযুক্ত খিলান রয়েছে। দুটো ইটের স্তম্ভ দিয়ে খিলানগুলো আলাদা করা হয়েছে, স্তম্ভ দুটো খুবই সুন্দর এবং সমৃদ্ধ অলংকরণযুক্ত। মন্দিরের পশ্চিম দিকের দ্বিতীয় বারান্দা থেকে সিঁড়ি উপরের দিকে উঠে গেছে। মন্দিরের নিচতলায় ২১টি এবং দ্বিতীয় তলায় ২৭টি দরজা-খিলান রয়েছে, তবে তৃতীয় তলায় রয়েছে মাত্র ৩টি করে।

যাবেন যেভাবে
ঢাকা থেকে দিনাজপুরের দুরত্ব ৪১৪ কিলোমিটার। রাজধানীর গাবতলী ও কল্যাণপুর থেকে দিনাজপুরগামী বাস পাওয়া যাবে। ভাড়া পড়বে ৬০০ টাকা। কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আন্তঃনগর ট্রেন ধরেও দিনাজপুর যাওয়া যাবে। দিনাজপুর জেলা সদর থেকে কান্তজীর মন্দিরের দূরত্ব ১৬ কিলোমিটার। বাসে বা ব্যক্তিগত যানবাহনে যাতায়াত করা যাবে সবচেয়ে সহজে।

থাকা-খাওয়া
দিনাজপুর জেলাসদরে সরকারী/বেসরকারী পর্যায়ে প্রায় ৩৬টি হোটেল, রেষ্ট হাউজ, গেষ্ট হাউজ, ডাকবাংলো রয়েছে। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে প্রায় পঞ্চাশের অধিক হোটেল, রেষ্ট হাউজ ও ডাকবাংলো।দিনপ্রতি ২০০ টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের রুম ভাড়া পাওয়া যায় এসব হোটেলে।

খাওয়ার জন্যে বেশ কিছু হোটেল পাবেন হাতের কাছেই। রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় ভাল মানের মিষ্টির দোকান আছে। এখানকার স্বাভাবিক পানি পান করা নিরাপদ। মিনারেল ওয়াটারের বাড়তি খরচটুকু না করলেও চলবে।

সার্কিট হাউস, দিনাজপুর।
ফোন: ০৫৩১-৬৩১১২

পর্যটন মোটেল, দিনাজপুর।
ফোন: ০৫৩১-৬৪৭১৮

রামসাগর জাতীয় উদ্যান রেষ্ট হাউজ, তাজপুর, সদর, দিনাজপুর।
ফোন: ০৫৩১-৬৫৫৫৮, ফ্যাক্স: ০৫৩১-৬৩০৯০

দিনাজপুর জেলা পরিষদ ডাকবাংলো
ফোন: ০৫৩১-৬৫০৫৬

পানি উন্নয়ন বোর্ড রেষ্ট হাউজ, মিশন রোড, দিনাজপুর।
ফোন নং০৫৩১-৬৩২৫২, ফ্যাক্স:০৫৩১-৬৩২৫২

যুব প্রশিক্ষণ গেষ্ট হাউজ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, কাশিপুর, দিনাজপুর।
ফোন: ০৫৩১-৬১০৫৫

এলজিইডি রেষ্ট হাউজ, মিশনরোড, দিনাজপুর।
ফোনঃ ০৫৩১-৬৩৩৮১

হর্টিকালচার সেন্টাররেষ্ট হাউজ, সুইহাড়ি, দিনাজপুর।
ফোন নং০৫৩১-৬৪৭৪৮

পাট বীজ খামারের রেষ্ট হাউজ, নশিপুর, দিনাজপুর সদর, দিনাজপুর।
ফোনঃ ০৫৩১-৬৫১৯১

গেষ্ট হাউজ, তুলা উন্নয়ন বোর্ড, নশিপুর, দিনাজপুর।
ফোনঃ ০৫৩১-৮৯০০৯

অতিথি ভবন, গম গবেষনা কেন্দ্র, নশিপুর, দিনাজপুর।
ফোনঃ ০৫৩১-৬৩৯৫৭

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণাইনষ্টিটিউট
বেসরকারি রেষ্ট হাউজ/ গেষ্ট হাউজ/ ডাকবাংলো

গেষ্ট হাউজ, এফপিএবি, দিনাজপুর শাখা ঘাসিপাড়া, দিনাজপুর
ফোনঃ ০৫৩১-৬৩২১৪

হোটেল ডায়মন্ড আবাসিক, মালদাপট্টি দিনাজপুর।
ফোনঃ ০৫৩১-৬৪৬২৯

নিউ হোটেল আবাসিক, স্টেশন রোড দিনাজপুর।
ফোনঃ ০৫৩১-৬৪১৫৫

মেসার্স হোটেল কণিকা আবাসিক, স্টেশন রোড, দিনাজপুর।
মোবাইলঃ ০১৮১৮২৯৫৭২

হোটেল আল রশিদ, নিমতলা, দিনাজপুর।
ফোনঃ ০৫৩১-৬৪২৫১

হোটেল সোনার তরী আবাসিক, গণেশতলা দিনাজপুর।
মোবাইলঃ ০১৭১৬০১৮৯৯৫

সূত্র: সমকাল