গরুর মাংসের সুফল ও কুফল

গরুর মাংস পুষ্টি উপাদানে ভরপুর একটি খাবার। গরুর মাংসে পুষ্টি উপাদান বেশি হওয়ায় অতিরিক্ত খেলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই গরুর মাংস গ্রহণের ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ বজায় রাখা অনেক জরুরি। চলুন জেনে নেই গরুর মাংস খাওয়ার সুফল ও কুফল উভয় সম্পর্কেই…

উপকারিতা বা সুফল-
গরুর এক টুকরা মাংস থেকে পাওয়া যায় একগুচ্ছ পুষ্টি উপাদান, যার মধ্যে অন্যতম হল:

(১) প্রোটিন: যা মাংসপেশিকে শক্তিশালী ও মজবুত করতে সাহায্য করে।

(২) জিংক: যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

(৩) ফসফরাস: যা মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য জরুরি।

(৪) আয়রন: যা রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ এবং শরীরের সব কোষে অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে। এ ছাড়া গরুর মাংসের মধ্যে প্রাপ্ত বি১২, বি৬ এবং বিরোফ্রাবিন শরীরে শক্তি সরবরাহে সাহায্য করে।

কুফল-
সুফলের পাশাপাশি এর কিছু কুফলও রয়েছে, তা গলো:

(১) গরুর মাংসে রয়েছে কোলেস্টেরল, সোডিয়াম ও ফ্যাট, যা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মতো বেশি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

(২) বিশেষ করে গরুর মাংসের ঝোল বা স্টক থেকে প্রচুর সম্পৃক্ত চর্বি পাওয়া যায়, যা রক্তনালিতে জমে এথেরোসক্লেরসিস ঘটাতে পারে। যা থেকে পরবর্তীকালে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে।

(৩) গরুর মাংসের অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টিতে বা বাড়াতে সোডিয়াম সাহায্য করে। তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস ঘন ঘন খেলে উচ্চরক্তচাপ হতে পারে, যা হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

(৪) অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

(৫) তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে তা থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।