পৃথিবীর সবেচয়ে বড় ফুল

পৃথিবীর সবেচয়ে বড় ফুল মৃতফুল বা কর্পস ফ্লাওয়ার। পরিবার হলো Rafflesiaceae। এর বৈজ্ঞানিক নাম Rafflesia arnoldii। এখন পর্যন্ত যে ফুলটি পৃথিবীর সবচেয়ে বৃহত্তম বলে বিবেচিত হয়ে আসছে তা সুদূর সুমাত্রার এক জঙ্গলে ১৮১৮ খিস্টাব্দে আবিষ্কৃত হয়।

সুমাত্রার তত্কালীন বড়লাট স্যার স্ট্যামফোর্ড র্যাফলস একদা সদলবলে বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। সঙ্গে ছিলেনড. জোসেফ আর্নল্ড নামে বিখ্যাত প্রাণিতত্ত্ববিদ। তারা হাঁটতে হাঁটতে বেনকুলেন নামক এক জায়গায় এসে পড়েন। সেখানে প্রকাণ্ড এক গাছের গোড়ায় অদ্ভুত রকম বড়ো এক ফুল দেখে তারা অবাক হয়ে যান।

সভ্য সমাজের কোনো মানুষই তখন পর্যন্ত এতো বড়ো ফুল দেখেনি।

ফুলের নাম কর্পস ফ্লাওয়ার বা মৃতফুল। ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও ও সুমাত্রাদ্বীপ ছাড়া এদের পৃথিবীর আর কোথাও দেখা যায় না। এর বৈজ্ঞানিক নাম রাফলেশিয়া আরনোলিডি (Rafflesia Arnoldii). এটি Rafflesiaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত।

এটি ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ফুল। এর এক একটি ফুলের ওজন ১১ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে । মজার ব্যাপার হলো, র্যাফলেসিয়ানিজেই ফুল, নিজেই গাছ। গাছ বলতে এর বিশেষ কিছু নেই। গোটা গাছটা দেখতে মোটা সুতার মতো। বন-জঙ্গলে মাটিতে বা অন্য কোনো গাছে হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো মূল, কাণ্ড, পাতাবিহীন টকটকে লালের ওপর সাদা ছিট দেওয়া এই ফুলটি মূলত পরজীবী। পাতা না থাকায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। অন্য কোনো গাছের শেকড়ের ওপর এর বীজ অঙ্কুরিত হয়।

এ ফুলের সাধারণত মোটা মোটা পাঁচটি পাপড়ি থাকে। ফুলের ব্যাস দেড় থেকে তিন ফুট পর্যন্ত হয়। কর্পস ফ্লাওয়ারের সৌন্দর্য ফুলপ্রেমীদের মুগ্ধ করলেও এর গন্ধ মানুষকে কোনোভাবেই আকৃষ্ট করে না। কাছে গেলে ফুলটি থেকে পচা মাংসের দুর্গন্ধ আসে। এ কারণেই অনেকে কর্পস ফ্লাওয়ারকে ‘মৃতফুল’ বলে অভিহিত করে। মানুষের কাছে কর্পস ফ্লাওয়ারের গন্ধ দুর্গন্ধ মনে হলেও কীটপতঙ্গের কাছে এটি সুগন্ধি ফুল। ফলে নানা প্রজাতির কীটপতঙ্গ উড়ে এসে ফুলে বসে। ঘটায় পরাগায়ন।জন্ম নেয় নতুন বীজের। এভাবেই ফুলটি টিকে আছে বহুকাল ধরে।