নানা রোগের ওষুধ নয়নতারা

নয়নতারা ফুল গাছটি কেবল বাগানের শোভা বর্ধনের জন্যই হয়তো লাগিয়েছেন। কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবেছেন এটি আয়ুবের্দিক ও ইউনানী চিকিৎসায় একটি উত্তম ঔষধি গাছ?

এতে সক্রিয় উপাদান হচ্ছে অ্যালকালয়েড ও ট্যানিনস। গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে – Catharanthus roseus. ইংরেজিতে বলে Vinca.

গাছটির অবাক করার মত কিছু উপকারিতা:

রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায়
নয়নতারা রক্তে শর্করার পরিমাণ কমায়। দক্ষিণ আফ্রিকায় নয়নতারা গাছ ডায়াবেটিস এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। বোলতা হুল ফোটালে নয়নতারার পাতার রস ব্যবহার করলে জ্বালা-পোড়া থেমে যায়!

অতিরজঃস্রাব প্রতিরোধকারী
নয়নতারা গাছের মূল পেটের টনিক হিসেবে কাজ করে। এর পাতার নির্যাস মেনোরেজিয়া (Menorrhagia) বা অতিরজঃস্রাবের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

নাক ও মুখ থেকে রক্ত ঝরলে
নয়নতারার ভেষজ গুণ সপ্তম শতাব্দীতে ব্রিটেনের চিকিৎসা শাস্ত্রে পাওয়া যায়। কল্পচার নামক এক ব্রিটিশ ঔষধ বিশেষজ্ঞ নাক ও মুখ দিয়ে রক্তপাত হলে এই গাছ ব্যবহারের পরামর্শ দিতেন। স্ক্যার্ভি, উদরাময়, গলাব্যথা, টনসিলের প্রদাহ, রক্তশূণ্যতা ইত্যাদিতে এটি খুবই উপকারি।

ডিপথেরিয়া রোগের চিকিৎসা
নয়নতারার পাতায় ভিনডোলিন নামক ক্ষার থাকে। এই ক্ষার ডিপথেরিয়া জীবাণুর (Corynebacterium diptherae) বিরুদ্ধে সক্রিয়। তাই ডিপথেরিয়ার ঔষধ তৈরিতে এই পাতা ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও এর মূল সর্প, বিচ্ছু ইত্যাদির বিষনাশক তৈরিতেও ব্যবহৃত হয়!

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া:
নয়নতারার কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া রয়েছে। এর দ্বারা তৈরিকৃত ঔষধের কারণে বমি বা বমি বমি ভাব, মাথা ব্যথা, রক্ত ঝরা, অবসাদ ইত্যাদি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এটি কিডনী ও স্নায়ুতন্ত্রের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্যও ক্ষতিকর। তাছাড়াও এটি তৃণভোজী প্রাণীদের জন্য বিষাক্ত বলেও জানা যায়। তাই এর নির্যাস তৈরির পূর্বে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে।