ভাইরাস জ্বরে করণীয়

ছবি: ইন্টারনেট

আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত হওয়া বিচিত্র কিছু নয়। জ্বর কমাতে অ্যান্টিবায়োটিক খেতেই পারেন। কিন্তু, এটাও মনে রাখা উচিত ঘন ঘন অ্যান্টিবায়োটিক স্বাস্থ্যের পক্ষে আদৌ ভালো নয়। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই প্রাকৃতিক দাওয়াইয়ে ভরসা রাখুন। তাতে ভাইরাস জ্বরও কমবে, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও থাকবে না।

জেনে নিন কিছু প্রাকৃতিক দাওয়াই-

ধনে বীজের চা:
ধনে বীজে নানা ধরনের ভিটামিন ছাড়াও আপনি পাবেন ফাইটোনিউট্রিয়েন্টস, যার কাজ হল শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা। এ ছাড়াও নানা অ্যান্টিবায়োটিক যৌগ ও উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন উদ্বায়ী তেলের উপস্থিতির কারণে ভাইরাস জ্বর কমাতে ধনে বীজ ভালো কাজ দেয়।

যেভাবে বানাবেন ধনের চা:
এক গেলাস জলে এক চামচ ধনে বীজ মিশিয়ে ভালো করে ফোটান। এর পর মিশ্রণটিকে কিছুটা ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে অল্প দুধ ও চিনি মিশিয়ে ভাইরাল জ্বর আক্রান্ত ব্যক্তিকে চায়ের মতো করে খেতে দিন। দিনে কয়েক বার এই ধনে-চা খেলে ভাইরাল জ্বর কমবে।

ভাইরাস জ্বরে তুলসী পাতা:
ভাইরাস জ্বরে তুলসীপাতা অত্যন্ত কার্যকরী প্রাকৃতিক দাওয়াই। তার কারণ এই তুলসী পাতায় রয়েছে নানা-অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। অ্যান্টিবায়োটিক ছাড়াও জার্মিডিক্যাল ও ফাংগিসিডালের উপস্থিতির কারণে ভাইরাস জ্বরে তুলসী পাতার জুরি নেই।

যেভাবে খাবেন তুলসী পাতা-
গোটা কুড়ি তাজা তুলসীপাতা জোগাড় করে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। এক লিটার পানীয় জলে তুলসী পাতাগুলো দিয়ে হাফ চামচ লবঙ্গগুঁড়ো মেশান। এ বার এই মিশ্রণটিকে ফোটাতে হবে। এক লিটার জল কমে হাফ লিটার হয়ে এলে, আঁচ থেকে নামিয়ে নিন। জ্বর অবস্থায় দু-ঘণ্টা ছাড়া ছাড়া এই মিশ্রণটি এককাপ করে খান। উপকার পাবেন।

ভাইরাস জ্বরে শুকনো আদাও উপকারী:
স্বাস্থ্যের গুণাগুণের বিচারে আদাকে বলা হয় ‘পাওয়ারহাউস’। অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসেবে কাজ করে। প্রদাহ ও বেদনানাশক গুণও রয়েছে আদায়। দেখা গিয়েছে ভাইরাল জ্বর আদা কমাতেও ভালো কাজ দেয়। আয়ুর্বেদশাস্ত্রে মধুর সঙ্গে আদা মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ রয়েছে।

যেভাবে বানাবেন-
দুটো মাঝারি মাপের শুকনো আদার টুকরো কুচিয়ে এককাপ জলে দিন। মিশ্রণটি ফুটিয়ে নিয়ে ঠান্ডা হতে দিন। ঠান্ডা হলে ছেঁকে নিন। দিনে তিন থেকে চার বার এই মিশ্রণটি খেলে ভাইরাল জ্বরে উপকার পাবেন।