বসন্তে ফোটে নীলমণি

নীলমণি লতানো বা ঝোপালো হয়। পাতা উপবৃত্তাকার, খসখসে, হালকা সবুজ, কখনো কখনো শিরা বরাবর ঢেউ খেলানো। পাতা ছয় থেকে একুশ সেন্টিমিটার লম্বা এবং এগারো সেন্টিমিটার চওড়া। ফুল ফোটে বসন্তে। মঞ্জরীদণ্ড তিন থেকে চার ইঞ্চি লম্বা এবং গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত অনেকগুলো ফুল হয়।

প্রত্যেক পাতার কক্ষ থেকে মঞ্জরীদণ্ড বের হয় এবং পুরো লতাটি ফুলে ফুলে ভরে যায়। ফুলে পাঁচটি পাপড়ি থাকে। বৃতি পাঁচটি। পাপড়ির চেয়ে বৃতির আকার বড়। বৃতি নীল রঙের। নীলমণি লতা নামটি রবি ঠাকুরের দেওয়া। শান্তিনিকেতনে এই ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রবীন্দ্রনাথ এই নাম দিয়েছিলেন।

উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Petrea volubilis, গোত্রের নাম Verbenaceae। ঢাকায় বলধা গার্ডেন, মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলের সামনে এবং ময়মনসিংহে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে উদ্ভিদটি আমি দেখেছি। নাটোরে উত্তরা গণভবনের মধ্যেও একটা ঝোপ আছে। এই উদ্ভিদ রোদ খুব পছন্দ করে। আদি নিবাস মধ্য আমেরিকা।

বীজ থেকে গাছ হয় তবে গুটি কলম বা শাখা কলম দ্বারা চারা তৈরি করা ভালো। পৌরাণিক যুগের তপোবনে নীলমণি লতা ছিল বলে জানা যায়।