ইতিহাসের সাক্ষী ‘ওয়ার সিমেট্রি’

16

১৯৪১-১৯৪৫ সালে বার্মায় সংঘটিত যুদ্ধে যে ৪৫০০০ কমনওয়েলথ সৈনিক নিহত হন, তাদের স্মৃতি রক্ষার্থে মায়ানমার (তৎকালীন বার্মা), আসাম, এবং বাংলাদেশের ৯টি রণ সমাধিক্ষেত্র তৈরি করা হয়েছে। বাংলাদেশে দুটি কমনওয়েলথ রণ সমাধিক্ষেত্র আছে, যার একটি কুমিল্লার ময়নামতিতে, অপরটি চট্টগ্রামে অবস্থিত।

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্টি
কুমিল্লা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও কুমিল্লা-সিলেট রোড সংলগ্ন ক্যান্টেনম্যান্ট (সেনানিবাস) এলাকাস্থিত কমনওয়েলথ সমাধিক্ষেত্র ‘ময়নামতি ওয়ার সিমেট্টি’।১৯৪১-১৯৪৫ সালে ২য় বিশ্বযুদ্ধে নিহত বিভিন্ন দেশের ৭৩৭ জন সৈনিকদের সমাধীস্থল এটি।

ক্যান্টম্যান্ট টিপরা বাজার ও ময়নামতি সাহেবের বাজারের মাঝামাঝি কুমিল্লা-সিলেট সড়কের বাম পাশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য নিয়ে সাড়ে ৪ একর পাহাড়ী ভূমি জুড়ে বাংলাদেশে অবস্থিত এ কমনওয়েলথ সমাধি ক্ষেত্র।

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্টিতে চির নিদ্রায় শায়িত রয়েছেন দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে নিহত ৭শ’৩৭ জন সৈনিক। এর মধ্যে একজন বে-সামরিক ব্যক্তি এবং চব্বিশজন জাপানী যুদ্ধ বন্ধী রয়েছে। স্থানীয়রা এটাকে ইংরেজ কবরস্থান বলে থাকে কিন্তু আসলে এখানে সারিবদ্ধভাবে শায়িত রয়েছেন মুসলিম-খ্রীস্টান-হিন্দু-ইহুদী-বৌদ্ধ। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধে নিহত এবং যুদ্ধে আহত হয়ে পরে মারা যাওয়া সাধারণ সৈনিক থেকে ব্রিগেডিয়ার পদ মর্যাদাধারীকে এখানে সমাহিত করা হয়েছে।

কুমিল্লা কমনওয়েলথ সমাধির পাহাড়ের প্রথম ধাপে রয়েছে ইউরোপিয়ানদের কবর। উপরের সারিতে রয়েছে এ উপ-মহাদেশের যোদ্ধাদের কবর। সমাধি-গুলো সারিবদ্ধভাবে সাজানো রয়েছে। প্রত্যেকটি সমাধিতে লেখা আছে নিহত সৈনিকের নাম, বয়স, পদবী, নিহত হবার তারিখ ও ঠিকানা।

সমাধি ক্ষেত্র তৈরীর আগে সেখানে ছিল বৌদ্ধ বিহারের কেন্দ্রীয় মন্দির। সেখানে নির্মান করা হয়েছে শ্বেত পাথরের একটি ক্রশ। বর্গাকার এ সমাধি ক্ষেত্রের প্রত্যেকটির বাহুর দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াইশ ফুট। যাহার আয়তন সাড়ে ৪ একর। সমাধি ক্ষেত্রেটি’র চারদিক বাউন্ডারী দিয়ে ঘেরা। পুরো সমাধি ক্ষেত্রে হরেক রকম ও রং-বেরংয়ে ফুল গাছ এবং অন্যান্য গাছ দিয়ে পরিকল্পিত এবং সুবিন্যস্তভাবে সাজানো হয়েছে।

গাছ-গাছালির অপূর্ব নৈর্মগিক সৌন্দর্য্য ঘিরে রেখেছে এ সমাধি ক্ষেত্রটি। ফুলের সৌরভ, গাছের পাতায় বাতাস আর রোদের খেলা, পাখী ডাকে বিমোহিত পরিবেশের এ সমাধি ক্ষেত্রটি।

