রাতের রাণী বলে খ্যাত শিউলি ফুল

বাংলাদেশে জনপ্রিয় ফুল গুলোর মাঝে শিউলি অন্যতম ফুল। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শিউলি ফুল বিভিন্ন নামে পরিচিতি। বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে গভীর ভাবে মিশে রয়েছে শিউলি ফুল। এর পরিবার: Oleaceae উদ্ভিদ তাত্বিক নাম: Nyctanthes arbotristis।

আদিনিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ।হিন্দু পৌরানিক গ্রন্থের নানান জায়গায় শিউলি ফুলের বর্ণনা খুজে পাওয়া যায়। হিন্দু ধর্মের মনিষিরা মনে করেন স্বর্গ থেকে কৃষ্ণ শিউলি ফুল গাছ তুলে এনে ইন্দিরা দেবীর বাগানে রোপন করে ছিলেন। আর এই কারণে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা-পার্বনে শিউলি ফুলের রয়েছে আলাদা কদর। তাই শিউলি ফুল গাছ রোপন পরিচর্যা ও লালন পালন হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রায় প্রতি বসত বাড়ীতে চোখে পড়ে অধিকাংশ হারে।

এ ছাড়াও সৌখিন বাগান মালিকগণ তাদের বাগানে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বাগানে ও বাসা-বাড়ীতে শিউলি ফুল গাছ রোপন করে থাকেন। শিউলি ছোট আকারের বৃক্ষজাতীয় আকর্ষনীয় ফুল গাছ।

গাছের শাখা-প্রশাখা ও কান্ড মাঝারি শক্ত মানের। উঁচু থেকে মাঝারি উঁচু ভূমি ও প্রায় সব ধরনের মাটি এবং রৌদ্রউজ্জল স্থানে এ ফুল গাছ ভাল জন্মে।

শাখা-প্রশাখা অগ্রভাগে ফুল ধরে। পাতার রঙ সুবুজ, মধ্যশিরা স্পষ্ট, অগ্রভাগ সূচালো। পাতার অন্যরকম বৈশিষ্ট হলো কচিপাতার কিনারা খাজ কাটা থাকে, তবে পরিপূর্ণ বয়সের পাতায় খাজ থাকেনা।

শিউলি মূলত শরৎ ঋতুর ফুল। তবে বছরের অন্য ঋতুতেও কম পরিমাণে গাছে ফুল ফুটতে দেখা যায়। ফুল ছোট, গন্ধ যুক্ত, পাপড়ি ছয়টি-নমনীয় কোমল, পাপড়ির রঙ সাদা হলেও বোটার অংশ কমলা রঙের এবং পাপড়ির সংযোগ স্থল বৃত্তাকার কমলা রঙে বিস্তৃত থাকে।

রাতের রাণী বলে খ্যাত শিউলি ফুল রাতের বেলা ফোটে এবং ভোর সকালে ঝরে পড়ে। ভোরে শিউলি গাছের তলা সাদা ফুলে ফুলে ভরে থাকে। গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা শিউলি ফুল দিয়ে মালা তৈরি করে থাকে। ফুল শেষে গাছে বীজ হয়,বীজ এবং ডাল কাটিং এর মাধ্যমে এর বংশ বিস্তার করা যায়।