ঘুরে আসুন আচড়ে পড়া ঢেউয়ের সৈকত কক্সবাজার

477
ছবি: সংগৃহীত

বিস্তীর্ণ বেলাভূমি, সারি সারি ঝাউবন, সৈকতে আছড়ে পড়া বিশাল ঢেউ। সকালবেলা দিগন্তে জলরাশি ভেদকরে রক্তবর্ণের থালার মতো সূর্য। অস্তের সময় দিগন্তের চারিদিকে আরো বেশি স্বপ্নিল রঙ মেখে সে বিদায় জানায়। এসব সৌন্দর্যের পসরা নিয়েই বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে রচনা করেছে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার।

নীল জলরাশি আর শোঁ শোঁ গর্জনের মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকতের নাম কক্সবাজার। অপরূপ সুন্দর বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার।

মহেশখালী, কুতুবদিয়া, সোনাদিয়া, মাতার বাড়ি, শাহপরী, সেন্টমার্টিন, কক্সবাজারকে করেছে আরো আকর্ষণীয় ও দৃষ্টিনন্দন। এ জেলার উপর দিয়ে বয়ে গেছে মাতা মুহুরী, বাঁকখালী, রেজু, কুহেলিয়অ ও নাফ নদী। পর্যটন, বনজসম্পদ, মৎস্য, শুটকিমাছ, শামুক, ঝিনুক ও সিলিকাসমৃদ্ধ বালুর জন্য কক্সবাজারের অবস্থান তাই ভ্রমণবিলাসী পর্যটকদের কাছে সবার উপরে।

সমুদ্রে নামার আগে সতর্কতা
সমুদ্রে নামার আগে অবশ্যই জোয়ার-ভাটার সময় জেনে নিন। এ সম্পর্কিত ইয়াছির লাইফ গার্ডের বেশ কয়েকটি সাইনবোর্ড ও পতাকা রয়েছে বিচের বিভিন্ন স্থানে। জোয়ারের সময় সমুদ্রে গোসলে নামা নিরাপদ। এ সময় তাই জোয়ারের সময় নির্দেশিত থাকে, পাশাপাশি সবুজ পতাকা ওড়ানো হয়। ভাটার সময়ে সমুদ্রে স্নান বিপজ্জনক ভাটার টানে মুহূর্তেই হারিয়ে যেতে পারে যে কেউ। তাই এ সময় বিচ এলাকায় ভাটার সময় লেখাসহ লাল পতাকা ওড়ানো থাকলে সমুদ্রে নামা থেকে বিরত থাকুন। কোনোভাবেই দূরে যাবেন না। প্রয়োজেন পর্যটকদের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ইয়াছির লাইফ গার্ডের সহায়তা নিন। ওদের জানিয়ে বিচে নামুন।

বিচ ফটোগ্রাফি
কক্সবাজারে পর্যটন মৌসুমে শ’দুয়েক বিচ ফটোগ্রাফার পর্যটকদের ছবি তুলে থাকে। প্রায় ঘন্টা খানেকের মধ্যেই এসব ছবি প্রিন্ট করে নেগেটিভসহ পর্যটকদের হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা রয়েছে। লাল পোশাক পরা এসব বিচ ফটোগ্রাফারদের প্রত্যেকের রয়েছে একটি করে আইডি কার্ড।
বেশ কয়েকটি স্টুডিও এ কাজের সঙ্গে জড়িত। সরকারি রেট অনুযায়ী ফোরআর সাইজের ছবি ৩০টাকা । এ সম্পর্কিত সাইনবোর্ড মেইন বিচে দেখতে পাওয়া যায়। এসব বিচ ফটোগ্রাফারদের কাছ থেকে ছবি তোলার আগে আইডি কার্ড দেখে নেওয়া ভালো।

