Home » করোনা: বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর অবস্থা

করোনা: বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর অবস্থা

কর্তৃক BDHeadline

শেখ শাহরিয়ার জামান
করোনার কারণে বিশ্বজুড়ে অফিস আদালতে কাজের ধরন পাল্টেছে। লকডাউন, কারফিউ বা সীমিত যোগাযোগ বলবৎ থাকায় স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে স্থগিত রয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলোর কর্মব্যস্ততা এই সময়ে আরও বেড়েছে। রাজনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখতে স্থানীয় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা, বিদেশ থেকে বাংলাদেশিদের ফেরত আনা, বহুপক্ষীয় জটিল দর কষাকষি অব্যাহত রাখা থেকে শুরু করে তৈরি পোশাক শিল্পের অর্ডার রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব কার্যক্রমই চলমান রয়েছে। কিন্তু প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বশরীরে যোগাযোগ না করে কাজ করা একটি ভিন্ন মাত্রার চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

এ বিষয়ে চীনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মাহবুব-উজ-জামান বলেন, ‘আমাদের মিশন কখনোই বন্ধ ছিল না। তবে আমরা স্থানীয় কর্মচারীদের অফিসে আসতে নিষেধ করে দিয়েছিলাম। স্থানীয় যে নিয়ম-কানুন আছে সেটি আমরা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছি।’ কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে রাজনৈতিক সম্পর্ক রক্ষা করা, চীন থেকে বাংলাদেশিদের প্রত্যাবাসন, করোনা ওষুধ ও অন্যান্য সামগ্রীর জন্য বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করাসহ সব কাজই করতে হয়েছে এই সময়ে কিন্তু প্রায় সবক্ষেত্রেই সেটি ফোন, ইমেইল বা ভার্চুয়াল বৈঠকের মাধ্যমে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, এর মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ওয়াং ই এর টেলিফোনে আলাপ হয়েছে এবং এ ধরনের টেলিফোনে কথার আগে কিছু কূটনৈতিক গ্রাউন্ড ওয়ার্ক করতে হয়।

সিঙ্গাপুরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, একদিনের জন্যও মিশন বন্ধ করা হয়নি। লকডাউন অবস্থায় সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আমরা অফিস করেছি।

১৮ হাজারের বেশি বাংলাদেশি সিঙ্গাপুরে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এবং এ বিষয়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে দূতাবাস জানিয়ে তিনি বলেন, শুধু তাই না রাজনৈতিক কোনও যোগাযোগই আমাদের বন্ধ নেই।

বাংলাদেশের সব মিশনের কার্য পরিস্থিতি আগের থেকে কমেনি বরং বৃদ্ধি পেয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এখন এটি আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং। কারণ আগে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কাজ করা হতো, এখন কোথাও না গিয়ে কাজ করতে হচ্ছে।

কোভিড-১৯ পরবর্তী পরিস্থিতিতে সিঙ্গাপুরের কী অবস্থা হবে এবং ওই পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ও সুযোগ কীভাবে আরও উন্নত করা যায় সেই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশি থাকে এবং সেখানে মহামারির কারণে চাকরির বাজার সংকুচিত হওয়ায় অসুবিধায় রয়েছে বাংলাদেশিরা। কারফিউ বা লকডাউনের মধ্যেও দুস্থ বাংলাদেশিদের ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রদূতরাও বিভিন্ন এলাকায় গেছেন।

জর্ডানে রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান বাংলাদেশিদের মধ্যে নিজে থেকে ত্রাণ বিতরণ করেছেন। বাহরাইনে নতুন রাষ্ট্রদূত মোহাম্মাদ নজরুল ইসলাম এই মহামারির মধ্যেও ওই দেশের রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

ইউরোপে করোনার কারণে কারফিউ থেকে লকডাউন বলবৎ হলেও সেখানকার মিশনের কাজকর্ম কমেনি বলে জানান যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকে যেসব সেবা দেওয়া সম্ভব তার প্রতিটি আমরা নিশ্চিত করেছি। এছাড়া জরুরি কনস্যুলার সেবা ও ডাক্তার প্যানেল সেবা ২৪-ঘণ্টা দেওয়ার জন্য ব্যবস্থা রাখা আছে।

রাষ্ট্রদূতসহ এখানকার কূটনীতিকরা কোভিডের কারণে তৈরি পোশাক শিল্পে যে ক্ষতি হয়েছে সেটি কীভাবে কাটিয়ে ওঠা যায় তা নিয়ে জড়িত সবার সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে জানান তিনি।

কোভিড পরবর্তী কূটনৈতিক কৌশল কী হবে সেটি নিয়ে এখন থেকে কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে পাঁচ দফা কৌশল ঘোষণা করেছেন এবং আমরা সেটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করছি।

জেনেভাতে কাজের শেষ নেই জানিয়ে সেখানকার একজন কর্মকর্তা বলেন, শুধু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাতেই প্রচুর কাজ রয়েছে। এছাড়া আরও অনেক জাতিসংঘ সংস্থার সদর দফতার জেনেভাতে।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় একটি রেজ্যুলেশন নিয়ে অনেক দর কষাকষি হয়েছে এবং বাংলাদেশ সেখানে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করেছে জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, স্বশরীরে উপস্থিত না হয়েও কীভাবে কূটনীতি করা যায় সেটির সফল বাস্তবায়নের জায়গা জেনেভা।

ওয়াশিংটনে কর্মরত একজন কর্মকর্তা বলেন, এখানে করোনা পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ। কিন্তু আমরা আমাদের মিশন বন্ধ না রেখে রোস্টার ডিউটির মাধ্যমে অফিস খোলা রেখেছি। স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে কোনও সেবা গ্রহণের বিষয় স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু উপস্থিত না হয়ে অন্য সব ধরনের সেবা চালু ছিল।

সম্পর্কিত পোস্ট