থরে থরে সাজিয়ে রাখা সোনাইল

সোনাইল পূর্ব ভারতের নিজস্ব প্রজাতির উদ্ভিদ। গাছ ২০-৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। ছাল পুরু, মসৃণ। পাতা অনেকটা জামপাতার মতো, তবে ডগার দিকে সরু।

ফাল্গুনের শুরু থেকেই পাতা ঝরতে থাকে। চৈত্রে পত্রহীন গাছকে মনে হয় শুকনো কাঠ। তারপর সেই শ্রীহীন শাখাগুলো যখন গ্রীষ্মের শুরু থেকেই ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়, তখন সোনাইলের সেই সৌন্দর্যের তুলনা নেই। পাপড়ি পাঁচটি। পুংকেশর ১০টি। ভেতরে সবুজ রঙের তিনটি গর্ভকেশর। এগুলো কাস্তের মতো বাঁকা। কানের দুলের মতো দেখায়। শাখা থেকে ফুলে ফুলে ভরা লম্বা মঞ্জরিগুলো নিচের দিকে ঝুলে পড়ে। দুলতে থাকে হাওয়ায় হাওয়ায়।

উদ্ভিদবিজ্ঞানী দ্বিজেন শর্মা তাঁর শ্যামলী নিসর্গতে বলেছেন, নামটি এসেছে গ্রিক ভাষা থেকে। ফিস্টুলা শব্দের অর্থ বাঁশি। সোনাইলের বাঁশির মতো লম্বা ফলের জন্যই এই নাম। তবে আমাদের দেশে এই ফলের জন্য লোকমুখে সোনাইল বা সোনালুর নাম হয়েছে ‘বানরলাঠি’।

ফলগুলো এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়। ব্যাস দেড় থেকে দুই ইঞ্চি। ফুল ঝরে গেলে সবুজ পাতার মধ্যে এই ফলগুলো লাঠির মতোই ঝুলতে থাকে। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে রং হয় কালচে লাল। বানরলাঠি নাম হওয়ার আরও একটি কারণ, এই ফল এবং গাছের পাতা বানরের প্রিয় খাদ্য।

ঢাকাতে সোনাইলের দেখা মেলে। ওসমানী মিলনায়তনের সামনে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যলয়ের কার্জন হলের সামনে, সংসদ ভবনের পূর্বপাশে সোনাইলের বেশ কিছু গাছের সারি আছে। গাছ খুব বড় নয় বলে বাড়ির উঠানের কোণে বা বাগানে লাগানোর উপযোগী।

প্রাচীনকাল থেকেই সোনাইলের ছাল, পাতা ও ফলের মজ্জা চিকিৎসায় ব্যবহূত হয়ে আসছে। ডিপথেরিয়া, গণ্ডমালা, কুষ্ঠরোগের ক্ষত, উপদংশ চিকিৎসায় কার্যকর। ফলের মজ্জা কোষ্ঠকাঠিন্য, হজমের সমস্যায় উপকারী। আমাদের নিজস্ব এই গাছ একটা সময় প্রচুর ছিল সারা দেশে, এখন প্রায় বিপন্ন তার অস্তিত্ব।