স্পিডবোট
বিচে বেশ কয়েকটি স্পিডবোট চলে। মেইন বিচ থেকে এগুলো চলাচল করে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত। ভাড়া এক রাউন্ড ১০০টাকা। এছাড়া খোলা স্পিডবোটের সাহায্যে চলে লাইফ বোট জনপ্রতি ভাড়া ২৫০ টাকা।

বিচ বাইক
তিন চাকার বেশ কয়েকটি বিচে চলার উপযোগী বাইক কক্সবাজার সাগর সৈকতে চলাচল করে। প্রায় ১ কিলোমিটার দূরত্বে এসব বাইক রাউন্ড প্রতি পঞ্চাশ টাকা করে পর্যটকদের প্রদান করতে হয়।

কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থান
কক্সবাজার বিচের মেরিন ড্রাইভ ধরে যত দূরে যাবেন পুরো জায়গাই আপনাকে মুগ্ধ করবে। একপাশে পাহাড় আর একপাশে সমুদ্র দেখে আপনি হবেন বিমোহিত। কক্সবাজার গেলে যেসব দর্শনীয় স্থান আপনাকে হাতছানি দিবে তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে-

লাবনী পয়েন্ট ও কলাতলী বিচ
কক্সবাজার শহর থেকে নৈকট্যের কারণে লাবণী পয়েন্ট এবং কলাতলী বিচ পর্যটকদের কাছে প্রধান সমুদ্র সৈকত বলে বিবেচনা করা হয়। লাবনী পয়েন্ট থেকে কলাতলী বিচ হেটে যেতে ১৫ মিনিট লাগবে। লাবণী পয়েন্টে পাবেন ঝিনুক মার্কেট এছাড়াও ছোট বড় অনেক দোকান যেখানে নানারকম জিনিসের পসরা সাজিয়েছে দোকানীরা যা পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ। এছাড়া কলাতলী বিচে আছে সমুদ্রের ধার ঘেষে বেশ কিছু রেস্টুরেন্ট যেখানে খেতে খেতে মনোরম সূর্যাস্ত দেখতে পাবেন।

হিমছড়ি
হিমছড়ি কক্সবাজারের ১৮ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। পাহাড় আর অপরুপ ঝর্ণা এখানকার প্রধান আকর্ষণ। কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি যাওয়ার পথে বামদিকে সবুজঘেরা পাহাড় আর ডানদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সৃষ্টি করে। বর্ষার সময়ে হিমছড়ির ঝর্ণাকে অনেক বেশি জীবন্ত ও প্রাণবন্ত বলে মনে হয়। হিমছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় একটি রিসোর্ট আছে যেখান থেকে বিশাল সমুদ্রের দৃশ্য এক নজরে দেখা যায়।

ইনানী বিচ
দীর্ঘ সমুদ্র সৈকত সংলগ্ন আকর্ষণীয় এলাকাগুলোর মধ্যে অন্যতম ইনানী সমুদ্র সৈকত যা কক্সবাজার থেকে ৩৫ কি.মি. এবং হিমছড়ি থেকে ১৭ কি.মি. দক্ষিণে অবস্থিত। অভাবনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর এই সমুদ্র সৈকতটি কক্সবাজার থেকে মাত্র আধঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত। পরিষ্কার পানির জন্য জায়গাটি পর্যটকদের কাছে সমুদ্রস্নানের জন্য উৎকৃষ্ট বলে বিবেচিত। ইনানী বিচে ভাটার সময় সমুদ্রের মাঝে অনেক প্রবাল পাথর দেখতে পাবেন।

ডুলাহাজরা সাফারী পার্ক
কক্সবাজার শহর থেকে ৩৫ কি.মি. উত্তরে এই সাফারী পার্কের অবস্থান। এটি বাংলাদেশের প্রথম সাফারী পার্ক। বিলুপ্তপ্রায় ও বিরল প্রজাতি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও বংশবৃদ্ধিসহ মানুষের চিত্ত বিনোদন, গবেষণা ইত্যাদি পরিচালনার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন চকরিয়া উপজেলা এলাকায় স্থাপিত “ডুলাহাজারা সাফারী পার্ক” পর্যটকদের আকর্ষনীয় স্থানে পরিণত হয়েছে। এখানে রয়েছে কয়েক হাজার পশু-পাখী।

