বেশি নয়, কম উপার্জনেই সুখী হওয়া যায়

বেশি আয় হয়তো একজনের জীবনযাপন কিংবা স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে পারে কিন্তু এটা কারও জীবনের সুখ কিনতে পারে না। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা একটু বেশি উপার্জন করেন তাদের মধ্যে অহংকার করার এবং স্বার্থপর হওয়ার মানসিকতা দেখা দেয়। অন্যদিকে যাদের আয় তুলনামুলকভাবে কম তাদের মধ্যে সহমর্মী হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের দি ইমোশন জার্নালে সম্প্রতি এই সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রকাশিত ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ক্যালিফোর্ণিয়া ইউভার্সিটির গবেষক দল দেড় হাজারের বেশি মানুষের ওপর একটি জরিপ চালান। সেখানে তারা মানব জাতির সাতটি অনুভূতি যেমন- পরিতৃপ্তি, আতঙ্ক, করুণা, সন্তৃষ্টি, উদ্যম, ভালবাসা এবং গর্ব এই বিষয়গুলো নিয়ে অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করেন। তাদের উত্তরের ফলাফলের ভিত্তিতে গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান, বেশি আয় করলেই সুখী হওয়া যায় না।

গবেষণা বলছে, যারা বেশি টাকা উপার্জন করে তারা তাদের জীবনযাপন পদ্ধতি উন্নতির কারণে খুশি থাকেন। কিন্তু তাদের জীবনে তখন টাকাই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। কোন আয়েই তখন তারা সন্তুষ্ট হতে পারেন না। আরও বেশি পরিমাণ টাকার পেছনে ছোটেন। তাদের জীবনটা আবর্তিত হয় নিজেকে নিয়েই।

অন্যদিকে তুলনামূলকভাবে কম উপার্জনকারীরা অন্যদের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের মধ্যে সুখ খুঁজে নেন। পাশাপাশি অন্যদের প্রতি অনেক বেশি সমব্যথী ও সহমর্মীতা দেখান।

গবেষক দলের একজন ক্যালিফোর্ণিয়া ইউনিভার্সিটির গবেষক পল পিফ বলেন,এতে এটাই প্রমাণিত হচ্ছে, সম্পদের সঙ্গে সুখ সম্পৃক্ত নয়।তিনি আরও বলেন,যারা সম্পদশালী তারা হয়তো তাদের সামাজিক মর্যাদা এবং ব্যক্তিগত সাফল্য নিয়ে খুশি থাকেন কিন্তু কম উপার্জনকারীরা অন্যদের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক, যোগাযোগ কিংবা অন্যের প্রতি নিজের দায়িত্বশীলতা নিয়ে সুখী থাকেন।