ঔষধি গুণে ভরপুর নিশিন্দা পাতা

413
ছবি: সংগৃহীত

নিশিন্দা পাতা। গ্রামের আনাচে কানাচে বা প্রায় বাড়িতে, নিশিন্দা গাছ দেখা যায়। নিশিন্দার নীলচে বেগুনী ফুল দেখলে যে কারও মন আনন্দে ভরে যায়। কিন্তু নিশিন্দা খাওয়ার কথা বললে চোখ-মুখ কুঁচকে ফেলবেন অনেকেই। তেতো স্বাদের এ পাতা ওষুধি গুণে ভরপুর হওয়ায় এর কদর যুগে যুগে সমাদৃত।

নিশিন্দা এক প্রকার ছোট উদ্ভিদ। প্রতিবছর এর পাতা ঝরে যায়। এটি গুল্ম এবং বৃক্ষের সংকর বলা যায়। নিশিন্দা গাছের পাতা, শিকড়, ফুল এবং ফল সব কিছুই উপকারী। দেশের সর্বত্রই এই গাছের সন্ধান পাওয়া যাবে। এ গাছ পাঁচ মিটার পর্যন্ত উচু হয়। ফুলের রং নীলচে বেগুনী। সারা দেশেই এ গাছ জন্মায়। এই গাছের পাতা, শিকড়, ফুল এবং ফল সব কিছু কাজে লাগে।

নিশিন্দার পাতা পরজীবী নাশক এবং এর যক্ষা ও ক্যান্সারবিরোধী গুণ রয়েছে। পাতা গরম করে যে কোনো ফোলার উপর বা মচকানোর ব্যথা ও প্রদাহ স্থানে রেখে গরম কাপড় দিয়ে বেঁধে দিয়ে দিনে ৪/৫ বার বদলালে ব্যথা উপশম পাওয়া যায়। এতে দু একদিনের মধ্যে ফোলা কমে যাবে।

দেহের যে কোনো স্থানের টিউমার হলে, নিশিন্দা পাতা বেটে গরম করে প্রতিদিন লাগালে কয়েকদিনের মধ্যে টিউমার অদৃশ্য হয়ে যাবে। পাতার রস বা পাতা বেটে সরিষার তেলে পাক করে সে তেল ২/১ ফোঁটা কানে দিলে কানের রোগ আরোগ্য হয়। কানের সব ধরণের ব্যথায় ও ক্ষতে এটি ব্যবহার করা যায়।

সাতক্ষীরা মসলা ভান্ডারের হেকিম আবুল কাশেম বলেন, “নিশিন্দ গেঁটে বাত সারায়। গেটে বাত রোগে নিশিন্দার পাঁচন মোক্ষম ওষুধ। সঙ্গে যদি জ্বর থকে, তবুও এতে সুফল পাওয়া যাবে। ৫গ্রাম পরিমাণ পাতা সিদ্ধ করে ছেঁকে সে পানি খেতে হয়। তবে উচ্চ রক্তচাপ থাকলে খাওয়া ঠিক নয়। নিশিন্দা পাতা চূর্ণ সিকি গ্রাম পরিমাণ খেলে পূর্ণবয়স্কদের জন্য গুঁড়া কৃমির উপদ্রব কমে যায়।”

তিনি আরও বলেন, “এটি হাপানি, ঠাণ্ডা জনিত রোগেও বিশেষ কার্যকরী। গাছের ডাল পালা পোকামাকড় রোধী। যৌন ইচ্ছা দমনের জন্য আগে এর বহুল ব্যবহার ছিল।”

মুক্তকোষ উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, নিশিন্দা নামে পরিচিত হলেও এর অন্যান্য স্থানীয় নামের মধ্যে Samalu, Chaste Tree,Nochi, Nirgundi,Samalu উল্লেখযোগ্য। এটি Verbenaceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ।

নিশিন্দা এক প্রকার ছোট পর্নমোচী উদ্ভিদ। এটি পাঁচ মিটার পর্যন্ত উচ্চতা বিশিষ্ট হতে পারে। ঘন শাখা-প্রশাখা থাকে। ২ মি. থেকে ৫মি. পর্যন্ত লম্বা বৃন্তবিশিষ্ট যৌগিক পত্রের ৩/৫টি পত্রক থাকে। পত্রকগুলো অসমান ও ফুল নীলাভ ও বেগুন। পেনিকল ৩০ সে.মি. পর্যন্ত লম্বা হয়। ফল ছোট ডিম্বাকৃতির ও ড্রুপ।

নিশিন্দা গাছ সমুদ্রের পাশে ভালো জন্মে। তবে বাংলাদেশ প্রায় সর্বত্র এই গাছের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। বাজারে নানারকম ওষুধ থাকা সত্বেও নিশিন্দা পাতার নানামুখি গুণের জন্য গ্রামাঞ্চলে এটির ব্যবহার দিনদিন বাড়ছে।

সূত্র: দেহ.টিভি