সেন্টমার্টিন ও ছেড়া দ্বীপ
কক্সবাজার জেলা শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে সাগর বক্ষের একটি ক্ষুদ্র দ্বীপ সেন্টমার্টিন। সেন্টমার্টিন দ্বীপ ৭.৩ কি.মি দীর্ঘ কিছুটা উওর-দক্ষিণ বিস্তৃত। দ্বীপের আয়তন প্রায় ৮ বর্গ কি.মি. এবং লোক সংখ্যে প্রায় ৮ হাজার। কক্সবাজার থেকে লোকাল বাস বা জীপে করে টেকনাফ গিয়ে সেখান থেকে সীট্রাক বা ট্রলারে সেন্টমার্টিন যাওয়া যায়। টেকনাফ যেতে সময় লাগবে এক থেকে সোয়া এক ঘন্টা এবং সেখান থেকে সেন্টমার্টিন যেতে সময় লাগবে প্রায় দু ঘন্টা। সেন্টমার্টিন থেকে ট্রলারে ২০ মিনিটে ছেড়া দ্বীপ যাওয়া যায়। ছেড়া দ্বীপ বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত নয়ানাভিরাম দ্বীপ।

মহেশখালী
কক্সবাজার থেকে মহেশখালীর দূরত্ব ১২ কি.মি.। এই উপজেলার আয়তন ৩৬২.১৮ বর্গ কিলোমিটার। এর উত্তরে চকোরিয়া উপজেলা, দক্ষিণে কক্সবাজার সদর উপজেলা ও বঙ্গোপসাগর, পূর্বে চকোরিয়া উপজেলা ও কক্সবাজার সদর উপজেলা, পশ্চিমে কুতুবদিয়া উপজেলা এবং বঙ্গোপসাগর। বাংলাদেশের অন্যতম শুটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা মহেশখালী। এখানে আছে জলাভুমি আর প্যারাবন এবং প্রচুর অতিথি পাখি। এছাড়াও এখানে রয়েছে আদিনাথ মন্দির। মহেশখালী জেটিটি দেখতে খুবই সুন্দর।

সোনাদিয়া দ্বীপ
সোনাদিয়া দ্বীপ যেন ক্যানভাসে আঁকা ছবি। অপরূপ সৌন্দর্যের আধার এ দ্বীপ কক্সবাজার শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমের দূরে সাগর গর্ভে অবস্থিত। দ্বিপের আয়তন লম্বায় ৭ কিমি, প্রস্থ ২.৫ কিমি। এই দ্বিপের তিন দিকে সমুদ্র সৈকত, সাগর লতা-পাতা ঢাকা বালুতীর, কেয়া- নিশিন্দার ঝোপ, ছোট-বড় খাল বিশিষ্ট প্যারাবন। আরো আছে বিচিত্র প্রজাতির জলচর পাখি। এই দ্বিপে আছে অজস্র লাল কাঁকড়ার ছড়াছড়ি। আছে গাংচিলের ভেসে বেড়ানো।

এছাড়া অন্যান্য যেসব দর্শনীয় স্থান কক্সবাজার গেলে দেখতে পাবেন তার মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে – এয়ারপোর্ট এলাকা, বার্মিজ মার্কেট, শুটকি মার্কেট, হিলটপ সার্কিট হাউস ও এর পাশের রাডার ষ্টেশন, লাইট হাউস, আগ্গা মেধা বৌদ্ধ ক্যাং ও মাহাসিংদোগী বৌদ্ধ ক্যাং, মাথিনের কূপ, গোলাপ চাষ প্রকল্প, বদর মোকাম মসজিদ, চিংড়ী প্রসেসিং জোন, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র, লবণ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণ এলাকা, রামকোট তীর্থধাম, কানা রাজার সুড়ংগ, রামুর বৌদ্ধ মন্দির, লামার পাড়া বৌদ্ধ বিহার, কুতুবদিয়া দ্বীপের বাতিঘর, শাহপরীর দ্বীপ, টেকনাফ বিচ ইত্যাদি। ঘুরাঘুরি করার জন্য জীপ বা চাদের গাড়ী ভাড়া করে নিতে পারেন পারেন অথবা দূরে যাওয়ার ক্ষেত্রে লোকাল বাস ব্যবহার করতে পারেন। মহেশখালীসহ অন্যান্য দ্বীপে যেতে পারেন স্পীডবোট বা ট্রলারে করে। কক্সবাজারের দর্শনীয় স্থানে ঘোরার পাশাপাশি বিচে রয়েটছে স্পীডবোট, ওয়াটার বাইক, মোটর বাইক, সার্ফিং সহ নানা বিনোদনের ব্যবস্থা।

যাবেন যেভাবে
ঢাকা থেকে সৗদিয়া, এস আলম মার্সিডিজ বেঞ্জ, গ্রিন লাইন, হানিফ এন্টারপ্রাইজ, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, এস.আলম পরিবহন, মডার্ন লাইন, শাহ্ বাহাদুর, সেন্টমার্টিনসহ বিভিন্ন বাসে সব সময় আসা যায়। ঢাকা থেকে কক্সবাজার বাসে যেতে সময় লাগবে প্রায় ১১/১২ ঘন্টা, বিমানে প্রায় ৫৫/৬০ মিনিট। এসি/ননএসি দুই ধরনের বাস আছে। বাস ভেদে এসি/ননএসি ভাড়া পরবে ৮০০-২৫০০ টাকা পর্যন্ত।

প্রতিদিন ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায় দূরপাল্লার নামী-দামী সব ধরনের বাস। উল্লেখযোগ্য হলো গ্রীন লাইন পরিবহন (০২-৮৩১৫৩৮০, ০১৭৩০০৬০০০৪, ০১৭৩০০৬০০৭১), সোহাগ পরিবহন (০২-৯৩১১১৭৭), টিআর ট্রাভেলস (০১৯১১৮৬৩৬৭৩, ০১৯১০-৭৬০০০৪, ০১১৯১-৮৬৩৬৭৪), দেশ ট্রাভেলস (০১৭২৭৫৪৫৪৬০, ০১৭৪৬৪৭৪৭৮০), শ্যামলী (০২-৯০০৩৩১, ০২-৮০৩৪২৭৫, ০১৭১৬-৯৪২১৫৪), হানিফ (০১৭১৩৪০২৬৭১, ০১৭১৩৪০২৬৭০), সৌদিয়া (০১৯১৯৬৫৪৯৩৫, ০১৯১৯৬৫৪৮৫৮), ঈগল (০২-৯০০৬৭০০, ০২-৯৩৪৬৩৯১), এস আলম (০১৮১৩-৩২৯৩৯৪, ০২-৯৩৩১৮৬৮), সিল্ক লাইন (০১৭১৪-০৮৭৫৬৩,০২-৭১০২৪৬১), সেন্টমার্টিন (০১৭১১৩২১১৪৩, ০১৭১১৬৬৬১০৯), স্টার লাইন পরিবহন (০১৯৭৩ ২৫৯৬৫১) ইত্যাদি।