এ সমাধি ক্ষেত্রে মোট সমাধি সংখ্যা ৭শ’৩৮টি। এখান থেকে ১৯৬২ সালে ১টি সমাধি নিহত সৈনিকের আত্মীয়-স্বজনরা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যান। বর্তমানে এ সমাধি ক্ষেত্র সমাধি রয়েছে ৭শ’৩৭টি। এর মধ্যে ১৪ জন শায়িত সৈনিকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। এখানে যাদের সমাহিত করা হয়েছে তাদের লাশ আনা হয়েছে ঢাকা, ফরিদপুর, সৈয়দপুর ও সিরাজগঞ্জ থেকে। আর্মি গ্যারিসন ইঞ্জিনিয়ারগণ এ সমাধি ক্ষেত্রটি তৈরী করেন।

এ সমাধি ক্ষেত্রে রয়েছে বৃটেনের ৩শ’৫০জন, কানাডার ১২জন, অস্ট্রেলিয়ার ১২জন, নিউজিল্যান্ডের ৪জন, দক্ষিণ আফ্রিকার ১জন, ভারতের ১শ’ ৭২জন, পূর্ব আাফ্রিকার ৫৬জন, পশ্চিম আফ্রিকার ৮৬জন, বার্মার ১জন, দক্ষিণ রোডেশিয়ার ৩জন, বেলজিয়ামের ১জন, পোলান্ডের ১জন এবং জাপানের ২৪জন যুদ্ধ বন্দীর কবর। এ ছাড়াও ১জন বে-সামরিক ব্যক্তিকেও এখানে সমাহিত করা হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে মৃত সৈন্যের লাশ এখানে এনে এ সমাধি ক্ষেত্রে সমাহিত করা হয়।

কুমিল্লার ময়নামতি সমাধি ক্ষেত্র এবং চট্টগ্রামের সমাধি ক্ষেত্র এ দু’টির সার্বিক তদারকি করছে কমনওয়েলথ গ্রেভস কমিশন। এর প্রধান কার্যালয় হচ্ছে লন্ডনে। কমনওয়েলথভূক্ত দেশ সমূহের অনুদানে চলে এ সংস্থাটি। এ কমিশন বাংলাদেশের এ দু’টি সমাধি ক্ষেত্র ছাড়াও ভারতের ১০টি, বার্মার ৩টি, পাকিস্তানের ২টি, থাইল্যান্ডের ২টি, সিঙ্গাপুরের ১টি, মালয়েশিয়ার ১টি, এবং জাপানের ১টি সমাধি ক্ষেত্রগুলোও রক্ষনাবেক্ষন করছে এবং কুমিল্লার ময়নামতি সমাধি ক্ষেত্রটিতে গ্রেভস কমিশনের নিয়োগকৃত ১জন কেয়ারটেকার ও ৫জন গার্ডেনার রক্ষনাবেক্ষনের কাজে নিয়োজিত আছে।

প্রতিদিনই সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২ টা এবং দুপুর ১টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এ যুদ্ধ সমাধিস্থল সর্বসাধারনের জন্য উম্মুক্ত থাকে। এ সমাধি ক্ষেত্রটি দেখতে প্রতিদিন দেশ-বিদেশের হাজারো দর্শণ্যার্থী ভিড় জমায়।

সমাধি সৌধ এর মূল ফটকে প্রবেশ পথের ডান পাশে থাকা লিখিত বিবরণে জানা যায়, ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে বার্মার প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত ব্রিটিশ ভারতীয় ও স্থানীয় সৈনিকদের দুটি দুর্বল ডিভিশন সংঘটিত করা হয় এর একটি রেঙ্গুনের দক্ষিণ দিকের প্রবেশ পথ রক্ষা এবং অন্যটি মধ্য বার্মা বর্তমান মিয়ানমার কে পূর্ব দিকের আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য নিয়োজিত ছিল। একই সময় এ দুটি ডিভিশনের সাথে দুটি চীনা সেনাবাহিনীও যুক্ত হয়।

১৯৪১ সালের মধ্য ডিসেম্বরে টেনে সারিম বিমান ক্ষেত্র দখলের মধ্য দিয়ে যে অক্ষশক্তি জাপানের হামলা শুরু হয় তার উদ্দেশ্য ছিল চীন অভিমুখে সমর সরবরাহ সড়ক বার্মা রোড বন্ধ করে দেওয়া।

