ঘুম থেকে উঠে সুস্থ থাকার উপায়

16

আমরা প্রতিনিয়ত ঘুম থেকে উঠে নানান ধরনের কাজে চলে যাই, কেউবা চাকরকরী করতে,কেউবা কাজ করতে, ছাত্র ছাত্রীরা স্কুল চলে যায় কেউবা ঘুম থেকে উঠে সোজা নাস্তার টেবিলে খেতে বসি। কিন্তু সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠার পর ভাল কিছু অভ্যাস করলে আমাদের শরীল ও মন দুটোই ভালো থাকে। যার সকালটা যত সুন্দর হয় তার জীবন ততটা সুন্দর হয়। এটা বিজ্ঞানসম্মত কথা। সকাল বেলার নির্মল প্রাকৃতিক বাতাস আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী। এছাড়া সকাল বেলার কিছু কাজ আছে যেগুলো আমরা করি তবে তা কতটা নিয়ম মেনে করি তার কোনো ঠিক নেই। তাহলে আজ আমরা জেনে নেই সকাল বেলার কিছু কাজ সম্পর্কে যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।

নাস্তার আগে পানি পান করাঃ

সচারচর আমরা সবাই আগে দাঁত ব্রাশ করে তারপর নাস্তার টেবিলে খেতে যাই কিন্তু সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর খালি পেটে পানি খেলে শরীরে মেটাবলিজম ত্বরান্বিত হয় এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি পাওয়া রোধ করে। আরও বেশি উপকার পেতে চাইলে পানিটুকু হালকা গরম করে তাতে ২ চা চামচ মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে করে পেটের সমস্যা ঠিক হবে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে। পানির সাথে মধু মিশিয়ে খেলে দেহের সকল রোগবালাই সহজে নিরাময় হয়।

নাস্তার পরে দাঁত ব্রাশঃ

ঘুম থেকে উঠে টিউবঅয়েলের পানি ঠেসে ফেলে দিয়ে ঠান্ডা পানি দিয়ে কুলি করে নাস্তা করা যায় এবং নাস্তা করার পর দাঁত ব্রাশ করলে মুখের সব ময়লা পরিস্কার হয় এবং আমাদের নিশ্বাসে কোন দুর্গন্ধ থাকে না।

নাস্তার আগে চা বা কফি কখনোই খাবেন নাঃ

আমাদের দেশের শহর অঞ্চলের বেশির ভাগ মানুষ ঘুম থেকে উঠে বিছানাতেই বসেই চা বা কফি খান। এটি খুবই খারাপ একটি অভ্যাস। ক্রনিক অ্যাসিডিটি বা আলসারের সূত্রপাত এ থেকেই হয়। এছাড়া কোষ্ঠকাঠিন্যও এর কারনে হয়ে থাকে। তাই চা বা কফি যাই খান নাশতার আগে নয়। আগে পারুটি ও জ্যাম এবং কলা আপেল আঙ্গুর ফল জাতীয় জিনিস খাওয়ার পর চা বা কফি খেতে হয় তাহলে অ্যাসিডিটি বা গ্যাস্টিকের মত রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

হালকা নাস্তা যে কারনে খাবেন নাঃ

আমাদের সমাজের অনেক মানুষ রয়েছে যারা সকাল বেলা ১টা কলা বা পারুটি খেয়ে একেবারে দুপুর পর্যুস্ত কাটিয়ে দেয় এই অভ্যাসটা মোটেও ভালো না কারন পেট ভরে না খেয়ে আপনি যখন কাজ করবেন তখন আপনার পেটের ব্যাথা শুরু হবে। অল্পতেই হাপিয়ে পরবেন। অনেকেই ওজন ও মোটা হওয়ার জন্য সকাল বেলা নাস্তা কম খায় তারা এটা জানে না যে কম খেলেই আপনি আরো মোটা হয়ে যাবেন এবং ওজন বৃদ্ধি পাবে। কম খাওয়ার ইচ্ছা থাকলে দুপুরে বা রাতে খাবেন। সকাল বেলা অন্তত খাবারকে ফাঁকি দিয়ে নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করবেন না। কারন আপনার সুস্বাস্থ্য আপনার জীবনের সুখ বয়ে আনবে।

সকাল বেলায় ব্যায়ামের করলে উপকারীতাঃ

ব্যায়াম মানুষের দেহ ও মনকে সুন্দর রাখে। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে একটু ব্যায়াম করলে আপনার শরিলের সকল ক্লান্তি দুর হয়ে যাবে। এবং আপনার স্বাস্থ্য ভালো হবে। আমাদের অনেকেই নিজেকে স্মার্ট ও ফিট দেখানোর জন্য অনেক রকমের ব্যায়াম করে থাকে। তেমনি আপনিও সুস্থ সবল থাকার জন্য ব্যায়াম করবেন।

শবাসনঃ

আমাদের উপমহাদেশে উদ্ভাবিত যোগ ব্যায়াম আজ সারা বিশ্বে সমাদৃত, অথচ আমরা অনেকে এ বিষয়ে একবারেই অজ্ঞ। এ ব্যায়ামের মূল বৈশিষ্ট্য হলো বিশেষ ধরনের দেহভঙ্গিমা, যাকে আসন বলা হয়। একেক আসনে দেহে একেকভাবে চাপ পড়ে, যা দেহের একেক অংশের উপকার সাধন। এসব আসনে কিছুক্ষণ থাকার পর একটি বিশেষ আসনে বিশ্রাম নিতে হয় যাকে শবাসন বলে।মনকে চিন্তামুক্ত রেখে বালিশ ছাড়া চিত হয়ে হাত-পা ছড়িয়ে শুয়ে শবাসন করতে হয়। সকালে ঘুম ভাঙলে লাফিয়ে বিছানা থেকে না উঠে কিছুক্ষণ শবাসন করুন এতে দৈহিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাস বাড়ে। প্রতিদিন আধাঘণ্টা শবাসন করলে মেরুদণ্ড ভালো থাকে, অনেক পরিশ্রম ও মানসিক চাপ সহ্য করা যায় এবং দেহের যেকোনো ব্যাথা ও লুকানো সমস্যা দূর হয়।এবং আপনার মন সুন্দর হয়।

নিয়ম মাফিক জীবনযাপন করুনঃ

ব্যায়াম, খাওয়া আর ঘুমের রুটিনটা ঠিক রাখুন। শরীরের সুস্থতার সাথে মনের জোর সরাসরি সম্পৃক্ত। নিজেকে দেখতে সুন্দর ও সতেজ লাগলে মনের জোর বেড়ে যায় বহুগুণে। এতে আপনার জীবনের মান বদলে যাবে এবং লাভ করবেন একটি সুন্দর জীবন।