উল্লেখযোগ্য বিমান সংস্থা হলো- বাংলাদেশ বিমান (০২-৮৯০১৬০০, ০২-৮৯০১৭৩০-৪৪), রিজেন্ট এয়ার ওয়েজ (০২-৮৯৫৩০০৩), নভো এয়ার (১৩৬০৩, ০২-৯৮৭১৮৯১-২, ০১৭৫৫৬৫৬৬৬০-১), ইউএস বাংলা (০১৭৭৭৭৭৭৭৮৮, ০১৭৭৭৭৭৭৮৯৯, ০১৭৭৭৭৭৭৯০০), ইউনাইটেড এয়ারওয়েজ (০৯৬০৬৪৪৫৫৬৬, এক্সট-৫৪২-৪৮, ০২-৮৯৩২৩৩৮, ০২-৮৯৩১৭১২)। রাউন্ড ট্রিপ ইকোনমি ক্লাসে ভাড়া পরবে প্রায় ১০০০০-১২৫০০ টাকা।

ঢাকার কমলাপুর থেকে প্রতিদিন ট্রেন বা বাস ছেড়ে যায়। তবে টিকেট বুকিং আগেভাগেই করে রাখা ভালো।

বিমানেও মাত্র ৪৫ মিনিটে কক্সবাজারে যাওয়া যায়। নিয়মিত কক্সবাজারে বাংলাদেশ বিমান, জিএমজি এয়ার লাইনস, ইউনাইটেড এয়ার ওয়েজসহ অন্যান্য বিমান আসা যাওয়া করে। এক্ষেত্রে ভাড়া হবে ৮ হাজার টাকা।

থাকবেন যেখানে
কক্সবাজারে রয়েছে পর্যটকের জন্য সাড়ে ৪ শতাধিক আবাসিক হোটেল মোটেল, রিসোর্ট এবং কটেজ। এর মধ্যে কয়েকটির যোগাযোগ নাম্বার দিলাম এখানে। ঢাকা থেকেই ফোন দিয়েই বুকিং দিতে পারেন।

কক্সবাজারে থাকার জন্য উল্লেখযোগ্য হোটেলগুলো হচ্ছে – সায়মন বিচ রিসোর্ট (০৯৬১০৭৭৭৮৮৮, ০৩৪১-৫১৩৫০, ০১৭৫৫৬৯১৯১৭), ওশান প্যারাডাইস হোটেল এন্ড রিসোর্ট (০১৯৩৮৮৪৬৭৬৩-৭, ০৩৪১-৫২৩৭০-৯), লং বিচ হোটেল (০১৭৫৫৬৬০০৫১, ০৩৪১-৫১৮৪৩-৬), সীগাল হোটেল লিমিটেড (০১৭৬৬৬৬৬৫৩০, ০৩৪১-৬২৪৮০-৯০), হোটেল দ্য কক্স টুডে (০১৭৫৫৫৯৮৪৪৯, ০১৭৫৫৫৯৮৪৫০, ০৩৪১-৫২৪১০-২২), হোয়াইট অর্কিড (০১৮২৫৯২৩৯৮৯), হোটেল সী ওয়ার্ল্ড (০১৯৩৮৮১৭৫০১-১২, ০৩৪১-৫২২২৬, ০৩৪১-৫১৬২৫), হোটেল সী ক্রাউন (০১৮১৭০৮৯৪২০,০৩৪১-৬৪৭৯৫, ০৩৪১-৬৪৪৭৪), এ্যালবাট্রস রিসোর্ট (০১৮১৮৫৪০১৭৭, ০১৮১৬০৩৩৪৪৫, ০১৮১৮৫৯৬১৭৩, ০৩৪১-৬৪৬৮৪), হোটেল রয়াল রিগ্যাল পেলেস (০১৯৭৭৯৩৬৬২৩), হোটেল প্রাইম পার্ক (০১৭৭৫৬০৯৯১৫, ০১৮৪২৬০৯৯১৫, ০৩৪১-৬২৩১১), হোটেল ইউনি রিসোর্ট (০১৭১৩১৬০১৬৭), হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল (০১৭১১৩৪১১৬৪), পর্যটন হোটেল শৈবাল (০৩৪১-৬৩২৭৪),পর্যটন মোটেল প্রবাল (০৩৪১-৬৩২১১), পর্যটন হোটেল লাবনী (০১৯১৩৯৩২০৮২), হোটেল সায়মন (০৩৪১-৬৩২৩৫, ০৩৪১-৬৩২৩১) ইত্যাদি।

