দুষ্প্রাপ্য ফুল হিমঝুরি

আট-নয় বছর আগের কথা। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক শহরের সুকুম্ভিত সয় এগারোতে আমার অফিস। অফিসের একশ’ গজ দূরেই প্রেসিডেন্ট সলিটেয়ার নামের একটি বহুতল আবাসিক হোটেল। গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকলেই টালি দেয়া ঘেরের মধ্যে নিম গাছ সদৃশ একটি মাঝারি আকারের গাছ চোখে পড়ে। গাছটি দুধসাদা ফুলে ফুলে ছাওয়া।

অফিস কলিগ মেকির কাছ থেকে জানতে পারি- ফুলটিকে থাইল্যান্ডের স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘পিপ্’। বাংলাদেশে ফিরে ওই গাছের খোঁজ শুরু করি। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ওয়ারি খ্রিস্টান কবরস্থানে একটি গাছ পাই। বাংলাতে গাছটিকে বলা হয় আকাশ নিম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ফুলের রূপে-গন্ধে এতটাই বিমোহিত হয়েছিলেন যে, ভালোবেসে নাম দিয়েছিলেন ‘হিমঝুরি’। হিমঝুরির আদি নিবাস মিয়ানমার।

বাংলাদেশে হেমন্ত থেকে শীতের পুরোটাই হিমঝুরি ফুল ফুটতে দেখা যায়। সাদা সুগন্ধি এ ফুল রাতে ফোটে। ভোরের আলো দেখার আগেই মাটিতে ঝরে পড়ে শিউলি ফুলের মতো। উঁচু চিরসবুজ হিমঝুরি গাছের পাতা ডিম্বাকার, বড় ও যৌগিক, ২ থেকে ৩ ইঞ্চি লম্বা হয়। বিজোড় পক্ষ। কচি থাকতে রোমশ, ফুল দুধসাদা, নলাকার, প্রায় ৪ ইঞ্চি লম্বা, মুখ ১ ইঞ্চি চওড়া, ৫ খণ্ড, বৃতি খুব ছোট, ফুল ঘণ্টাকার, পাপড়ি ও পুংকেশর ৫টি করে, দল বহির্মুখী, পরাগ দণ্ড সাদা বা হলুদ হয়, গর্ভকেশর যুক্ত, ফল এক ফুটের মতো লম্বা। বীজ সূক্ষ্ম, স্বচ্ছ ও উড়ুক্কু।

বাংলাদেশে হিমঝুরি দুষ্প্রাপ্য ফুল। তবে ঢাকার ওয়ারির খ্রিস্টান কবরস্থানের ভেতর একটি, ধানমণ্ডি ছায়ানট ভবনের সামনে রাস্তার পাশে একটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান গ্রন্থাগারের সামনে একটি, শিশু একাডেমির বাগানে একটি এবং কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের সামনে একটি চারা রোপণ করেছেন।

হিমঝুরি ফুলের গাছ আমাদের উপমহাদেশে প্রায় দুইশ’ বছর আগে এসেছে। এর ইংরেজি নাম Indian cork tree. বৈজ্ঞানিক নাম Millingtonia hortensis. এটি Bignoniaceae পরিবারের উদ্ভিদ। ইংরেজ উদ্ভিদবিদ ও ইংল্যান্ডের রাজবৈদ্য স্যার টমাস মিলিংটনের নামানুসারে এই গাছের নামকরণ করা হয়েছে।