অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট বন্ধ

90

করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আগামীকাল বুধবার (২৫ মার্চ) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ রুটের সব ফ্লাইট বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, করোনাভাইরাসের কারণে অভ্যন্তরীণ রুটে সব ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্র্তপক্ষকে। চারটি দেশ ও অঞ্চল ছাড়া বাকি সব দেশের ফ্লাইট আসা বন্ধ রয়েছে আগে থেকেই। যে চার দেশ ও অঞ্চল বাকি রয়েছে, তাদের মধ্যে হংকং থেকে আসা ক্যাথে প্যাসিফিক (ড্রাগন এয়ার) ২৮ মার্চ থেকে আর আসবে না বলে জানিয়েছে। আর থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে থাই এয়ারওয়েজের যে ফ্লাইটটি আসছিল, সেটিও বুধবার থেকে আসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। অর্থাৎ এখন আন্তর্জাতিক রুটের কেবল যুক্তরাজ্য ও চীনের ফ্লাইট আসবে দেশে।

দেশে তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে। এগুলো হলো ঢাকার হযরত শাহজালাল, সিলেটের ওসমানী ও চট্টগ্রামের শাহ্‌ আমানত বিমানবন্দর। এছাড়া, পাঁচটি অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর রয়েছে। সেগুলো হলো কক্সবাজার, যশোর, বরিশাল, সৈয়দপুর এবং রাজশাহীর শাহ্‌ মখদুম বিমানবন্দর।

বেবিচকের সিদ্ধান্তের ফলে পাঁচটি অভ্যন্তরীণ এবং চট্টগ্রামের শাহ্‌ আমানত বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তবে ঢাকা বিমানবন্দরে চীনের এবং সিলেট বিমানবন্দরে লন্ডনের ফ্লাইট চলাচল করবে।

এর আগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ রুটে সিলেট বাদে তাদের সব ফ্লাইট ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ করে দেয়। রোববার ২২ মার্চ থেকে থেকে তিন মাসের জন্য নিজেদের সব ধরনের ফ্লাইট অপারেশন বন্ধ করে দিয়েছে রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। সীমিতভাবে চলছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এবং নভোএয়ারের ফ্লাইট।

এর আগে গত ২১ মার্চ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এক বার্তায় জানায়, দেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) বিস্তাররোধে ২১ মার্চ দিনগত রাত ১২টা থেকে ৩১ মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ওমান, সিঙ্গাপুর এবং ভারত থেকে কোনো শিডিউলড্ আন্তর্জাতিক যাত্রীবাহী বাণিজ্যিক উড়োজাহাজকে কোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামার অনুমতি দেয়া হবে না। ২৫ ও ২৮ মার্চ থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে থাইল্যান্ড ও হংকংয়ের ফ্লাইটও।

এদিকে, করোনা মোকাবিলায় আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সরকারি-বেসরকারি সব ধরনের প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে রেল, সড়ক ও নৌচলাচলও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার জন্য দেশের সব জেলায় মোতায়েন করা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী।