কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের অনেক শহরে লকডাউন

63

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় সোমবার বিকেল ৫টা থেকে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের অনেকগুলি শহর ও তিনটি জেলায় সম্পূর্ণভাবে লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে।

আপাতত ২৭ তারিখ মাঝরাত পর্যন্ত এই লকডাউন চলবে বলে রাজ্য সরকার কর্তৃপক্ষ বলছে।

রোববার যেহেতু সারা দেশেই ‘জনতা কারফিউ’ ঘোষণা করে এক অর্থে লকডাউন করে দেওয়া হয়েছিল, তাই পশ্চিমবঙ্গে বিধিমতো লকডাউন শুরু হওয়ার আগে যাতে সাধারণ মানুষ অত্যাবশ্যকীয় জিনিষপত্র কিনে রাখতে পারেন, সেজন্যই সোমবার বিকেল থেকে লকডাউন শুরু হচ্ছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, ১৮৯৭ সালের পশ্চিমবঙ্গ মহামারী আইন এবং করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত বিধিনিষেধ অনুযায়ী এই লকডাউনের ঘোষণা করা হয়েছে।

রোববার সারা দেশে যাত্রীবাহী ট্রেন ও আন্তঃরাজ্য যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। ভারতের ৭৫টি জেলায় করোনা সংক্রমিত ব্যক্তিকে পাওয়া গেছে, সেগুলিতে লকডাউন করে দেওয়া হবে।

সিদ্ধান্ত হয়েছে, মালদা, মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর, পশ্চিম বর্ধমান, হাওড়া এবং বীরভূম – এই জেলাগুলি পুরোপুরিই লকডাউন থাকবে। প্রতিটি জেলা সদর এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরই এই লকডাউনের আওতায় আসছে। লকডাউনের সময়ে কোনও বাস-ট্রাম-রিকশা চলবে না। সব নাগরিককে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরতে নিষেধ করা হয়েছে – তাও অন্য মানুষের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যাতায়াতের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র হাসপাতাল, বিমানবন্দর, রেল স্টেশন বা বাস টার্মিনাল থেকে বাড়ি যাওয়ার জন্য ছাড় দেওয়া হবে।

তবে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য পরিবহনকারী গাড়ি চলাচলেও ছাড় থাকছে। সবজি, মাছ, মাংস, পাউরুটি, দুধ আর চাল-ডালের দোকানগুলি খোলা থাকবে।

যেসব অ্যাপের মাধ্যমে খাবার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করা হয়, সেগুলিও চালু থাকবে। সব অফিস, দোকান, গুদাম বন্ধ থাকবে। ছাড় পাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আদালত, স্বাস্থ্য পরিষেবা, বিদ্যুৎ, জল এবং জঞ্জাল সাফাই কর্মীর। টেলিকম, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যাঙ্ক এবং এটিএমগুলি খোলা থাকবে। আর লকডাউনের আওতা থেকে বাদ থাকবে ওষুধের দোকানগুলিও।

পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, এই নির্দেশ অমান্য করলে ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী শাস্তি দেয়া হবে।