জাপান এ অঞ্চলে যুদ্ধরত ছিল ১৯৩৭ সাল থেকেই। ১৯৪২ সালে মধ্য জানুয়ারীর প্রধান আক্রমণটি ৭ মার্চ তাদের রেঙ্গুন পরিত্যাগ অপরিহার্য করে দেয়। ১৯৪২ এর ডিসেম্বরে আকিয়ার পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টা শুরু হয়। ১৯৪৩ সালে পঞ্চদশতম সেনাদল আরাকান রণাঙ্গণে আক্রমণ করে।

১৯৪৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে ইম্ফলের চারিদিকে কেন্দ্রীয় রণাঙ্গন থেকে সংরক্ষিত অতিরিক্ত সৈনিকদের বের করে আনার লক্ষ্যে পরিচালিত জাপানি পাল্টা আক্রমণ প্রতিহত করে মিত্র বাহিনী। একই বছরের মে মাসের প্রথম দিকে জাপানীদের চুড়ান্ত আক্রমণ সংঘটিত হয়। লক্ষ্য ছিল মিত্রবাহিনীর আক্রমণ তৎপরতাকে পর্যুদস্ত করা এবং আসামে অনুপ্রবেশ করে লেডো সড়ক ও চীনে রসদ সরবরাহের জন্য ব্যবহৃত বিমান ঘাটি গুলি বিধ্বস্ত করা। ওই বছরের নভেম্বর মাসের শেষ দিকে মিত্রবাহিনী আক্রমণ করে উত্তর দিক থেকে আর আরাকান পঞ্চদশতম সেনাদল অনেকগুলি সম্মিলিত
তৎপরতা সহকারে অগ্রসর হয়ে।

আফিয়াব ও রামবিব বিমান ক্ষেত্র গুলি দখল করে নেয়। ১৯৪৫ সালের ৩ মে রেঙ্গুনে বিনা বাধায় পঞ্চদশ সেনা দলের সংগে মিলিত হয়। ভারতীয় ও ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর ইতিহাসে দীর্ঘ দীর্ঘতম ১০০০ মাইল পশ্চদপসরন দিয়ে সূচীত এই সমরাভিযান পরিণতি লাভ করে উত্তরের পথে বার্মা বিজরা। যদিও এই অভিযানের বিবরণ ছিল স্থল যুদ্ধের অগ্রগতির নিরিখে তবে এটি ছিল সর্বোতভাবে একটি সম্মিলিত স্থল ও বিমান যুদ্ধ। এর ফলাফল চর্তুদশ ডিভিশনের (সেনাবাহিনী) জন্য যাতাটা বিজয় বিমান বাহিনীর জন্যও ততোটা। এ অভিযানে ৪৫ হাজার কমনওয়েলথ সৈন্য নিহত হয়। যার মধ্যে ২৭ হাজার ছিল ভারতীয় বাহিনীর সৈনিক।

ঐতিহাসিক এই বার্মা ফ্রন্টের যুদ্ধ নামে পরিচিত এই যুদ্ধে নিহত সৈনিতদের স্মৃতি সংরক্ষণে বর্তমান মিয়ানমান। ভারত ও বাংলাদেশে ৯টি রণ সমাধি ক্ষেত্রে তৈরী করা হয়।

জানা যায়, ২য় বিশ্ব যুদ্ধের সময় কুমিল্লায় ছিল অত্যন্ত বৃহৎ হাসপাতাল ও সরবরাহ কেন্দ্র এবং ১টি গুরুত্বপূর্ন বিমানঘাটি। তদুপরি ১৯৪৪ সালের অক্টোবরে ইম্ফলে স্থানান্তর হওয়ার আগ মুহুত্ব পর্যন্ত চতুর্দশ সেনাবাহিনীর সদর দফতর।

ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি স্থানীয়ভাবে ইংরেজ কবরস্থান হিসেবেই এখানে সমাধিক পরিচিত। স্মৃতি সৌধটি পৃথক দু’ভাগে বিভক্ত। সামনের অংশে মাঝে রাস্তা দুদিকে সারিবদ্ধভাবে সমাধি তারপর
কয়েকটি সিড়ি ডিঙ্গিয়ে মাথা উচু করে দাঁড়ানো ক্রুশের চিহ্ন পিছনে মুসলিম সৈন্যদের স্মৃতিসম।

