ক্যান্সারের অন্যতম ওষুধ গোলমরিচ

67
ছবি: সংগৃহীত

প্রাচীনকাল থেকেই রান্নার স্বাদ এবং ঘ্রাণ বৃদ্ধিতে গোলমরিচ ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আমরা সাধারণত গোলমরিচকে রান্নার কাজে ব্যবহার করে থাকি।

গোলমরিচকে মশলার রাজা বলা হয়ে থাকে। গোলমরিচ ছাড়া যেন কোন রান্নার স্বাদ পূরণ হয় না। কিন্তু গোলমরিচের গুণাগুণ সম্পর্কে আমরা অনেকেই জানিনা।

এটি মূলত গাছের ফল। গোলমরিচের মত গুণাগুণ আর কোন মশলায় নেই। এটি মূলত দক্ষিণ ভারতের মূল মশলা।

একে পিপারাসি গোত্রের পিপার গণের একটি লতাজাতীয় উদ্ভিদ বলা হয়ে থাকে। এর ফলকে শুকিয়ে মসলা হিসাবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। গোল মরিচের ফলটি গোলাকার, ৫ মিলিমিটার ব্যাসের, এবং পাকা অবস্থায় গাঢ় লাল বর্ণের হয়ে থাকে।

এর ভিতরে একটি মাত্র বিচি থাকে। বিভিন্ন ধরণের গুণের অধিকারী এ ফলটি প্রাচীনকাল থেকেই রান্নার পাশাপাশি আরও অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে আসছে।

এবার জেনে নেওয়া যাক গোল মরিচের বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান ও উপকারীতা-

ক্যান্সারের অন্যতম ওষুধ
গোলমরিচের মধ্যে যে পিপারিন নামক উপাদানটি থাকে সেটি ক্যান্সারের অন্যতম ওষুধ হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এতে আছে ভিটামিন-এ ও ভিটামিন সি এবং প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যেটি ক্ষতিকারক ফ্রি রেডিকেলসের হাত থেকে এবং আমাদের শরীরকে ক্যান্সারে আক্রান্ত হবার হাত থেকে বাঁচায়।

সর্দি কমাতে সহায়তা করে
সর্দি কাশিতে গোলমরিচ দারুন ভাবে কাজ করে থাকে। এক চামচ গোলমরিচ গুড়ার সাথে মধু মিশিয়ে খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এটি বুকে জমা সর্দি তুলতেও সাহায্য করে। গরম পানিতে গোলমরিচ আর একটু ইউক্যালিপটাস অয়েল মিশিয়ে, সেই স্টিমটা নিলে ঠান্ডা-কাশিতে বন্ধ হওয়া নাক ছেড়ে দেয়।

হালকা সর্দি কাশি ছাড়াও যদি জ্বর আসে তাতেও গোলমরিচ কাজে দেবে। এতে আছে প্রচুর ভিটামিন-সি, যা অ্যান্টিবায়োটিকের মত কাজ করে। জ্বরের সময় গোলমরিচ খেলে অত্যন্ত ঘাম হয় এবং জ্বর ছেড়ে যায়। গলা ব্যাথা কমাতে এটি সাহায্য করে। তাই ঠাণ্ডা লাগলে অবশ্যই গোলমরিচ খাওয়া উচিত।

হজমে সাহায্য করে
গোলমরিচের মধ্যে পিপারিন নামক উপাদান থাকে, সেই জন্যই এটি ঝাঁঝালো স্বাদের হয়। এটি হজমে দারুন ভাবে সাহায্য করে। এর মধ্যে থাকা হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড হজমে সাহায্য করে। আর সঠিক ভাবে খাবার হজমে হলে ডায়রিয়ার মত সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

ক্যালরি কমায়
টক্সিন শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক।কেউ যদি তাঁর ডায়েট চার্টে রোজ এটি রাখেন, তাহলে শরীর থেকে এই টক্সিন ঘামের মধ্যে দিয়ে বেরিয়ে যায়। ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থাকলেও গোলমরিচ কাজে দেয়। ওজনও কিছুটা কমে। গোলমরিচ ফ্যাট সেলগুলিকে ভেঙ্গে দেয় এবং ক্যালোরি কমায় ও এনার্জি বাড়াতে সাহায্য করে।

পেশীর ব্যথা কমাতে
পেশীর ব্যথা কমাতে গোল মরিচ তেলের ব্যবহার করতে পারেন। এটি আপনার পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে সাথে সাথে মাংশ পেশী শক্ত করতে সাহায্য করে থাকে। দুই টেবিল চামচ গোল মরিচের তেলের সাথে চার চা চামচ রোজমেরী তেল বা আদার রস মিশিয়ে নিতে পারেন। মাংশ-পেশীর যেখানে ব্যাথা সেখানে এই তেল ব্যবহার করুন। ব্যাথা কমে যাবে।

ক্ষুধামন্দা দূর করে
এটি খেলে পাকস্থলী থেকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড নিঃসৃত হয় যা খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে সেই সাথে আমাদের অরুচি ভাব দূর করে এবং ক্ষুধা বাড়িয়ে দেয়।

সূত্র: আয়ুর্বেদিক টিপস