রবীন্দ্রনাথ নাম দিয়েছেন মধুমঞ্জরী লতা

মধুমঞ্জরী ফুল নিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন-
“তব প্রাণে মোর ছিল যে প্রাণের প্রীতি,
ওর কিশলয় রূপ নেবে সেই স্মৃতি,
মধুর গন্ধে আভাসিবে নিতি নিতি,
সে মোর গোপন কথা।
অনেক কাহিনী যাবে যে সেদিন ভুলে,
স্মরণ চিত্ত যাবে উন্মুলে;
মোর দেওয়া নাম লেখা থাক ওর ফুলে, মধুমঞ্জরী লতা।”

মধুমঞ্জরী কাষ্ঠল, পত্রমোচী, আরোহী উদ্ভিদ। শান্তি নিকেতনে রবীন্দ্রনাথ নাম দেন মধুমঞ্জরী লতা। বৈজ্ঞনিক নাম : Quisqualisindica. এছাড়া বাংলায় হরগৌরী, মধুমালতী, লাল চামেলী নামেও এটি পরিচিত।

অনেকে ফুলটিকে মাধবী বলে ভুল করেন। মধুমঞ্জরীর পাতা একক, অখণ্ড, আয়তাকার- ভল্লাকার, ছয় থেকে নয় সেন্টিমিটার লম্বা, শিরা সামান্য রোমশ, বিন্যাস বিপ্রতীপ। দলনল প্রায় পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা, পাপড়ি পাঁচটি, ফুলের বোঁটা লম্বা। ডালের আগায় সন্ধ্যায় বড় বড় ঝুলন্ত থোকায় সুগন্ধি, সাদা ও লাল রঙের ফুল ফোটে। গোড়ার শিকড় থেকে চারা গজায়। সাধারণত কলমে চাষ হয়।

মধুমঞ্জরী প্রায় সারা দেশেই সহজলভ্য। তাজা ও বাসিফুলে রঙের ভিন্নতাও এ ফুলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাজা ফুলের রঙ সাদা, বাসি হলে লাল হয়। বাড়ির ফটক বা ঘরের ওপর বেশ জেঁকে বসে। শীতে পাতা কমে যায়। বছরে কয়েক দফা ফুল ফোটে। ঘন সবুজ পাতার মাঝখানে ঝুলন্ত সাদা-লাল ফুল সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

সন্ধ্যায় নতুন ফুল ফোটে আর হালকা সুবাস ছড়ায়। বসন্ত, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় প্রচুর ফুল ফোটে। ঢাকার শিশু একাডেমি, বলধা গার্ডেন ও রমনা পার্কে মধুমঞ্জরী রয়েছে। তবে মধুমঞ্জরীর আদি নিবাস মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া।