রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ

রফিকুল ইসলাম রফিক। তিনি বসুন্ধরা গ্রুপের পূর্বাঞ্চল পরিচালক (ল্যান্ড), রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান। একইসঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও। এর আগে তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকলেও এবার যৌন হররানির গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে। ঘটনাটা ২০১৫ সালের।

দেরিতে হলেও মুখ খুলেছেন সেই নারী, বুকভর্তি সাহস নিয়ে সরাসরি আঙুল তুলেছেন তার দিকে। সাহসী এই নারীর নাম মাকসুদা আখতার প্রিয়তি।

প্রিয়তিকে যারা চেনেন না, তাদের জ্ঞ্যাতার্থে জানিয়ে রাখি, আয়ারল্যান্ডে বসবাসরত এই প্রবাসী মডেল সেখানকার সাবেক মিজ আয়ারল্যান্ডের খেতাবজয়ী। ২০১৪ সালে ৭০০ প্রতিযোগীকে হারিয়ে ‘মিজ আয়ারল্যান্ড’ নির্বাচিত হয়েছিলেন বাংলাদেশের মেয়ে প্রিয়তি। শুধু বাংলাদেশ নয়, এশিয়া মহাদেশ থেকে এই প্রতিযোগিতায় একমাত্র প্রতিযোগী ছিলেন তিনি।

ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে প্রিয়তি জানিয়েছেন তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনার কথা। রফিকুল ইসলাম রফিককে ‘প্রচণ্ড ক্ষমতাশালী’ উল্লেখ করে প্রিয়তি লিখেছেন- এই লোকটি তার অফিসে হঠাৎ করে টেবিল থেকে উঠে এসে আমার জামার ভিতর হাত ঢুকিয়ে আমার বক্ষে চাপ দেয়, ২০১৫ সালের মে মাসে তাদের প্রোডাক্ট প্রমেক্স এর বিজ্ঞাপন এর পেমেন্ট আনতে গিয়ে (এই পেমেন্ট যদিও আমি পাইনি)। Syeda Jemrina Zaman Lopa আপু, আপনার নিশ্চই মনে আছে, আপনাকে রুম থেকে বের করে দিয়েছিল আমার সাথে প্রাইভেট কথা আছে এই কথা বলে। আর রুম থেকে বের হয়ে আমি আপনার কাছে কান্না করেছিলাম এই পিশাচের এই কর্মকাণ্ডে, মনে আছে আপু , নাকি অস্বীকার করবেন? Khaled Hossain Sujon, তোমার কি মনে আছে এই ঘটনার পর আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কান্না করেছিলাম এই অপমান সহ্য করতে না পেরে কিন্তু আমরা নিরুপায় ছিলাম তাদের ক্ষমতার কাছে। আমি কিন্তু তখন কারেন্ট মিস আয়ারল্যান্ড ছিলাম।

তিনি আরও লিখেছেন, বাংলাদেশে #Me_Too এর মুভমেন্ট কিভাবে হবে? এই লোককে নিয়ে কেউ কোন নিউজ করবে না, কারণ গনমাধ্যম তাদের ভয় পায়, সাংবাদিক দের চাকরি চলে যাবে। কারণ বেশীরভাগ টিভি চ্যানেল ও পত্রিকা তাদের হাতের মুঠোয়। কিভাবে খুলবে মেয়েরা মুখ? যেখানে জানবে তাদের কিছুই হবে না।

পরিচিয় দিয়ে প্রিয়তি আরও লিখেছেন, এই লোকটির নাম রফিকুল ইসলাম, রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান এবং বসুন্ধরা গ্রুপের ডান হাত। এই পোস্টের পর হয়তো আমার নামে মানহানির মামলা হবে, না হয় বলবে অসৎ উদ্দেশ্য আছে আমার ইত্যাদি ইত্যাদি। বাংলাদেশের মেয়েরা ততদিন মুখ খুলবে না, #মি_টু ও হবে না, ভারতের মতো যতদিন ওরা অনুভব করবে তাদের জন্য বাংলাদেশের গণমাধ্যম স্বাধীন এবং তাদের পাশে থাকবে সে যত উপরের মানুষ ই হোক না কেন। আমি শুধু এতটুকু বলতে চাই, পুরো ঘটনাটি লজ্জায় লিখতে পারিনি কারণ ঘটনা এর চেয়ে ভয়াবহ ছিল।