একশো চারাগাছ লাগিয়ে শ্বশুরবাড়িতে ঢুকলেন নববধূ

289

বর্ধমানের মেমারির মামুদপুরের বাসিন্দা অজিত ঘোষের ছেলে বেসরকারি সংস্থার কর্মী কৌশিক ঘোষের সঙ্গে বিয়ে হয় মেমারির কানপুর গ্রামের বাসিন্দা সীতারাম সরকারের মেয়ে মৌমিতা সরকারের। রবিবার কানপুর গ্রামে সরকার বাড়িতে বিয়ে হয়। সোমবার সকালে নববধূ শ্বশুরবাড়িতে পা রাখার আগে একশোটি ফল ও ফুলের গাছ রোপন করলেন।

একেবারে বৃক্ষরোপণ করে তবেই শ্বশুরবাড়িতে ঢুকলেন নববধূ মৌমিতা। নবদম্পতির এই অভিনব উদ্যোগে খুশি এলাকার বাসিন্দারা। পরিবেশের উষ্ণায়ণ নিয়ে চিন্তিত পরিবেশবিদ থেকে সাধারণ মানুষেরা। কিছুদিন আগে এই একই উদ্যোগ নেন কৌশিক নিজেও। কিন্তু সমস্যা হল, গাছ পুঁতলেই তো হবে না রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কে নেবে।

এক সঙ্গে এত গাছ বসাবার জায়গা কোথায় পাওয়া যাবে! কৌশিক দ্বারস্থ হয় পাল্লারোডের পল্লীমঙ্গল সমিতির। তারাই এগিয়ে আসে মুশকিল আসানে। সমিতির সদস্যরা পার্থেনিয়ামে ভরা গোটা জায়গা পরিস্কার করে গাছগুলিকে বসানোর ব্যবস্থা করে দেয়।

ভবিষ্যতে গাছগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও নেয় পল্লীমঙ্গল সমিতি। নবদম্পতি জানান, চারিদিকে জল সংকট, গাছই পারে পরিবেশকে আগের চেহারায় ফেরাতে, তাই তাঁরা নতুন জীবন শুরুর দিনে, ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা মাথায় রেখেই এই উদ্যোগ নিয়েছে। কৌশিক-মৌমিতা জানান বিয়ের মোট খরচের মাত্র এক শতাংশ খরচ করেই তাঁদের ইচ্ছা বাস্তবায়িত হয়েছে। পল্লীমঙ্গল সমিতির সম্পাদক সন্দীপন সরকার জানান, এই ধরণের পরিবেশ বাঁচানোর অভিনব উদ্যোগে তাঁরা খুশি।