এছাড়া ইনানি বিচের আশেপাশের উল্লেখযোগ্য হোটেল হচ্ছে – রয়াল টিউলিপ সী পার্ল বিচ রিসোর্ট (৮০০৩৫৮০৮৪৬, ০৩৪১-৫২৬৬৬-৮০), ইনানি রয়াল রিসোর্ট (০১৭৭৭৭৯০১৭০), লা বেল্লা রিসোর্ট (০১৮২৫৯২৩৯৮৯)ইত্যাদি।

ইকো রিসোর্ট – মারমেইড ইকো রিসোর্ট (প্যাচার দ্বীপ, ০১৮৪১৪৬৪৬৪-৯,) সাম্পান ইকো রিসোর্ট (০১৯৭৪৭২৬৭২৬)ইত্যাদি।

এখানে এক রাত্রি যাপনের জন্য রয়েছে এক হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার টাকা দামের কক্ষ। যারা থাকার জন্য এত খরচ করতে চাচ্ছেননা, তাদের জন্য কমমূল্যে থাকার হোটেলও রয়েছে। হোটের সীগালের পিছনে রোডে অর্থাৎ কলাতলি রোডের হোটেলগুলোতে মাত্র ৫০০ টাকাতেও থাকা যায়।

খাওয়াদাওয়া ও রেস্টুরেন্ট
সাধারনত প্রত্যেক হোটেলের নিজস্ব রেস্টুরেন্ট আছে তবে সেখানে খাবারের দাম একটু বেশী হবে। বেশীর ভাগ হোটেলে সকালের নাস্তা কমপ্লিমেন্টারী থাকে (রুম ভাড়ার সাথে যুক্ত)। যদি দুপুরে ও রাতে বাইরে খেতে চান তবে কক্সবাজারে অনেক রেস্টুরেন্ট পাবেন। বেশীর ভাগ রেস্টুরেন্ট কলাতলী রোডে অবস্থিত। উল্লেখযোগ্য রেস্টুরেন্টগুলো হচ্ছে – পৌশী রেস্টুরেন্ট, ঝাউবন রেস্টুরেন্ট, লাইভ ফিস রেস্টুরেন্ট, নিরিবিলি অর্কিড ক্লাব এন্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে, ডিভাইন সী স্টোন ক্যাফে, কয়লা, স্টোন ফরেস্ট, তারাঙ্গা রেস্টুরেন্ট, কাশবন রেস্টুরেন্ট, পানকৌড়ী রেস্টুরেন্ট ইত্যাদি। এসব হোটেল ভাত, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ, মাংস, ভর্তা-ভাজি, শুটকি মাছ থেকে শুরু করে সব ধরনের খাবার পাবেন। তবে খাবার অর্ডার দেয়ার আগে দাম জেনে নিবেন। কলাতলী বিচে সমুদ্রের একেবারে সাথে বেশ কিছু রেস্তোরা আছে সেখানে বিকালের নাস্তা খাবার পাশাপাশি সমুদ্রের সৌন্দর্য ও সুর্যাস্ত উপভোগ করতে পারবেন।
কক্সবাজার ভ্রমণে গিয়ে পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ থাকে সাগরের বিভিন্ন মাছের মেন্যুর প্রতি। বিশেষ করে চিংড়ি, রূপচাঁদা, লাইট্যা, ছুরি মাছসহ মজাদার শুটকি মাছের ভর্তার প্রতিই পর্যটকদের আকর্ষণ বেশি থাকে।
খাবারের মেন্যু অনুযায়ী একে রেস্টুরেন্টে একেক ধরনের মূল্য তালিকা দেখা যায়। তবে বর্তমানে সরকার নির্ধারিত কিছু কিছু তালিকা ভোজন রসিকদের আশ্বস্ত করেছে। মোটামুটি ১০-৫০০ টাকার মধ্যে সাধ ও সাধ্য অনুযায়ী মজাদার খাবার গ্রহণ করতে পারবেন। তবে খাবার গ্রহণের পূর্বে খাবারের নাম, মূল্য এবং তৈরির সময় সম্পর্কে জেনে নিন। প্রয়োজনে খাদ্যের তালিকা ও মূল্য টুকে রাখুন। তালিকা সঙ্গে মিলিয়ে বিল প্রদান করুন।