চট্টগ্রাম ওয়ার সিমেট্রি
বাংলাদেশের অপর কমনওয়েলথ সমাধি রয়েছে চট্টগ্রাম শহরের বাদশা মিয়া চৌধুরী রোডে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে, চট্টেশ্বরী সড়কের চারুকলা ইনস্টিটিউটের কাছাকাছি এবং ফিনলে গেস্ট হাউসের নিকটবর্তি পাহাড়ি ঢালু আর সমতল ভুমিতে গড়ে উঠেছে।

এটি শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে ২২ কিমি উত্তরে এবং চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮ কিমি দূরে অবস্থিত।সমাধি এলাকা সবুজ বৃক্ষ আর পাতাবাহারের বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। ওয়ার সেমেট্রির প্রতিষ্ঠাকালে এলাকাটি বিশাল ধানক্ষেত ছিলো, যদিও বর্তমানে এটি বেশ উন্নত এলাকা এবং শহরের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিগনিত। পঞ্চাশের দশকের প্রথমার্ধে নির্মিত এ সেমেট্রির বাইরের আংশে খোলা মাঠ রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তি সময়ে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী চট্টগ্রাম ওয়ার সেমেট্রি প্রতিষ্ঠা করে। সূচনালগ্নে এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত সৈন্যদের প্রায় ৪০০টি কবর ছিল। তবে বর্তমানে এখানে ৭৩১ টি কবর বিদ্যমান যার ১৭টি অজানা ব্যক্তির। এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নিহত জাতীয় বিদেশী সৈন্যদের প্রায় ২০টি (১জন ডাচ এবং ১৯জন জাপানি) সমাধি বিদ্যমান। এছাড়া এখানে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের (১৯৩৯-১৯৪৫) চট্টগ্রাম-বোম্বের একটি স্মারক বিদ্যামান।

ওয়ার সিমেট্রি এর সামনের দিকটি লোহার উঁচু বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা। প্রায় ৪ একর জমির ওপর নির্মিত হয়েছে বিভিন্ন ফুল ও ফল গাছ সুশোভিত এই ওয়ার সিমেট্রি। ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছাড়াও সমাধিস্থলের আশপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও যে কারো নজর কাড়ে। ওয়ার সিমেট্রিটির প্রবেশপথের মূল ফটক থেকে সামান্য পথ হেঁটে এগোলেই চোখে পড়ে দুটি ছোট গির্জা ও ফটক।

ওয়ার সিমেট্রিটির প্রবেশপথের মূল ফটক থেকে সামান্য এগোলেই চোখে পড়ে দুটি ছোট গির্জা ও ফটক। হাতের ডান পাশের গির্জার একটি নিবন্ধন বইতে লেখা আছে ভারতীয় বাণিজ্য তরীর প্রায় ছয় হাজার নাবিক ও লস্করের নাম, যারা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সাগরে প্রাণ হারান। মৃতদেহ পাওয়া না যাওয়ায় তাঁদের নাম স্মরণ করে সম্মান দেখানো হয়।

গেটের চারদিকে সবুজ লন। এর ঠিক মাঝখানে রয়েছে শ্বেতপাথরে নির্মিত ক্রুশাকৃতির স্মৃতিস্তম্ভ।

এই স্তম্ভের একেবারে পেছনের দিকে রয়েছে সৈন্যদের কবর। এর সামনে রয়েছে সৈন্যদের স্মৃতিফলক। প্রত্যেক স্মৃতিফলকে মৃত সৈন্যের নাম, বয়স, জাতীয়তা ও পদবি পিতলের প্লেটে খোদাই করে লেখা আছে। এখানে সেনা ও বিমান বাহিনীর মোট ৭৫৫ সৈন্যের স্মৃতিফলক রয়েছে।

প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২ এবং ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই সিমেট্রি দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকে। নিরিবিলি আর মনোরম পরিবেশ থাকায় প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী এই ওয়ার সিমেট্রি দেখতে আসেন। কোলাহয়মুক্ত এই সমাধি এলাকায় দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার থাকলেও এখানে বসা নিষেধ।

ঈদের সময় ছাড়া বছরের বাকি দিনগুলোতে সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য সমাধিস্থলটি খোলা রাখা হয়।