বেসরকারি ভ্রমণসংস্থা
ঝামেলা এড়িয়ে যারা পছন্দের জায়গাটিতে ভ্রমণ করতে চান, তারা সহায়তা নিতে পারেন অভিজ্ঞ কোনো ভ্রমণ সংস্থার। বিভিন্ন বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থা নিয়মিত বিভিন্ন উৎসবকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন ভ্রমণ-গন্তব্যগুলোতে তাদের বিশেষ প্যাকেজের আয়োজন করছে।

অবকাশ পর্যটন লি.
এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন প্যাকেজ রয়েছে । ঢাকা-সেন্টমার্টিন-ঢাকা ৪ রাত ৩ দিনের ভ্রমণ মূল্য ৮৫০০ টাকা। প্যাকেজ মূল্যের মধ্যে রয়েছে এসি বাসে যাতায়াত, সেন্টমার্টিনে অবকাশের নিজস্ব হোটেল নন-এসি রুমে থাকা, টেকনাফ থেকে জাহাজের প্রথম শ্রেণীতে সেন্টমার্টিন, খাবার, সাইট সিয়িং ইত্যাদি।
যোগাযোগ :অবকাশ পর্যটন লিমিটেড, শামসুদ্দিন ম্যানশন, ১০ম তলা, ১৭ নিউ ইস্কাটন, ঢাকা।
ফোন-৮৩৫৮৪৮৫, ০১৫৫২৪২০৬০২।

পিআইপি ট্যুরস
এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করেও য়েতে পারেন ঝামেলা ছাড়া। ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা ৩ রাত ২ দিনের ভ্রমণ মূল্য ৭৫০০ টাকা। ঢাকা-সেন্টমার্টিন-ঢাকা, ৩ রাত ২ দিনের ভ্রমণ মূল্য ৬৫০০ টাকা।
যোগাযোগ :পিআইপি ট্যুরস, খ ৫৬/৩, প্রগতি সরণী, বারিধারা, ঢাকা।
ফোন :০২-৮৪১৫৬১৬, ০১৯১৫৫৪৪৪৫৫।

বিচ নেটওয়ার্ক ট্যুরিজম
এ প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন রকম প্যাকেজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো :ঢাকা-কক্সবাজার-ঢাকা, ৫ দিন ৪ রাতের ভ্রমণ মূল্য ৪০০০-১৫০০০ টাকা। ঢাকা-কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন-ঢাকা, ৩ দিন ৪ রাতের ভ্রমণ মূল্য ৫৫০০-১৭৫০০ টাকা। কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন-কক্সবাজার, ২ দিন ১ রাতের ভ্রমণ মূল্য ২০০০-৩৫০০ টাকা। এ ছাড়াও এ প্রতিষ্ঠানের ৫০০ টাকায় হিমছড়ি ও ইনানী এবং ৭০০ টাকায় মহেশখালীতে অর্ধদিবসের গ্রুপ প্যাকেজ রয়েছে।
যোগাযোগ :হোটেল ডায়নামিক সি পার্ল, মেরিন ড্রাইভ রোড, কলাতলী মোড়, কক্সবাজার।
ফোন :০১৮২০০০৩৭৭৩।

সূত্র: সমকাল